সরকারের আশ্বাসের পরও আবারো সড়কে পোশাক শ্রমিকরা

  • ৯-জানুয়ারী-২০১৯ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

সরকার নতুন মজুরি কাঠামো পর্যালোচনার জন্য কমিটি করে দিলেও চতুর্থ দিনের মতো মিরপুরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পোশাক শ্রমিকরা।

বুধবার (০৯ জানুয়ারি) সকাল থেকেই কালশী এলাকার সড়কে অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ করছেন। মজুরি কাঠামো বৃদ্ধি ও বাস্তবায়নের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন।

সড়কে অবস্থানের কারণে ওই এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ ছাড়া সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর এবং রাজধানীর উত্তরা ও দক্ষিণখান এলাকায় শ্রমিকদের জড়ো হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের জন্য সরকার ঘোষিত নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ করলেও মালিকপক্ষ তা দিচ্ছে না। নতুন বেতনের দাবি জানালেও উল্টো হুমকি-ধমকি দেয় তারা।

পল্লবী থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, সকাল থেকেই কালশী ২২তলা গার্মেন্টের সামনে শ্রমিকরা জড়ো হতে থাকেন। এর পর মূল সড়কে অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ করছেন। শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

গতকাল মঙ্গলবারও কালশীতে পোশাক শ্রমিকরা অবস্থান নিলে পুলিশের সঙ্গে তাদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

সরকারি মজুরি কাঠামো বৃদ্ধি ও বাস্তবায়নের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরেই আন্দোলন করছেন পোশাককর্মীরা। মঙ্গলবার সাভারে শ্রমিক আন্দোলনে পুলিশ গুলি চালালে সুমন মিয়া (২৫) নামে এক পোশাককর্মী নিহত হন।

এ ছাড়া রাজধানীর দক্ষিণখানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ১০ পোশাক শ্রমিক আহত হন। এদিন রাজধানীর উত্তরায় দুটি গাড়ি একটি পোশাক ভাঙচুর চালান বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। অন্যদিকে দক্ষিণখানে একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা।

টানা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের নতুন সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুন্নজান সুফিয়ান গতকাল মঙ্গলবার বিকালে গার্মেন্ট মালিক, শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন।

দুই ঘণ্টা বৈঠকের পর বেরিয়ে এসে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মনুশি জানান, দেড় মাস আগে ঘোষিত নতুন মজুরি কাঠামো পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

তিনি বলেন, মালিক পক্ষের ৫ জন, শ্রমিক পক্ষের ৫ জন এবং সরকারের বাণিজ্য সচিব ও শ্রম সচিবকে নিয়ে ১২ সদস্যের একটি কমিটি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈঠকে। এই কমিটি আগামী এক মাসের মধ্যে মজুরির অসঙ্গতিগুলো খতিয়ে দেখবে এবং সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নেবে।

শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, যারা ধ্বংসাত্মক কাজ করেছে, তারা শ্রমিক না। তারা এই ট্রেডের বন্ধু না। তাদের কঠোর হাতে দমন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মালিক-শ্রমিক একটা বাই সাইকেলের দুই চাকা। তাদেরকে এক সাথেই এগোতে হবে।

Ads
Ads