
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট গতকাল সোমবার স্কট বেসেন্টকে ট্রাম্প প্রশাসনের ট্রেজারি সেক্রেটারি হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে। তাকে নতুন প্রশাসনের কর কর্তন এবং ব্যয় সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেওয়া হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক, অর্থনীতি এবং বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়েও তার প্রভাব থাকবে।
বেসেন্টকে ৭৯তম ট্রেজারি সেক্রেটারি হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তার দায়িত্বের মধ্যে থাকবে দেশের ২৮ ট্রিলিয়ন ডলার বিশিষ্ট সরকারি ঋণের বাজার নিয়ন্ত্রণ, কর সংগ্রহের নীতি নির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক বিধিনিষেধের পরিচালনা।
৬২ বছর বয়সী বেসেন্ট ট্রাম্পের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার একজন শক্তিশালী সমর্থক হিসেবে কাজ করছেন, যার মধ্যে রয়েছে কর কমানো এবং কিছু শিল্পে কঠোর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা। তবে, ডেমোক্রেটরা এবং কিছু অর্থনীতিবিদ মনে করেন যে, এর ফলে ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা ব্যাহত হতে পারে।
বেসেন্ট তার কনফার্মেশন শুনানিতে সতর্ক করে জানান, আগামী বছর শেষ হওয়ার আগেই ৪ ট্রিলিয়ন ডলার কর ছাড়ের মেয়াদ শেষ হলে, তা মধ্যবিত্ত আমেরিকানদের জন্য একটি ‘বিপর্যয়’ হতে পারে। তিনি দাবি করেন যে, শুল্ক আরোপ আমেরিকাকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতিতে শক্তিশালী অবস্থানে রাখবে, রাজস্ব বাড়াবে এবং অনৈতিক বাণিজ্য অনুশীলনকে ঠেকাবে।
অর্থনৈতিক দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে, বেসেন্টের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে সরকারের ঋণসীমা পার হওয়ার পর ফেডারেল নগদ প্রবাহ পরিচালনা করা। তার শপথ গ্রহণের পরপরই সরকার ঋণসীমা পূর্ণ হয়ে গেলে, ‘অবিশ্বাস্য ব্যবস্থা’ গ্রহণের মাধ্যমে সরকারি ঋণ বিপদমুক্ত রাখার চেষ্টা করছে ট্রেজারি বিভাগ।
স্কট বেসেন্ট মার্কিন সিনেটরদের কাছে বলেন, তার নেতৃত্বে কোনো রকম সরকারি ডিফল্ট ঘটবে না।
বেসেন্টকে বাজেটের ঘাটতি বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় কর সুরক্ষা সংক্রান্ত সমাধান বের করতে হবে, যাতে সরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি এবং প্রবৃদ্ধি শুল্কের মতো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে না হয়। তবে তার সম্মুখীন হওয়া আরেকটি বড় সমস্যা হলো আগামী কয়েক বছরে বাজেটের ঘাটতির বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদী সরকারী ঋণ।
তিনি তার কনফার্মেশন শুনানিতে ঘোষণা করেছেন, সরকারি ব্যয় ‘অতিরিক্তভাবে বেড়ে গেছে’ এবং তা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য তার পরিকল্পনা আছে, যদিও এটি বাস্তবায়নে কতটা সফল হতে পারবেন তা স্পষ্ট নয়।