ডাকসু নির্বাচন: প্রার্থী দিবে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা

  • ২৩-জানুয়ারী-২০১৯ ১০:২২ অপরাহ্ন
Ads

 

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

দীর্ঘ ২৮ বছর বন্ধ থাকার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের জট খুলছে। সবার অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। যা নিয়ে ইতোমধ্যেই ক্যাম্পাসের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।  এই নির্বাচনে এবার সম্ভাব্য ভোটার ৪০ হাজার।

এই নির্বাচনে অংশ নেবেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।

তবে পরিবেশ ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনে জোটবদ্ধ হওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁদের। সংগঠনটির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে ১৮ জানুয়ারি রাজধানীর পল্টনে মিলিত হন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা। সভার সিদ্ধান্তের বিষয়ে দেশের শীর্ষ এক গণমাধ্যমকে সংগঠনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন জানান, কোটা সংস্কার আন্দোলন ছিল সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি। আমরা তাদের দাবি নিয়ে আন্দোলন করে সফল হয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে আমরা আন্দোলন করেছি, সেখানেও আমরা সফল হয়েছি। এককথায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি আদায় করার জন্য এবং তাদের সব সমস্যায় পাশে থাকার জন্য আমরা কেন্দ্রীয় ও হল সংসদের নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় কোনো ছাত্রসংগঠনেরই তেমন কোনো সফল আন্দোলন সাম্প্রতিক সময়ে নেই। সেদিক থেকে কোটা সংস্কারের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে গড়ে ওঠা এই মঞ্চ দেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর দাবি আদায়ে সমর্থ হয়েছে।

ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কারও কারও মতে, ডাকসু নির্বাচনে আন্দোলনকারীরা অংশ নিলে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ডাকসুর সাবেক ভিপি অধ্যাপক মাহফুজা খানম বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন আর ডাকসু নির্বাচন পুরোপুরি ভিন্ন বিষয়। কোটা সংস্কার আন্দোলনে তাদের পেছনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছিল এবং তারা সফলও হয়েছে এটা সত্য। কিন্তু ডাকসু নির্বাচনে অনেক রাজনৈতিক বিষয় কাজ করে। সে ক্ষেত্রে তারা কতটা সফল হতে পারবে, তা সময়ই বলে দেবে।’

প্রসঙ্গত, ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩৬ বার ডাকসু নিবার্চন হয়েছে। স্বাধীনতার পর গত ৪৮ বছরে মাত্র সাতবার ডাকসু নিবার্চন হয়েছে। ডাকসুর সবের্শষ নিবার্চন হয় ১৯৯০ সালের ৬ জুন। এরপর ৯১, ৯৪, ৯৫ ও ২০০৫ সালে তফসিল, এমনকি নিবার্চনের তারিখ ঘোষণা করা হলেও কিছু সহিংস ঘটনা, সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকা ও ছাত্র সংগঠনের বিরোধিতা ইত্যাদি কারণে তা আর হয়ে ওঠেনি।

 

/কে 

 

Ads
Ads