সাংসদ মজিদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

  • ৫-মার্চ-২০১৯ ০৯:৫২ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: বিশেষ প্রতিনিধি ::

হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ খানের বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আচরণবিধি ভঙ্গ করে প্রচার-প্রচারণা ও ভোটারদের বিভিন্ন ধরনের হুমকির অভিযোগ দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ইকবাল হোসেন খান। গত রোববার দুপুরে জেলা নির্বাচন অফিসার ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন স্বতন্ত্র এই প্রার্থী।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক স্বতন্ত্র প্রার্থী ইকবাল হোসেন খান সোমবার বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা-২০১৬ এর ২(১৪) ধারা অনুযায়ী একজন সংসদ সদস্য সরকারি সুবিধাভোগী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। কিন্তু হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ খান ২৩ ফেব্রুয়ারি বানিয়াচং উপজেলার ৫নং দৌলতপুর ইউনিয়নস্থ মার্কুলী বাজারে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ আয়োজিত নৌকা প্রতীকের সমর্থনে জনসভায় প্রচারণামূলক বক্তব্য দেন। নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় এই ইউনিয়নের সকল উন্নয়ন কর্মকা- স্থগিত হয়ে যাবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন। 

২৮ ফেব্রুয়ারি বানিয়াচং ১নং উত্তর-পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদে উপজেলা যুবলীগের নামে বিশেষ বর্ধিত সভার আয়োজন করে হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মজিদ খান। সেখানে নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে প্রচারণা করে নৌকাকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি। ওই বর্ধিত সভায়ও তিনি নৌকায় ভোট না দিলে উন্নয়ন কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী ইকবাল হোসেন খান বলেন, আমার আনারস মার্কার কর্মী-সমর্থকদেরকে স্থানীয় সংসদ সদস্য বিভিন্নভাবে হয়রানি করারও হুমকি দিচ্ছেন। সংসদ সদস্যের এমন বক্তব্য নির্বাচনী বিধিমালার পরিপন্থী। এতে নির্বাচনী প্রচারাভিযানে সমানাধিকার খর্ব হয়েছে। 

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগকালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বর্তমান স্বতন্ত্র প্রার্থী ইকবাল হোসেন খান (আনারস) বলেন, ‘ছাত্রজীবন থেকেই গণমানুষের কল্যাণে কাজ করার ধারাবাহিকতায় আমি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করে বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দ্বায়িত্ব পালন করছি। আমার ঐকান্তিক প্রচেষ্টাতেই বর্তমান সংসদ সদস্য আবদুল মজিদ খান এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এবারও উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূল আওয়ামী লীগের ভোটে বিপুল ব্যবধানে আমি নির্বাচিত হয়েছিলাম। কিন্তু স্থানীয় সংসদ সদস্য উপজেলা আওয়ামী লীগকে আত্মীয়করণের লক্ষ্যে তার নিকট আত্মীয়কে মনোনয়ন পাইয়ে দিতে জেলা থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত লবিং করেছেন। যার ফলশ্রুতিতে নৌকার বর্তমান প্রার্থী মনোনয়ন পান। আর এ মনোনয়নের ফলে তৃণমূল আওয়ামী লীগের মধ্যে বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে। তৃণমূলের প্রতিটা নেতাকর্মী তার সাথেই রয়েছেন বলেও দাবি করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ইকবাল হোসেন খান। 

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মজিদ খানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি একটি মিটিংয়ে আছেন জানিয়ে পরে যোগাযোগ করতে বলেন। জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবির মুরাদ অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন আমি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ব্যবস্থা নিতে অভিযোগটি পাঠিয়েছি।’ অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা অভিযোগটি পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Ads
Ads