
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আদিনা ফজলুল হক সরকারি কলেজে তীব্র শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর এ কলেজে শিক্ষকের ৪২টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ২১টিই শূন্য। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, রসায়ন, দর্শন ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগে একজনও স্থায়ী শিক্ষক নেই। ফলে নিয়মিত ক্লাস ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
কলেজটিতে উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বাংলা, ইংরেজি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, অর্থনীতি, গণিত, উদ্ভিদবিদ্যা, প্রাণিবিদ্যা, রসায়ন, দর্শন ও আইসিটিসহ বিভিন্ন বিষয়ে পাঠদান হয়। তবে একাধিক বিভাগে শিক্ষক না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. সৈয়দ মোঃ মোজাহারুল ইসলামবলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো সংকট কাটেনি। শিক্ষকসংকটের কারণে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
সম্প্রতি রসায়ন বিভাগের তিন শিক্ষকের বদলির পর বিভাগটিতে কোনো স্থায়ী শিক্ষক নেই। বর্তমানে উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রি (পাস) কোর্সে একজন খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চলছে। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সোহেল রানা বলেন, রসায়নে নিয়মিত শিক্ষক না থাকায় পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ছেন তারা।
একই অবস্থা দর্শন বিভাগেও। ২০২৪ সালের শেষ দিকে শেষ স্থায়ী শিক্ষক বদলি হওয়ার পর থেকে অতিথি শিক্ষক দিয়ে ক্লাস চলছে। বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মামুনুর রশিদ বলেন, প্রথম বর্ষ থেকেই অধিকাংশ ক্লাস অতিথি শিক্ষক নিয়েছেন। এতে নিয়মিত পাঠদান ও যোগাযোগে সমস্যা হচ্ছে।
দর্শন বিভাগের অতিথি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, কলেজের অবস্থান থেকে তাঁর বাসা প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে। সপ্তাহে কয়েক দিন এসে ক্লাস নিলেও সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
আইসিটি বিভাগেও কোনো শিক্ষক নেই। অথচ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় বিষয়টি বাধ্যতামূলক হওয়ায় শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে।
শুধু শিক্ষক নয়, প্রশাসনিক ও সহায়ক কর্মচারীর সংকটও রয়েছে কলেজটিতে। হিসাবরক্ষক, অফিস সহকারী, ক্যাশিয়ার, স্টোরকিপার, গ্রন্থাগারিক, ল্যাব সহকারীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। নতুন ভবনে গ্রন্থাগারের জন্য জায়গা থাকলেও গ্রন্থাগারিক না থাকায় সেটি চালু করা যায়নি। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকটও রয়েছে; প্রয়োজনের তুলনায় মাত্র একজন কর্মী দিয়ে পুরো ক্যাম্পাসের কাজ চলছে।
উল্লেখ্য ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত আদিনা ফজলুল হক সরকারি কলেজটি ২০১৮ সালে সরকারিকরণ করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে সরকারি করা হলেও দীর্ঘদিনেও প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও জনবল নিয়োগ না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হলে হাজারো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের অনিশ্চয়তা দূর হবে বলে মনে করছেন তারা।