
ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনাল খেলায় মাঠে উপস্থিত থাকবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এর মধ্যে যুদ্ধবিমান এফ-১৬ এবং সামরিক প্রশিক্ষিত স্নাইপারদের মোতায়েন করা হয়েছে। কোনো ক্রীড়া আসরকে ঘিরে এমন বড় নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম।
সেসব এলাকায় বিমান উড়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। উড্ডয়ন নিষিদ্ধ এলাকা কঠোরভাবে পাহারা দেওয়া হবে। এছাড়া স্টেডিয়ামের ছাদে স্নাইপাররা সতর্ক অবস্থানে থাকবেন ও পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সহযোগিতা করবেন হাজার হাজার ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এজেন্ট।
দর্শকদের প্রায় বেশ অনেকটা সময় অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। একই সঙ্গে তারা দর্শকদের ম্যাচ শুরুর অন্তত চার ঘণ্টা আগে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্বকাপের ফাইনালকে 'লেভেল–১' বিশেষ অনুষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা শ্রেণিবিন্যাস।
এই নিরাপত্তা অভিযানের ব্যাপকতা মূল্যায়ন করতে গিয়ে হোয়াইট হাউসের ফিফা টাস্কফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি দ্য টেলিগ্রাফ স্পোর্টকে বলেন, এই আয়োজনের নিরাপত্তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কংগ্রেসে দেওয়া বার্ষিক ভাষণ এবং প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের নিরাপত্তার সঙ্গে তুলনীয়।
তিনি বলেন, 'সত্যি বলতে, এটি সুপার বোলের চেয়েও বড়।' নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের পুলিশকে সহায়তা করতে গিয়ে জুলিয়ানি বলেন, 'আমরা এর সঙ্গে বহু ফেডারেল সংস্থাকে যুক্ত করেছি।'
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে টাস্কফোর্স জানিয়েছিল, গত এপ্রিল মাসে হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সমিতির নৈশভোজ অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা ভেঙে এক বন্দুকধারীর প্রবেশের ঘটনা ছিল এ গ্রীষ্মে দেশের সামনে থাকা নিরাপত্তা হুমকির একটি 'সতর্কবার্তা'।
জুলিয়ানি বলেন, 'এটাই অন্যতম প্রধান কারণ, যার জন্য ৬২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের ফেডারেল অনুদান অনুমোদন করা হয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট তাতে স্বাক্ষর করেছেন। আর সৌভাগ্যবশত, এখন পর্যন্ত ১০৩টি ম্যাচ কোনো বড় নিরাপত্তা ব্যহত হয়েছে এমন কোনো ঘটনা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। শেষ ম্যাচটিও আমরা একইভাবে নিরাপদ রাখতে চাই।'
টুর্নামেন্ট শুরুর সময় দ্য টেলিগ্রাফ স্পোর্ট প্রকাশ করেছিল, ট্রাম্প সম্ভবত ফাইনাল ম্যাচেই টুর্নামেন্টে উপস্থিত হবেন। তিনি ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে যৌথভাবে বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন।
ট্রাম্প উপস্থিত থাকবেন এমন প্রত্যাশা ধরে রেখেই ফেডারেল সংস্থা, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো গত দুই বছর ধরে রোববারের এই নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করে আসছে।
এদিকে, বিশ্বকাপের ফাইনাল উপলক্ষে জারি করা অস্থায়ী উড্ডয়ন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করা একটি ছোট বেসামরিক বিমানকে এরই মধ্যে বাধা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। উত্তর আমেরিকার মহাকাশ প্রতিরক্ষা কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিমানগুলো প্রথমে পাইলটের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য আলোক সংকেত ছুড়ে দেয় এবং পরে বিমানটিকে নিরাপদে নিষিদ্ধ আকাশসীমার বাইরে নিয়ে যায়।
কমান্ডটি আগে থেকেই ঘোষণা দিয়েছিল, শুক্রবার থেকে রোববারের ফাইনাল পর্যন্ত নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সি অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসনের জারি করা অস্থায়ী উড্ডয়ন নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে। এবারের ফাইনালে মুখোমুখি হবে স্পেন ও আর্জেন্টিনা।
যুক্তরাষ্ট্রের গোপন নিরাপত্তা সংস্থার আরও জোরদার নিরাপত্তা বলয়ই স্টেডিয়ামে পৌঁছাতে দর্শকদের অধিকাংশ বিলম্বের প্রধান কারণ হতে পারে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমকে বলেন, 'ট্রাম্পের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে এমন একটি বিশ্বকাপের সমাপ্তি ঘটবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দেখা, সবচেয়ে নিরাপদ এবং সবচেয়ে সফল বিশ্বকাপ হিসেবে বিবেচিত হবে।'
ট্রাম্প কোনো ক্রীড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলে প্রায়ই দর্শকদের ভোগান্তি ও বিলম্বের ঘটনা ঘটে। গত মাসে তিনি নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এনবিএ ফাইনালের একটি ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন। তখন পুলিশ শহরের একাধিক সড়ক ও এলাকা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল।