বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫ মাঘ ১৪৩২

শিরোনাম: ২২ বছর পর আজ রাজশাহী যাচ্ছেন তারেক রহমান   রাজধানীতে বাস চাপায় ব্যাংক কর্মচারীর মৃত্যু    হোয়াটসঅ্যাপ-ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম চালাতে গুণতে হবে টাকা    হিলিতে চালের দাম কমেছে কেজিতে ৮ টাকা   ৮ জেলার শীত নিয়ে বড় দুঃসংবাদ    রাবির বি ইউনিটের ফল প্রকাশ   পুঁজিবাজারে সূচকের বড় উত্থানে বেড়েছে লেনদেন    
নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট আসনে ধানের শীষ, লাঙল ও দাঁড়ি পাল্লার হাড্ডাহাড্ডি লড়ায়ের আভাস
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২
মোঃ সাজেদুল হক সাজু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৫২ পিএম

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২ নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত।  নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সংগে নির্বাচনী সমিকরন পালটাতে শুরু করেছে। এই আসনে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয়  পাটি মনোনীত প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই এর আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে ভোটার উপস্থিতি, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক ও শেষ মুহূর্তের প্রচারণাই নির্ধারণ করবে ফলাফল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের নির্বাচনী মাঠে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে। জেলা শহর থেকে সড়কপথে আধাঘণ্টার দূরত্বে নাচোল ও গোমস্তাপুর এবং প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত ভোলাহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত এ সংসদীয় আসনে এখন ভোটই প্রধান আলোচ্য বিষয়। হাটবাজার, চায়ের দোকান, গ্রামগঞ্জ, সবখানেই ঘুরছে একটাই প্রশ্ন, কে পাচ্ছেন ভোটারদের আস্থা।

উন্নয়নবঞ্চিত এ অঞ্চলে প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলো উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাঠে নেমেছে। গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর এ আসনের রাজনৈতিক সমীকরণ কার্যত বিএনপি জামায়াত ও জাতীয় পাটি মনোনীত প্রার্থীকে  ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে লড়াই এর সম্ভাবনা। স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মূল লড়াই হবে এই তিন  দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। 

বিগত নির্বাচনের পরিসংখ্যান ও স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসন দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এখানে দলটির নিজস্ব বড় ভোটব্যাংক রয়েছে। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০১৮ সালের চ্যালেঞ্জিং নির্বাচনেও এই আসনে জয়ী হন বিএনপির প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলাম।

এবারও বিএনপি এ আসনে মনোনয়ন দিয়েছে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. আমিনুল ইসলামকে। দলীয় সূত্র জানায়, মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে প্রায় ১০ জন নেতা সক্রিয় থাকলেও শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ মাঠে থাকেননি। যদিও তিন নেতা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন, তারা কেউই ফরম জমা দেননি। ফলে বিএনপির ভেতরে বড় ধরনের বিভক্তি না থাকায় আমিনুল ইসলাম নির্বাচনী মাঠে স্বস্তিতে রয়েছেন।

মনোনয়নবঞ্চিত অনেক নেতাকর্মীকেও এখন দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। বিএনপির প্রার্থী আমিনুল ইসলাম বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জনগণই তাদের রায় দেবে। ২০১৮ সালের চ্যালেঞ্জিং নির্বাচনেও মানুষ ধানের শীষে ভোট দিয়েছিলেন। নির্বাচিত হওয়ার পর কঠিন সময়েও এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছি। এই অঞ্চলের মানুষ উন্নয়ন ও নিরাপত্তা চায়। নির্বাচিত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতে বিশেষ গুরুত্ব দেবো।

এই আসনে জাতীয় পাটি মনোনীত লাঙল প্রতীকের পার্থী ফিনল্যান্ড প্রবাসী ও গোমস্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান খুরশিদ আলম বাচ্চু।  খুরশিদ আলম বাচ্চুর  চাচা মোরহুম তোহর আহমেদ মিয়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, চাচী মোরহুমা মোয়াজ্জেমা বেগম সাবেক চৌডালা ইউপি চেয়ারম্যান বাবা জোহর আহমেদ মিয়া ও ছোট ভাই খায়রুল আলম নাটু সাবেক ইউপি  চেয়ারম্যান ছিলেন। বাচ্চুর পরিবার সম্ভ্রান্ত ও অর্থনৈতিক ভাবে বিত্তশালী হওয়ায় তার পিতার নামে চৌডালা জোহর আহমেদ মিয়া কলেজ,একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় গোরস্থান সহ অনেক প্রতিষ্ঠান  পরিবারের নিজস্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন। বাচ্চু এর আগে ৬৮ হাজার ও আওয়ামী লীগের আমলে সতন্ত্র নির্বাচন করে ৪৪ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে আসন্ন নির্বাচনে তিনি একজন শক্তিশালী প্রার্থী।

বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হলেও এ আসনে আশাবাদী জামায়াতে ইসলামী। দলটির জেলা শাখার নায়েবে আমীর ড. মিজানুর রহমানকে প্রার্থী করেছে জামায়াত। শুরু থেকেই তিনটি উপজেলাতেই সংগঠিত প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। নেতাকর্মীদের দাবি, ভোটের মাঠ ইতোমধ্যে গুছিয়ে ফেলেছে জামায়াত।

গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভোটারদের মধ্যে জামায়াতের সমর্থন বেড়েছে বলে দাবি করছেন দলীয় নেতারা। মাঠপর্যায়ে প্রচারণার মাধ্যমে নিজেকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটারদের একটি অংশ।

ড. মিজানুর রহমান বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায়। ন্যায়বিচার, সুশাসন ও ইসলামী মূল্যবোধের রাজনীতির পক্ষে মানুষ এখন ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় জামায়াতের বিকল্প নেই। তাই জনগণ দাঁড়িপাল্লা মার্কাতেই ভোট দেবেন।

অন্য প্রার্থী থাকলেও মূল লড়াই ধানের শীষ, লাঙ্গল ও দাঁড়ি পাল্লার মধ্যে তবে অন্যন্য  দলের,প্রার্থীরা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. ইব্রাহিম খলিল এবং বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মো. সাদেকুল ইসলাম থাকলেও নির্বাচনী মাঠে তাদের তৎপরতা চোখে পড়েনি। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাস্তব লড়াই সীমাবদ্ধ থাকছে বিএনপি  জামায়াত ও জাতীয় পাটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। 

স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও ভোটারদের ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের নিষ্ক্রিয় হলেও তাদের একটি ভোটব্যাংক এখনো বিদ্যমান। সেই ভোট কোন দিকে যাবে, এই প্রশ্নও জয়-পরাজয়ের হিসাবকে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কৃষিপ্রধান এ আসনের তিনটি উপজেলাতেই দীর্ঘদিন ধরে সার সংকট ও ভূগর্ভস্থ পানির সমস্যা কৃষকদের ভোগাচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষা, যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে। রহনপুর রেলস্টেশনকে পূর্ণাঙ্গ রেলবন্দরে রূপান্তরের দাবি দীর্ঘদিনের। আঞ্চলিক মহাসড়কে ডাকাতির ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
নাচোল উপজেলার ভোটার শাকিল রেজা বলেন, আমরা এমন জনপ্রতিনিধি চাই, যিনি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতে বাস্তব উন্নয়ন করবেন। এবার দলীয় প্রতীকের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ইমেজও বিবেচনায় থাকবে।

জাতীয় পাটি মনোনীত প্রার্থী খুরশিদ আলম বাচ্চু জানান তিনি গোমস্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে চৌডালা ব্রিজ সহ অসংখ্য স্থাপনা করেছেন।  এছাড়া পল্লীবন্ধু ও এরশাদই নাচোল গোমস্তাপুর  ও ভোলাহাট কে উপজেলায় উন্নীত করে একটি যুগান্তকারী কাজ করেছেন। সাধারণ জনতার মাঝে এরশাদ সাহেব এর অনেক অনুসারী রয়েছেন। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে ভোট দেবেন মোট ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩৩ জন ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২৫ হাজার ১৯৫ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ২৯ হাজার ২৩৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার একজন।

সব মিলিয়ে, বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হলেও সংগঠনের শক্তি ও পরিবর্তনের প্রত্যাশাকে সামনে রেখে জামায়াত ও জাতীয় পাটি  চমক দেখাতে মরিয়া। শেষ পর্যন্ত ভোটের রায়ে কার হাতে যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের প্রতিনিধিত্ব, তার জবাব মিলবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। ততদিন পর্যন্ত ভোটারদের হিসাব-নিকাশ চলছেই।



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: vorerpata24@gmail.com বার্তা ইমেইল:news@dailyvorerpata.com বিজ্ঞাপন ইমেইল:vpgmad@gmail.com