প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৫:৪৫ পিএম (ভিজিট : ৭০৬)

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে বারবার কলংকিত করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি করা হয়েছে বিএনপিপন্থী সংগঠন জাতীয়তাবাদী তরুণ দলের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদকে। এছাড়া রাজকারের নাতি আফসানুল ইসলাম খান রাফিকে করা হয়েছে সাধারণ সম্পাদক।
যোগ্য ও ত্যাগী ছাত্রলীগের নেতাকর্মী থাকলেও বিতর্কিত শামীম ও রাফিকে ভালুকা উপজেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসাবে নির্বাচন করেছেন ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আল আমিন এবং সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির।
১৯ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত ৩১ সদস্যের আংশিক কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। যেখানে বিএনপিপন্থী শামীম আহমেদকে সভাপতি এবং রাজাকারের নাতি শামীম আফসানুল ইসলাম খান রাফিকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
এদিকে, ভালুকা উপজেলার একাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা লিখিতভাবে জানিয়েছেন আফসানুল ইসলাম খান রাফির দাদা মৃত মোলায়েম খান (মুলু খান) চিহ্নিত রাজাকার। ভালুকা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ও সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের নির্বাহী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল হোসেন খান মিলন, সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নাজিম উদ্দিন মণ্ডল , কমান্ডার ও সাবেক সেনা সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আশরাফ আলী , ভালুকা মুক্তিযোদ্ধা ও পরিবার পূর্ণবাসন সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিন উল্লাহ খান লিখিতভাবে নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভিডিওবার্তার মাধ্যমেও আফসানুল ইসলাম খান রাফির দাদা যে রাজাকার ছিল তা জানিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধারা তাকে মোলায়েম খানকে ফারায়িং স্কোয়াডেও নিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেন।
মুক্তিযোদ্ধাদের লিখিত বক্তব্য এবং ভিডিওবার্তাগুলো ভোরের পাতার হাতে সংরক্ষিত রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে বয়সোর্ত্তীণ শামীম আহমেদ ও আফসানুল ইসলাম খান রাফি ভালুকা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ক্ষেত্রে অনৈতিক লেনদেন হয়েছে।
এদিকে, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন; দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে কোনো কমিটি করা বা বিলুপ্ত করার অঘোষিত নিয়ম থাকলেও তা মানেনি ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আল আমিন এবং সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবীর। এর আগেও ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের ১১ টি ইউনিটে বিতর্কিত কমিটি করার অপরাধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আল আমিনকে ফোন করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবীর বলেছেন, বিষয়টা নিয়ে জেলা সভাপতির সাথে কথা বলেন।
তবে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান বলেছেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগে বিতর্কিতদের কোনো ঠাঁই হবে না। বিষয়টা নিয়ে আমরা অবশ্যই তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিবো।