ইয়াবা সওদাগরদের বোধোদয় : এই আত্মসমর্পণ যেন ‘নাটক’ না হয়

  • ১৯-ফেব্রুয়ারী-২০১৯ ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

কক্সবাজারের টেকনাফে ১০২ জন ইয়াবা কারবারি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে। এর আগে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেধে দেওয়া হয়েছিল তাদের আত্মসমর্পণের জন্য। পৃথিবীর ইতিহাসে বড় বড় মাদক ব্যবসায়ীরা এভাবে আত্মসমর্পণের নজির এই প্রথম। তবে তারা  যে আত্মসমর্পণ করেছেন এটাই এখন সরকারের জন্য বড় কৃতিত্ব। আইন অনুযায়ী ইয়াবা নামের ভয়ঙ্কর মাদক ব্যবসার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এখন তাদের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা আদালতেই নির্ধারিত হবে। আত্মসমর্পণকারীদের ‘মাফিয়া ডন’ বলে পরিচিত বদির ভাইসহ ২৪ জন তালিকাভুক্ত শীর্ষ ইয়াবাকারবারি। আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বদিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। যাতে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানটি বিতর্কিত না হয় সে জন্য সরকারই বদিকে এড়িয়ে গেছে।  

যেহেতু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সকলে আত্মসমর্পণ করেনি সেহেতু বাকিসব মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে অভিযান চলবে। কক্সবাজার ও টেকনাফের পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ কথাই বলা হয়েছে। এখন নতুন করে কেউ আত্মসমর্পণের সুযোগ পাবে না। টেকনাফে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযানের মধ্যেই জানুয়ারিতে আলোচনায় উঠে আসে ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণের বিষয়টি। এর পরপরই গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ইয়াবা কারবারিদের মধ্য থেকে একে একে ১০২ জন আত্মসমর্পণের জন্য পুলিশের কাছে যান। অনানুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণের পর তাদের কক্সবাজার পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয়। পুলিশের হেফাজতে থেকে গত শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তারা আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে ৩০ কেজি ইয়াবা ও ৩০টি অস্ত্র সমর্পণ করেন মাদক কারবারিরা। এ সময় তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। তবে এই ফুল দিয়ে বরণ করার বিষয়টি ইতোমধ্যে গণমাধ্যমসহ জনসাধারণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। কুখ্যাত অপরাধীদের কেন ফুল দিয়ে বরণ করা হবে? সে কারণেই এই অনুষ্ঠানটি ‘নাটক’ কি-না এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের আগে ১০২ জন ইয়াবা কারবারিকে পুলিশ পাহারায় কক্সবাজার পুলিশ লাইনস থেকে সড়কপথে নিয়ে যাওয়া হয় টেকনাফের পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে। তাদের প্রথমে বিদ্যালয়ের একটি দোতলা ভবনে রাখা হয়। এ সময় আত্মসমর্পণকারী ইয়াবা কারবারিদের দেখার জন্য স্বজন ও এলাকার হাজারো মানুষ ভিড় জমান। সরকারের পক্ষ থেকে আভাস দেওয়া হয়েছে আত্মসমর্পণকারী ইয়াবাকারবারিদের প্রতি কিছুটা হলেও নমনীয়তা দেখানো হবে। তবে তাদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা আছে সেগুলো চলবে। মাদক ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণ ইয়াবা আগ্রাসন বন্ধে ভূমিকা রাখলে তা হবে এক বিরাট অর্জন। তবে মাদকের বিরুদ্ধে এই অভিযান আরও অনেক আগে থেকেই শুরু করা উচিত ছিল। মানবদেহে যখন ক্যানসারের বাসা বাঁধে তখনই তার উপযুক্ত চিকিৎসা করানো জরুরি। এটা সব চিকিৎসকদেরই পরামর্শ। যদি রোগটি চরম পর্যায়ে চলে যায় তখন সে রোগের নিরাময়ে চিকিৎসকেরও করার কিছু থাকে না। তা চিকিৎসকদেরই ভাষ্য। তাই বলে কি সে রোগীকে চিকিৎসক ফিরিয়ে দিবে? না, রোগীকে সান্ত¡না দিতেই তার চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যান তিনি। মাদকের বিরুদ্ধে এই অভিযান যেন সেরকমই।

Ads
Ads