
মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের নিবন্ধনভুক্ত সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনরত ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকরা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন।
মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে বৈঠক শেষে বিকেল ৪টার দিকে শাহবাগে এ কথা জানান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এসএম মাসুদুল হক।
তিনি জানান, আন্দোলনকারী শিক্ষকদের ছয় দফা দাবি শিক্ষা মন্ত্রণালয় মেনে নিয়েছে। এসময় শিক্ষকদের ওপর পুলিশের লাঠি চার্জের ঘটনায় মন্ত্রণালয়ের দুঃখ প্রকাশ করেছে বলেও জানান মাসুদুল হক।
তিনি বলেন, শিক্ষকদের অন্যান্য দাবিও চলতি বছর থেকেই বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এর মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসায় প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি খোলা এবং শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি থেকে রাজধানীর প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়ে শিক্ষকরা জানিয়েছিলেন, ১৫ হাজার মাদ্রাসার ৭৫ হাজার শিক্ষক বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো সারা দেশের স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলো জাতীয়করণের দাবিতে বছরের পর বছর আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষকরা।
তাদের দাবি, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নীতিমালা মেনে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হলেও কোনো ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণ করা হয়নি। যত দ্রুত সম্ভব মাদ্রাসাগুলো জাতীয়করণ করতে হবে।
পরে রোববার (২৬ জানুয়ারি) প্রেস ক্লাব থেকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা ও স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। তবে জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে শাহবাগ থানার সামনে পৌঁছালে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন তারা। ওই সময় তাদের ওপর জলকামান নিক্ষেপ ছাড়াও লাঠিচার্জ করা হয়। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়।
সোমবার (২৭ জানুয়ারি) স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন আন্দোলনরত ইবতেদায়ি শিক্ষকরা। মঙ্গলবার সকাল থেকে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষকরা।
শিক্ষকদের দাবিগুলো হলো
* ইবতেদায়ি মাদরাসা নিবন্ধন স্থগিতাদেশ ২০০৮ প্রত্যাহার;
* রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত কোডবিহীন মাদরাসাগুলোকে বোর্ড কর্তৃক কোড নম্বরে অন্তর্ভুক্তকরণ;
* স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার আলাদা নীতিমালা;
* পাঠদানের অনুমতি, স্বীকৃতি, বেতন-ভাতা, নীতিমালা-২০২৫ অনুমোদন;
* প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো অফিস সহায়ক নিয়োগ;
* প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসায় প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি খোলা।
দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর আজ এই সিদ্ধান্তে ইবতেদায়ি শিক্ষকরা আনন্দিত। অনেকেই সরকারের এই পদক্ষেপের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
আরও পড়ুন