
মাধবী, ১২ ফেব্রুয়ারি ‘২৬ তারিখে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ১৩ ফেব্রুয়ারি ‘২৬ এর রাতে শৈলকুপা থেকে ঢাকা আসতে হয়েছিল জরুরী কাজে। তারপর ১৭ ফেব্রুয়ারি এমপি-মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এলাকায় যাওয়ার ফুরসৎ হয়নি রাষ্ট্রীয় ব্যাস্ততার কারণে। আজ যাচ্ছি, আজ আমার ভালোবাসার মানুষদের কাছে ফিরছি তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা নিতে। এই যাত্রা একদিকে যেমন আনন্দের, উচ্ছ্বাসের, অন্যদিকে তেমনই শংকার, সতর্কতার-সাবধানতার। গতকাল রাত থেকে ১৮৫৫ সালে প্রখ্যাত ইংরেজ কবি রবার্ট ব্রাউনিং এর লেখা ‘দি প্যাট্রিয়ট’ কবিতাটি মনে পড়ছে। Robert Browning এর শক্তিশালী নাটকীয় স্বগোতক্তি বা Dramatic Monologue টি অনেক তাৎপর্যপূর্ণ! দেড়শ’ বছরের বেশী সময় আগে লেখা কবিতাটি এখনো শ্বাশতঃ, এখনো প্রাসঙ্গিক বলে আমি বিশ্বাস করি। কবিতাটিতে একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদের প্রতি জনগনের আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা, আবেগ, উচ্ছ্বাস এবং একবছরের মাথায় ঘৃণার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এখানে সাধারণ মানুষের আবেগের স্থিতি ও প্যারামিটারের স্থায়িত্ব ফুটে উঠেছে। কবিতাটি Triumph and tragedy’র টেক্সটবুক এক্সামপল। ঐ কবিতায় দেখা যায় একজন নেতাকে জনগন অনেক হৈ রৈ, অনেক সমারোহ করে ফুলের পাপড়ি বিছিয়ে বরণ করে নিয়ে যায়, বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সেই নেতাকে ভুল বুঝে জনগন পাথর নিক্ষেপ করে, ঘৃণার পারদ ছড়ায়। আমার ভয়, আমার শংকা সেখানেই! তোমার পাঠকদের জন্য কবিতাটির কিছু অংশ তুলে ধরলাম-
It was roses, roses, all the way, With myrtle
mixed in my path like mad: The house-roofs
seemed to heave and sway, The church
spires flamed, such flags they had, A year
ago on this very day.
� And you see my harvest, what I reap� This very day, now a year is run. There’s
nobody on the house-tops now – Just a
palsied few at the windows set; For the best
of the sight is, all allow, At the Shambles’
Gate – or, better yet,
মাধবী,
আজকের এইদিন, আমাদের জুলাই বিপ্লব, আমাদের গনতন্ত্রে ফেরা এমনি এমনি হয়নি, হয়েছে আমাদের স্বজন হারানোর বেদনার ইতিহাস লিখে, আমাদের সহযোদ্ধাদের রক্তের সিঁড়ি বেয়ে! তাঁদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আজ আমরা এমপি, মন্ত্রী। আমাদের এই বিপ্লবের সফল পরিনতি এই বিজয় গাছে ধরা কোন আপেল ছিলো না, এটা অর্জন করতে ফ্যসিস্ট আমলে আমাদের সাড়ে চার হাজারের বেশী সহযোদ্ধাকে ক্রস ফায়ারের শিকার হতে হয়েছে, সাতশ’র বেশী সহযোদ্বা গুম হয়েছে, ষাটলক্ষের বেশী সহযোদ্ধা মিথ্যা-গায়েবী মামলার শিকার হয়েছে, জুলাই ‘২৪, যাকে আমরা ভালোবেসে নাম দিয়েছি ‘৩৬ জুলাই’, এর ২০ দিনে চৌদ্দশ’ মানুষকে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্বিচারে গুলির সামনে জীবন দিতে হয়েছে, অগণিত-অসংখ্য মানুষকে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে, তারপর এই বিজয়। আমরা যারা সংগ্রামে ছিলাম তারা বিশ্বাস করেছিলাম, প্রত্যেকটা অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাগে জ্বলে ওঠা প্রতিটি মানুষই আমাদের সহযোদ্ধা, আমাদের স্বজন, আমাদের হৃদয়ের প্রতিবেশী। আমাদের পথটা দীর্ঘ এবং কঠিন ছিলো, কিন্ত বেগম খালেদা জিয়া-তারেক রহমানের নেতৃত্বে লড়াই জারি রেখেছিলাম। আমরা বিপ্লবী চে গুয়েভারার অমর বাণী ’একজন প্রকৃত বিপ্লবী ভালোবাসার গভীর অনুভূতি দ্বারা পরিচালিত হয়’ বুকে ধারণ করে আমৃত্যু লড়াইয়ে বদ্ধপরিকর ছিলাম। আমরা সারা বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, রুপসা থেকে পাথুরিয়া পর্যন্ত যে প্রান্তেই নিপীড়িত মানুষের আর্তনাদ শুনেছি, সে প্রান্ত পর্যন্ত আমাদের সংগ্রামের পথ বিস্তৃত করেছিলাম! তাই আমরা সফল হয়েছি। এত সফলতা, এতো আনন্দ, এতো সমারোহের মাঝেও, আজ আমার ভয় হয়, আমি শংকিত, সংকুচিত, আমি দ্বিধান্বিত হয়ে পড়ছি এই ভেবে যে, আমরা Robert Browning এর কবিতার মত Triumph and Tragedy’র অবশ্যম্ভাবী চরিত্র হয়ে না উঠি!
মাধবী,
গতরাতে ইউটিউব সার্ফিং করতে করতে ওপার বাংলার প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী কবির সুমনের একটি সাক্ষাৎকারের উপর চোখ আটকে গেলো, কান খাড়া হলো, দেখলাম-শুনলাম, তিনি বললেন, তিনি তাঁর স্ত্রীকে পাশের রুমে রেখে রাত জেগে অন্য নারীর প্রেমে বিভোর থাকতেন , এমনই এক চন্চলা রাতে প্রেয়সীকে বলেছিলেন, ‘এ তুমি কেমন তুমি, চোখের তারায় আয়না ধরো! এ কেমন কান্না তুমি আমায় যখন আদর করো।’ প্রেয়সীর সাথে নির্জন রাতের সেই কথোপকথনই আজ কিংবদন্তি গান হয়ে উঠেছে, জাতিস্মর সিনেমার হিট গান! এই গল্প শুনে মনে হলো, জগজিৎ সিং যথার্থই গেয়েছেন, মুখের কথায় হয় যে গান তুমি যদি গাও, বেদনা মধুর হয়ে যায় , তুমি যদি দাও! আসলে প্রেম এমনই, প্রেয়সী যদি মনের মতন হয়, সে সৃষ্টির প্রেরণা হয়ে উঠে, সৃষ্ঠি সুখের উল্লাস হয়! মাঝখানে যে খুঁটখাট, মান অভিমান, ঝগড়াঝাটি, খুনসুটি, তা সৃষ্ঠির প্রসব বেদনা মাত্র।রবীন্দ্রনাথ তাঁর শেষের কবিতায় যথার্থই বলেছেন, ’ভালোবাসাটা আর্ট, বিয়েটা ম্যাটার; ভালোবাসাটা রোমান্টিক, বিয়েটা ক্লাসিক।’
(লেখাটি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এর ফেসবুক প্রোফাইল থেকে নেওয়া)