
সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই এক সপ্তাহে ৮৩টি ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে ইরান। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে এসব ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-পদার্থবিদ্যা ইনস্টিটিউটের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্কের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ ভূমিকম্পের মাত্রা কম হলেও এ সময় ৪ থেকে ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পও আঘাত হেনেছে।
সংবাদমাধ্যম তেহরান টাইমস জানায়, গত ৩ থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ইরানের বিভিন্ন এলাকায় মোট ৮৩টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে।
ইরানিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (আইআরএসসি) তথ্য অনুযায়ী, এ সময় ৭১টি ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৩-এর নিচে, ১০টির মাত্রা ছিল ৩ থেকে ৪-এর মধ্যে এবং দুটি ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ থেকে ৫-এর মধ্যে। সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি ছিল রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ১ মাত্রার, যা ১০ জুলাই কেরমান প্রদেশে আঘাত হানে।
প্রদেশভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ১০টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে খোরাসান রাযাভি প্রদেশে। এছাড়া সেমনান, কেরমান ও ফার্সে ৮টি করে এবং মাজানদারানে ৭টি ভূমিকম্প হয়েছে।
একই সময়ে রাজধানী তেহরানে তিনটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হলেও আলবোরজ, খুজেস্তান, জানজান, সিস্তান-বেলুচিস্তান, কোম, কাজভিন, কুর্দিস্তান, মারকাজি ও হামেদান প্রদেশে কোনো ভূমিকম্পের তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে মেহর নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ইরানি বর্ষপঞ্জির বছরে (মার্চ ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬) দেশজুড়ে রিখটার স্কেলে ২ দশমিক ৫ বা তার বেশি মাত্রার মোট ২ হাজার ৩৮০টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯১০টির মাত্রা ছিল ৩-এর বেশি, ১৩০টির ৪-এর বেশি এবং ১৫টির মাত্রা ছিল ৫-এর বেশি।
বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল ইরানি মালভূমিতে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। আরবীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে এখানে নিয়মিত ভূত্বকের নড়াচড়া ঘটে, যা ভূমিকম্পের প্রধান কারণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ ভূমিকম্পের মাত্রা কম হলেও অগভীর গভীরতায় সংঘটিত কম্পন তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, এসব ভূমিকম্প ভূপৃষ্ঠে তীব্রভাবে অনুভূত হয় এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।
বিশ্বে সংঘটিত মোট ভূমিকম্পের প্রায় ২ শতাংশ ইরানে হলেও, বিংশ শতাব্দীতে বৈশ্বিক ভূমিকম্পে প্রাণহানির ৬ শতাংশেরও বেশি ঘটেছে দেশটির বিভিন্ন ভূমিকম্পে। এ কারণে ভূমিকম্পের ঝুঁকির দিক থেকে ইরানকে বিশ্বের অন্যতম স্পর্শকাতর দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।