প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৮:৫০ পিএম (ভিজিট : ৩৬)

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, সদর ও নাচোল উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় তিন নারীসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঝড়-বৃষ্টির সময় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন, সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আতাহার এলাকার মো. রাব্বিলের ছেলে আব্দুল্লাহ (১৭), শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের চকনরেন্দ্র গ্রামের আব্দুর রবের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার (১৯), রানীবাজার এলাকার আবুল কাশেমের মেয়ে সাদিয়া খাতুন (১৬), মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর দক্ষিণপাড়ার ফিটু আলীর ছেলে মো. মেসবাউল (১৪), নাচোল উপজেলার লাহাবাড়ি গ্রামের সুমিয়ারা বেগম (৪১) এবং গোসাইপুর গ্রামের মো. শাফিউলের ছেলে হাসান আলি লালু (২১)।
শিবগঞ্জ থানার ওসি মতিউর রহমান জানান, উপজেলার মাহমুদা আক্তার (১৯), সাদিয়া খাতুন (১৬) ও মেসবাউল (১৪) নিজ নিজ বাড়ির সংলগ্ন আমবাগানে বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন। ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে আম কুড়াতে গিয়ে তারা বজ্রাঘাতের শিকার হন।
শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, নিহত তিন পরিবারের প্রত্যেককে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি একরামুল হোসাইন বলেন, আতাহার এলাকায় বৃষ্টির মধ্যে মাঠ থেকে গরু আনতে গেলে আব্দুল্লাহ (১৭) বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গরুটিও মারা যায়।
নাচোল থানার ওসি সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, উপজেলার লাহাবাড়ি এলাকায় মাঠে ঘাস কেটে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে সুমিয়ারা বেগম (৪১) মারা যান। এছাড়া বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার গোসাইপুর এলাকায় বজ্রপাতে হাসান আলি লালু (২১) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি গোসাইপুর গ্রামের মো. শাফিউলের ছেলে।
একদিনে জেলার তিন উপজেলায় বজ্রপাতে ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং মৃত পরিবার কে ২৫ হাজার টাকা দেয়া হবে বলে জানান।