প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ৩:০১ পিএম (ভিজিট : ৪৯)

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদের হার বাড়ানোর ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানেই থাকতে পারে এমন আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। ফলে সাপ্তাহিক হিসাবেও এ মূল্যবান ধাতুর দরপতন হতে যাচ্ছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২:০১ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ১১৫ দশমিক ৭৯ ডলারে নেমে আসে। সব মিলিয়ে সাপ্তাহিক হিসাবে এ দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমার পথে রয়েছে। এদিকে আগামী আগস্টে সরবরাহের চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটেও স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১২৪ দশমিক ৯০ ডলার হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পালটাপালটি হামলার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সাপ্তাহিক হিসেবে বৃদ্ধির পথে রয়েছে। ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর বৃহস্পতিবার উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। এই সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে এবং চলতি বছর ফেডের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে জোরালো করেছে।
সিএমই-এর ফেডওয়াচ টুলের তথ্যমতে, আগামী সেপ্টেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বর্তমানে ৬৩ শতাংশ বলে মনে করছে বাজার, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল প্রায় ৫৪ শতাংশ।
সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণকে বিবেচনা করা হলেও, সুদের হার বেশি থাকলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে এর আকর্ষণ অনেকটাই কমে যায়।
বিশ্লেষক ওয়াটারার আরও বলেন, তেলের দাম বর্তমান স্তরের কাছাকাছি থাকলে স্বর্ণের দাম সাময়িক কমলেও তা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করবে বলে আমার ধারণা। তবে তেলের দামে বড় ধরনের কোনো উল্লম্ফন ঘটলে তা পুনরায় মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা উসকে দিতে পারে, যা স্বর্ণের বাজারের জন্য ক্ষতিকর হবে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রকাশিত ফেডের জুনের নীতি-নির্ধারণী সভার কার্যবিবরণীতে দেখা গেছে, ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি নিয়ে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর মুদ্রানীতির প্রত্যাশা ও শক্তিশালী ডলারের কারণ দেখিয়ে বৃহস্পতিবার বৈশ্বিক ব্যাংক এইচএসবিসি ২০২৬ ও ২০২৭ সালের জন্য স্বর্ণের গড় দামের পূর্বাভাস কমিয়েছে।
বিপরীতে, স্পট মার্কেটে অন্যান্য ধাতুর দাম কিছুটা বেড়েছে। রুপার দাম আউন্সপ্রতি শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৬০ দশমিক ১৯ ডলার, প্ল্যাটিনামের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৩২ দশমিক ৯৯ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৭০ দশমিক ৫৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে এই সামান্য বৃদ্ধির পরও তিনটি ধাতুই সাপ্তাহিক দরপতনের পথে রয়েছে।