
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সংঘবদ্ধ হামলা,লুটপাট, ভাঙচুর ও জোরপূর্বক দখলের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।ঘটনার ১ সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও এখনো দখলমুক্ত হয়নি ২টি দোকান।
উল্টো খয়েরপুকুর হাটের অন্তত দুটি দোকানে ঝুলছে একাধিক তালা।এতে ব্যবসা কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে গেছে এবং ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন পার করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে ১০-১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্রসহ দোকানে ঢুকে তাণ্ডব চালায়।তারা ক্যাশ ভেঙে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লুট করে এবং দোকানে থাকা মালামাল নিয়ে যায়। পাশাপাশি দোকানের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,বাধা দিতে গেলে দোকানের ব্যবস্থাপককে মারধর করা হয় এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।পরে অভিযুক্তরা দোকানে নিজেদের তালা লাগিয়ে রেখে যায় যা কার্যত দখলের শামিল।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এখনো দোকান ২টির শাটারে একাধিক তালা ঝুলছে।এতে ব্যবসা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মালিকপক্ষ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩ হাজার টাকা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।পাশাপাশি দোকানে রক্ষিত ফিড এবং ডিম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা আরো জানান,তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।যেহেতু থানায় অভিযোগ করা হয়েছে তাই বিষয়টির প্রশাসনের মাধ্যমে সমাধান চান।
কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ওই দোকান ২টি দখলমুক্ত না হওয়া এবং অভিযুক্তদের হুমকি অব্যাহত থাকায় তারা চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বললে তারা জানান,ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আমাদেরকে এখনো লিখিতভাবে কিছুই জানান নি।তিনি আসুক বসুক তারপরে আমরা সমাধান করব।
স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানের মালিক অতীতে একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় পর্যায়ে কেয়ারটেকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।তবে এ ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক কোনো প্রভাব রয়েছে কি না,তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এ ঘটনায় পার্বতীপুর মডেল থানায় দণ্ডবিধির ৪৪৮,৩৮০, ৪২৭,৫০৬ ও ৩৪ ধারায় মামলা দায়েরের আবেদন করা হয়েছে।
দোকান মালিক রওশন কবির জানান,সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে খয়েরপুকুর হাটের পার্শ্ববর্তী পূর্ব হোসেনপুর(নয়ন পাড়ার)ছাবলুর রহমানের কন্যা তনজুফা খাতুনকে গত ৮-১২-২৫ তারিখে তৃতীয় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করি।বিয়ের পর বনি বনা না হলে অবশেষে ১৫-৪-২৬ তারিখে চট্টগ্রাম আদালতে তাকে তালাক দেই।এই তালাকের কাগজ হাতে পাওয়ার পর তারা হিংস্র হয়ে যায়।এরপর তারা একের পর এক ঘটনা ঘটিয়েই যাচ্ছে।
অন্যদিকে,মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, “সরেজমিনে গিয়ে দোকানে তালা দেয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে।যারা এ কাজ করেছেন,তাদের সতর্ক করা হয়েছে।আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার সুযোগ নেই।তালা খুলে দিতে হবে।”