বাংলার মাটিতে কখনই সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকে আশ্রয় দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

  • ১২-মার্চ-২০১৯ ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

বাংলাদেশের মাটিতে কখনই সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকে আশ্রয় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার (১১ মার্চ) দুপুরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশের চার প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক, বহুপাক্ষিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমাদের এ অঞ্চল ও এর বাইরে সন্ত্রাসবাদ দূর করতে আমরা বদ্ধপরিকর। বাংলাদেশ সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের প্রতি ‘শূন্য সহনশীলতা’র নীতি পোষণ করে। কোনো সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকে কখনই বাংলাদেশের মাটিতে আশ্রয় দেওয়া হবে না।  টানা তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পরে আপনার সঙ্গে আমার এটাই প্রথম ভিডিও কনফারেন্স। বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে আমাদের বিজয় ঘোষণার পরপরই আমাকে ও আমার দলকে অভিনন্দন জানানোর জন্য আপনাকে আবারও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় লাইন অফ ক্রেডিট (এলওসি) এর আওতায় ভারত থেকে দোতলা বাস, একতলা এসি ও নন-এসি বাস এবং ট্রাক আমদানি; ভারতীয় আর্থিক অনুদানে পাঁচ জেলায় (জামালপুর, শেরপুর, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া) ৩৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন; ভারতীয় অনুদানে বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়ায় ১১টি পানি শোধনাগার স্থাপন; এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোতে ভারতের ন্যাশনাল নলেজ নেটওয়ার্ক (এনকেএন) সম্প্রসারণের আওতায় বাংলাদেশে উক্ত নেটয়ার্কের সম্প্রসারণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের সেই ঐতিহাষিক ভাষণ ইউনেস্কো ঘোষিত ‘বিশ্ব ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’-এ যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে স্থান পেয়েছে। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের জনগণ ও সরকারের অপরিসীম অবদানের কথা আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি। আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তা এক চিরন্তন মাইলফলক হয়ে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, এলওসির আওতায় ৬০০ বাস (৩০০ দোতলা বাস, ২০০ একতলা এসি বাস এবং ১০০ একতলা নন-এসি বাস) এবং ৫০০ ট্রাক (৩৫০টি ১৬-টন ট্রাক এবং ১৫০টি ১০-টন ট্রাক) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে। আশা করি, এরফলে বাংলাদেশের যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হবে এবং আমাদের মহাসড়কগুলোর যানজট খানিকটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আসবে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে বলেছেন, আপনি সোনার বাংলা গড়ার কাজে হাত দিয়েছেন। সেই সোনার বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহযোগিতা করাটা গৌরবের। এসব সহযোগিতার মাধ্যমেই বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুগভীর হবে।

নরেদ্র মোদি বলেন, পরিবহন সেক্টরসহ বিভিন্ন সেক্টরে আমরা বাংলাদেশকে যে সহযোগিতা করছি তাতে বাংলাদেশের মানুষ উপকৃত হবে। এসব সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও মজবুত হবে। শেখ হাসিনার সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা গৌরবের বলেও মনে করেন মোদি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার যে কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন আমি তার সফলতা কামনা করি।

মোদি বলেন, আগামী নির্বাচনে আবার ক্ষমতায় এলে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। আগামী বছর ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবেন। আপনার সে কর্মসূচির সফলতা কামনা করছি। এছাড়া টানা তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় আমি আপনাকে ধন্যবাদ জানাই।

তিনি এ সময় বাংলায় বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্ব চিরজীবী হোক’।

Ads
Ads