বেড়েছে সবজি ও মাছ-মাংসের দাম

  • ১০-মার্চ-২০১৯ ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ;:

কারণ ছাড়াই রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে সবজি, মাছ-মাংসের দাম বেড়েছে। পেঁপে, গাজর ও টমেটো ছাড়া বেশিরভাগ সবজি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকার ওপরে। এ ছাড়া ব্রয়লার মুরগির দাম বাজারভেদে কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়েছে।

এভাবে প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়ায় ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠেছে। সবজি বিক্রেতারা বলছেন, গত কয়েকদিনের অনাকাক্ষিত বৃষ্টির কারণে গ্রামাঞ্চলে সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে।

রাজধানীর রামপুরা ও খিলগাঁও বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ টাকা। বাজারে নতুন সবজি বরবটি বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৪০ টাকা কেজি। দামের দিক থেকে এর পরেই রয়েছে পটোল ও করলা। বাজারভেদে পটোল বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা কেজি। একই দামে বিক্রি হচ্ছে করলা। সপ্তাহের ব্যবধানে করলার দাম কেজিতে ১৫-২০ টাকা বেড়েছে।

কচুর লতি, লাউ, শসা, শিম, ধুন্দুলের দামও বেড়েছে। গত সপ্তাহে ৬০-৭০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া ঢেঁড়সের দাম বেড়ে হয়েছে ৮০-১০০ টাকা। কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০-৭০ টাকা। দাম বাড়ার তালিকায় আছে শসাও। গত সপ্তাহে যে শসা ৪০-৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে, সেটি শুক্রবার বাজারভেদে ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। শিম বিক্রি হয়েছে কেজি ৬০-৭০ টাকা।

অবশ্য পেঁপে, বেগুন, পাকা টমেটো ও গাজর আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ২০-৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকার মধ্যে। পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা কেজি। গাজর বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকা কেজি। দাম অপরিবর্তিত থাকার তালিকায় রয়েছে গোল আলু। আগের মতোই আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকা।

খিলগাঁওয়ের তালতলা মার্কেটের সবজি ব্যবসায়ী শাহজাহান বলেন, গত কয়েক দিনের বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চাষীদের অনেক সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে সবজির দাম হঠাৎ করেই বেড়েছে। তাছাড়া শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপির মৌসুম শেষের দিকে। তাই এসব সবজির দাম এমনিতেই এখন বেশি।

বাজারে সবজির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মাছ-মাংসের দামও বেড়েছে। লাল লেয়ার ও ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়েছে। লাল লেয়ার মুরগি এখন বিক্রি হচ্ছে ২১০-২২০ টাকা কেজি। গত সপ্তাহে এ মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৯০-২০০ টাকায়। আর ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৬৫ টাকায়, যা গত সপ্তাহে বাজারভেদে ১৫০-১৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে কক মুরগি গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হয়েছে। বাজারে গরুর মাংস ৪৮০-৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কয়েকটি বাজারে ষাঁড়ের মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫২০ টাকা কেজি। খাসির মাংস আগের সপ্তাহের মতোই ৭০০-৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, তেলাপিয়া ও পাঙাশ ছাড়া অন্য সব জাতের মাছের দাম কেজি ২০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া আগের সপ্তাহের মতো ১৫০-১৮০ টাকায় বিক্রি হয়। পাঙাশ বিক্রি হয় ১৬০-২০০ টাকা।

রুই ৩৫০-৬০০, পাবদা ৬০০-৭০০, টেংরা ৭০০-৮০০, শিং ৪০০-৬০০, বোয়াল ৫০০-৮০০, চিতল ৫০০-৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। তালতলা মার্কেটের মাছ ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহের চেয়ে আড়তে মাছ কম এসেছে। যে কারণে মাছের দাম বাড়তি। এ মার্কেটে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী হুমায়ন কবির বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় সবজি, মাছের দাম বেড়েছে।

গত সপ্তাহে যে রুই ২৬০ টাকা কেজি কিনেছি, আজ তা ৩৫০ টাকায় কিনতে হল। হঠাৎ করেই সব কিছুর দাম কেন বাড়ল তার সদুত্তর বিক্রেতারা দিতে পারেননি। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, সরকারের কোনো সংস্থাই বাজার মনিটরিং করে না। ব্যবসায়ীরা সে সুযোগ নিয়ে ইচ্ছেমতো দাম বাড়ান।

Ads
Ads