
বয়স অল্প, কিন্তু স্বপ্নটা বড়। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া এক ছাত্রীকে বিয়ে দিতে চেয়েছিল পরিবার। তবে বিয়েতে রাজি নয় সে। পড়াশোনা চালিয়ে ভবিষ্যতে পুলিশে চাকরি করতে চায়। নিজের এই স্বপ্নের কথা জানাতে প্রথমে থানায়, পরে হাজির হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে।
বৃহস্পতিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঘটে এমনই এক ঘটনা। শিক্ষার্থীর কথা শুনে মুগ্ধ হন ইউএনও মাজহারুল ইসলাম। শুধু বাল্যবিয়ে ঠেকানোই নয়, মেয়েটির পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার দায়িত্বও নিয়েছেন তিনি।
ওই শিক্ষার্থী শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী।
শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নির্বাহী অফিসার মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থী ইউএনও অফিস চিনত না। প্রথমে থানায় যায়, পরে আমার কার্যালয়ে আসে। আমি তার সব কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছি। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়লেও তার চিন্তাভাবনা বিশাল ও গুছিয়ে কথা বলতে পারে। তার কথা শুনে আমি মুগ্ধ ও আমার অনেক ভালো লেগেছে।’ পরবর্তীতে তিনি শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যদের সাথে তার কার্যালয়ে কথা বলেন।
শ্যামপুর ইউপি চেয়ারম্যানসহ তার পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে বাল্যবিয়ের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা হলে তারা মেয়েটিকে বিয়ে না দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়।
এরপর তিনি শিক্ষার্থীর পড়াশোনা চালিয়ে নিতে তাকে নগদ অর্থ, প্রয়োজনীয় বই, স্কুলব্যাগ ও পোশাক দেওয়া হয়।
মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থীকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। আমি এখানে না থাকলেও তার পড়াশোনা যাতে বন্ধ না হয়, সেই ব্যবস্থা করে যাব।’
শ্যামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীর বাবা নেই। তাদের জায়গা-জমিও নেই। পরিবারের আরেক সন্তানও মেয়ে। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনোভাবে সংসার চালান। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও মেয়েটির পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঐ ছাত্রীর জন্য যেটা করলেন সেটা অতীব প্রশংসনীয়।
উল্লেখ্য দরিদ্র ও পারিবারিক চাপের কারণে যেখানে অনেক শিশুর শিক্ষাজীবন থেমে যায়, সেখানে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ঐ ছাত্রীর দৃঢ়তা এবং প্রশাসনের সহযোগিতা নতুন আশার বার্তা দিয়েছে।