প্রকাশ: শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:২৭ পিএম

রাজধানী ঢাকায় ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম সরকার নির্ধারিত ১,২৫৩ টাকার চেয়ে অনেকাংশে বেশি নেওয়া হচ্ছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, কোথাও কোথাও সিলিন্ডারের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে বাড়তে এক হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। এতে গৃহস্থালীর রান্না ও দৈনন্দিন ব্যবহারে ব্যাপক ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জ্বালানি সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বুঝতে চেষ্টা করছি। আজ আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করব।”
জ্বালানি খাতের মূল্য নির্ধারণকারী সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ডিসেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করেছিল ১,২৫৩ টাকা। কিন্তু রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় এ সিলিন্ডার ১,৮০০ থেকে ২,২০০ টাকা, কোথাও আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। অনেক জায়গায় দাম বাড়তি হলেও সিলিন্ডার মিলছে না।
খুচরা বিক্রেতারা ডিলারদের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন, আর এলপিজি পরিবেশক ও অপারেটররা জানাচ্ছেন, ডিসেম্বর মাসে আমদানি কমে যাওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। যাত্রাবাড়ীর কাজলার রিফা এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর মো. পাবেল বলেন, “১০ দিন আগে ১,২৫০ টাকায় বিক্রি করা গ্যাস এখন ২,২০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়ছে।”
মোহাম্মদপুরের আদাবরের রহমতুল্লাহ এন্টারপ্রাইজের মিজানুর রহমান বলেন, “গত দুই দিন ধরে আমাদের এলাকায় কোনো গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ নেই। ডিলাররা ১,৮০০ টাকার বেশি দিতে চাইছে না। আমরা বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধ রেখেছি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “সরকার নির্ধারিত দামে আমরা নিজেও গ্যাস পাই না; ডিলাররা ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছে।”
সরকার ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এই সংকট সমাধান করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এলপিজি ব্যবহারকারীরা ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন এবং দ্রুত হস্তক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে।