হঠাৎ স্কুলে দুদক চেয়ারম্যান, অনুপস্থিত বেশিরভাগ শিক্ষক

  • ২৮-জানুয়ারী-২০১৯ ০১:০৯ পূর্বাহ্ণ
Ads

 

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

দেশের আট জেলার ১১টি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অভিযান চালানোর পর এবার হঠাৎ চট্টগ্রামের তিনটি স্কুল পরিদর্শন করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। ‘চট্টগ্রাম মহানগরীর অধিকাংশ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিয়মিত স্কুলে আসেন না’ এমন একটি সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরই এ পরিদর্শনে গেলেন তিনি।

রোববার (২৭ জানুয়ারি) সকালে নগরীর কাট্টলী নুরুল হক চৌধুরী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাটিয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও শীতলপুর উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন ইকবাল মাহমুদ। এসময় অধিকাংশ শিক্ষকের অনুপস্থিতি ও দায়িত্ব অবহেলাসহ বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছেন তিনি।

পরিদর্শনকালে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, আমাদের সন্তানদের শিক্ষা নিয়ে কাউকেই ছিনি-মিনি খেলত দেওয়া হবে না। যেকোনো মূল্যে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। প্রয়োজনে দুদক দণ্ডবিধির ১৬৬ ধারা প্রয়োগ করবে। তারপরও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্ষতিসাধন করবেন বা করার চেষ্টা করবেন এমন কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

দুদক জানায়, দুদক চেয়ারম্যানের কাছে বিশেষ মাধ্যমে খবর আসে চট্টগ্রাম মহানগরীর অধিকাংশ বিদ্যালয়ে শিক্ষকগণ নিয়মিত স্কুলে আসেন না। বিষয়টি গোপন রেখে দুদক চেয়ারম্যান সকাল ৮.২৫ মিনিটে পৌঁছে যান চট্টগ্রামে। সকাল সোয়া ৯টায় নগরীর কাট্টলী নুরুল হক চৌধুরী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে হাজির হয়ে দেখেন, স্কুলের আটজন শিক্ষকের মধ্যে একমাত্র ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উপস্থিত। বাকি সাতজন শিক্ষকই অনুপস্থিত। ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গনের আশেপাশে আচার-চানাচুর খেয়ে অলস সময় পার করছে। এ সময়ে অভিভাবকগণ দুদক চেয়ারম্যানকে কাছে পেয়ে তাদের সন্তানদের শিক্ষা নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেন।

এর পরপরই দুদক চেয়ারম্যান যান নগরীর ভাটিয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে যেয়ে দেখেন ১১ জন শিক্ষকের মধ্যে দুইজন শিক্ষক অনুপস্থিত। এদের অনুপস্থিতির কারণ স্কুল কর্তৃপক্ষ দুদক চেয়ারম্যানকে জানাতে পারেননি। দুদক চেয়ারম্যান ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি সিট পরীক্ষা করে দেখেন, গতকাল যে সকল শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল তাদের অনেককেই উপস্থিত দেখানো হয়েছে। আবার আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের রোল কল করা হয়নি। এ বিষয়েও স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।

সর্বশেষ দুদক চেয়ারম্যান আকস্মিক পরিদর্শনে যান নগরীর শীতলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করা কোনো শিক্ষার্থীকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় সুযোগ (সেন্ট-আপ) দেয়নি স্কুল কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি অবহিত হয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন দুদক চেয়ারম্যান। তবে নবম শ্রেণিতে এক বা একাধিক বিষয়ে ফেল করা ছাত্র-ছাত্রীদের ২০০০ টাকার বিনিময়ে দশম শ্রেণিতে প্রোমোশন দেওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, এটা অনৈতিক। শিক্ষাক্ষেত্রে অনৈতিকতার কোনো স্থান থাকতে পারে না।

উল্লেখ্য, গত ২১ জানুয়ারি দেশের আট জেলার ১১টি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ১১টি এনফোর্সমেন্ট টিম। ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়া, পাবনা জেলার এসব সরকারি হাসপাতালে একযোগে চালানো অভিযানে ৪০ শতাংশ চিকিৎসককে অনুপস্থিত পায় দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম।

Ads
Ads