বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫ মাঘ ১৪৩২

শিরোনাম: ২২ বছর পর আজ রাজশাহী যাচ্ছেন তারেক রহমান   রাজধানীতে বাস চাপায় ব্যাংক কর্মচারীর মৃত্যু    হোয়াটসঅ্যাপ-ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম চালাতে গুণতে হবে টাকা    হিলিতে চালের দাম কমেছে কেজিতে ৮ টাকা   ৮ জেলার শীত নিয়ে বড় দুঃসংবাদ    রাবির বি ইউনিটের ফল প্রকাশ   পুঁজিবাজারে সূচকের বড় উত্থানে বেড়েছে লেনদেন    
ভুয়া টেন্ডারের আড়ালে সামাজিক বনায়নের গাছ লুট— কোটচাঁদপুর বনবিভাগে অনিয়মের ভয়াবহ চিত্র
মো: খাইরুল ইসলাম,ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩৬ পিএম

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলায় সামাজিক বনায়নের গাছ ভুয়া টেন্ডার দেখিয়ে বিক্রি এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কোটচাঁদপুর উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ করেছেন সামাজিক বনায়নের সদস্যরা।

বন বিভাগের বিভাগীয় কার্যালয় থেকে গত ১ জানুয়ারি প্রকাশিত ২২.০১.৪১০০.৩২৯.১৭.০০১.২৬.১৩৬ নম্বর স্মারকের এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার যাঘা মসজিদ মোড় থেকে তালসার মসজিদ মোড় পর্যন্ত সড়কের পাশে ২০০২–২০০৩ অর্থবছরে সৃজিত ৬ দশমিক ০ কিলোমিটার সামাজিক বনায়নের বাগান থেকে ২৬টি গাছ কর্তনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ওই টেন্ডারে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বকুল হোসেনের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মেসার্স আর কে এন্টারপ্রাইজ গাছ কর্তনের অনুমতি পায়।
তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টেন্ডারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান নয়, বরং ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কাঠ ব্যবসায়ী আক্কাস আলী নামের এক ব্যক্তি গাছ কাটছেন। এ সময় টেন্ডারকৃত ২৬টি গাছের পরিবর্তে সেখানে মাত্র ২৪টি গাছ পাওয়া যায়। বাকি দুটি গাছ কোথায় আছে জানতে চাইলে বন বিভাগের কর্মকর্তা ও আক্কাস আলী কেউই সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

টেন্ডারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তি কেন গাছ কাটছেন—এ বিষয়ে আক্কাস আলী দাবি করেন, তিনি মেসার্স আর কে এন্টারপ্রাইজের ব্যবসায়িক পার্টনার। তবে এ বিষয়ে কোনো লিখিত চুক্তি বা অনুমতিপত্র দেখাতে পারেননি তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এসব কোনো কাগজ নাই। আমরা একে অপরের এলাকায় টেন্ডার ধরি।’

এদিকে সামাজিক বনায়নের সদস্যরা অভিযোগ করেন, তাদের সমিতির গাছ টেন্ডারে বিক্রি করা হলেও বিষয়টি তাদের জানানো হয়নি। সামাজিক বনায়নের সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের সমিতির গাছ টেন্ডার হচ্ছে, অথচ আমরা কিছুই জানি না। এর আগে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের সময় গাছের ডালপালা বিক্রি করে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পাওয়া গেলেও সেই টাকার কোনো হদিস আজও নেই।’

অভিযোগের বিষয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা বনবিভাগের কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, টেন্ডার বিধি অনুযায়ীই গাছ কর্তন করা হচ্ছে। টেন্ডারপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ গাছ কাটছেন—এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কুষ্টিয়ার টিম্বার ব্যবসায়ী আর কে এন্টারপ্রাইজ টেন্ডার পেয়েছে এবং তাদের পার্টনার হিসেবেই গাছগুলো কর্তন করা হচ্ছে।
তবে সামাজিক বনায়নের সদস্যদের দাবি, সরকারি দপ্তর তাদের না জানিয়ে গাছ বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করেছে এবং এখন পর্যন্ত গাছ বিক্রির টাকা সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হয়নি। তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: vorerpata24@gmail.com বার্তা ইমেইল:news@dailyvorerpata.com বিজ্ঞাপন ইমেইল:vpgmad@gmail.com