পুলিশ কর্মকর্তার দায়মুক্তি ও মহানূভবতা

  • ২০-ফেব্রুয়ারী-২০১৯ ০৬:১৩ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ঝিকরগাছা প্রতিনিধি ::

প্রায় দেড় বছর ধরে ঝিকরগাছার হালিমা পাগলীকে খোঁজার পর তার সন্ধান পেলেন ঝিকরগাছা থানার তৎকালীন এসআই শরীফ। পাগলীর রেখে যাওয়া আমানতের দশহাজার টাকা তার হাতে তুলে দিয়ে দায়মুক্তি ও সেবাশশ্রুতা করে এক মহানূভবতার দৃষ্টান্ত রেখেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

বর্তমানে যশোর সদর কোর্টে কর্তব্যরত এসআই শরীফ জানান, তিনি ঝিকরগাছা থানায় সেকেন্ড অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ২০১৭ সালের ২৭ডিসেম্বর থানার সামনে জামাল উদ্দিনের হোটেলে তিনি বসে থাকা অবস্থায় একজন পাগলী কোথা থেকে দৌঁড়ে আসে তার কাছে। এসময় ক্ষুধার্ত পাগলীকে ওই হোটেল মালিককে যা খেতে চাই খেতে দিতে বলেন তিনি। খাওয়া শেষে কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই পাগলী কাগজে মোড়া অবস্থায় দশহাজার টাকা এসআই শরীফের কাছে ছুঁড়ে দিয়ে বলে ‘তুই আমার রড ও সিমেন্ট কিনে দিবি আমি বাড়ি বানাবো’। একথা বলেই ওই পাগলী আবারো দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। কাগজে মোড়া ওই টাকা এসআই শরীফ দেখে পাগলীকে খুঁজতে থাকে টাকাটা ফেরত দেবার জন্য। এরপর থেকে তিনি ঝিকরগাছায় অবস্থানকালে স্থানীয় এলাকাবাসী অনেকের নিকট পাগলীর সন্ধান চেয়েও খুঁজে পাননি। গত কয়েকদিন আগে এসআই শরীফকে ওই পাগলীর সন্ধান জানান ঝিকরগাছা থানার সামনে হোটেল ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন। 

এরপর রোববার সন্ধ্যার পর জামাল উদ্দিন ওই পাগলীর ঝিকরগাছার কাটাখাল কালিতলার জীর্ণকুঠিরে যেয়ে তাকে দেখে চিনতে পারেন এবং স্থানীয়দের মাধ্যমে

জানতে পারেন পাগলীর নাম হালিমা বেগম। দুইটি সন্তান থাকলেও তারা এলাকার বাইরে থাকায় এবং পাগলীর স্বামী বিল্লাল হোসেন মারা যাওয়ায় সে একাই থাকে ওই কুঠিরে। সোমবার বিকালে জামাল উদ্দিনকে সাথে নিয়ে অসুস্থ হালিমা পাগলীর জন্য কিছু ফল নিয়ে কালিতলা এলাকায় পাগলীর বাড়ীতে যান এস আই শরীফ। 

এ সময় স্থানীয় এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে হালিমা পাগলীর সেই আমানত দশহাজার টাকা তার হাতে তুলে দেন এসআই শরীফ। এ বিষয়ে এসআই শরীফের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি প্রায় দেড় বছর যেন এক অজানা অস্বস্তিতে ভুগছিলাম, আজ দায়মুক্ত হলাম।

Ads
Ads