রবিবার ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭ মাঘ ১৪৩২

শিরোনাম: আগামি দিন ভাগ্য গড়ার দিন, দেশ গড়ার দিন: তারেক রহমান   সবধরনের জ্বালানি তেলের দাম কমাল সরকার   নির্বাচন হতে হবে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের: তারেক রহমান   বিদ্রোহীদের নিয়ে যা ভাবছে বিএনপি!   আর্থিক সংকটে পঙ্গু হতে চলেছে জাতিসংঘ, সতর্কবার্তা গুতেরেসের   তারেক রহমানের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় শর্মিলা রহমান   বাংলাদেশের সমর্থনে পাকিস্তান সরে গেলে বিশ্বকাপ খেলবে ‘উগান্ডা’   
চুলের বেণি দেখে ৯ বছরের সায়মার লাশ শনাক্ত করে ভাই
ভোরের পাতা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২২ জুলাই, ২০২৫, ৯:২২ পিএম

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সায়মা আক্তারের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন চিরতরে নিভে গেল। তার গ্রামের বাড়ি গাজীপুরে এখন চলছে শুধুই শোকের মাতম। শোকে পাথরের মতো স্থির হয়ে ক্ষীণ স্বরে কাতরাচ্ছেন পিতা শাহ আলম ও মা মিনারা বেগম।

নিহত শিশু শিক্ষার্থী হলো গাজীপুরের মহানগরীর সদর থানাধীন বিপ্রবর্থা গ্রামের শাহ আলমের ছোট মেয়ে সায়মা আক্তার (৯)। সায়মার বড় ভাই সাব্বির হোসেন এবার মাইলস্টোন স্কুল থেকেই এসএসসি পাস করেছে।

নিহত সায়মার পিতা শাহ আলম গাজীপুর মহানগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বিপ্রবর্থা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চাকরিসূত্রে পরিবার নিয়ে রাজধানীর উত্তরায় বসবাস করেন। শাহ আলম একটি কোম্পানিতে কর্মরত।

আজ মঙ্গলবার সকালে সায়মার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, নিহত সায়মার কবর খোঁড়া হয়েছে বাড়ির আঙিনায়। বেলা ১১টায় জানাজা শেষে দাফন করা হয় সেই কবরে। বড় ভাই সাব্বির বোন হারিয়ে আর্তনাদ করছে। বাবা কবরস্থানের সামনে দাঁড়িয়ে চোখের জল মুছছেন। শোকে কাতর গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সবার চোখে পানি। শিশুটির এমন মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছে না।

সায়মার পিতা শাহ আলম কান্না করতে করতে বলছেন, ‘আমার মেয়ের স্বপ্ন ছিল ‘‘ডাক্তার’’ হওয়ার। সে সবাইকে বলে বেড়াত, আমি বড় হলে ‘‘ডাক্তার’’ হব। এ কারণে এলাকার সবাই তাকে ডাক্তার সায়মা বলে ডাকত। কিন্তু সায়মার সে স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। একটি দুর্ঘটনা সায়মার স্বপ্ন কেড়ে নেয়নি, তার জীবনও কেড়ে নিয়েছে। পরিবারের সবাইকে করেছে নির্বাক শোকের অংশীদার।’

নিহত সায়মার বড় ভাই সাব্বির বলে, ‘আমার বন্ধু ফোন করে জানায় স্কুলে বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এরপর আমরা সারা রাত খোঁজাখুঁজি করেও পাইনি। রাত ৮টার পর জানতে পারি, সিএমএইচে মরদেহ রয়েছে। পরে আমি সেখানে গিয়ে কানের দুল ও মাথার চুলের বেণি দেখে লাশ শনাক্ত করি। পরে রাত দেড়টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সায়মার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসি।’

সায়মার মা রিনা বেগম বলেন, ‘প্রতিদিন আমার মেয়েকে নিয়ে স্কুলে যেতাম। গতকাল আমার এক ভাই স্কুলে নিয়ে যায়। পরে ফেসবুকে জানতে পারি, স্কুলে বিমান দুর্ঘটনা হয়েছে। আমার মা (মেয়ে) স্কুলে যাওয়ার আগে বলে গেল—মা স্কুলে গেলাম, টা-টা। এরপর আর মায়ের সঙ্গে কথা হয়নি।’



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: vorerpata24@gmail.com বার্তা ইমেইল:news@dailyvorerpata.com বিজ্ঞাপন ইমেইল:vpgmad@gmail.com