আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত: টিআইবি

  • ৩০-Aug-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত খাত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা।

একটি জরিপ শেষে ‘সেবা খাতে দুর্নীতি, জাতীয় খানা রিপোর্ট-২০১৭’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরে টিআইবি।

বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়

প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০১৭ সালে সার্বিকভাবে ৬৬.৫% খানা দুর্নীতির শিকার হয়েছে। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত তিনটি খাত হলো— আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা (৭২.৫%), পাসপোর্ট (৬৭.৩%) ও বিআরটিএ (৬৫.৪%)। 

এ বছর সার্বিকভাবে ঘুষের শিকার হওয়া খানার হার ৪৯.৮%। সর্বোচ্চ ঘুষ গ্রহণকারী তিনটি খাত হলো— বিআরটিএ (৬৩.১%), আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা (৬০.৭%) ও পাসপোর্ট (৫৯.৩%)।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জরিপে অন্তর্ভূক্ত ঘুষ প্রদানকারী খানার ৮৯% ঘুষ দেয়ার কারণ হিসেবে বলেছেন, ‘‘ঘুষ না দিলে সেবা পাওয়া যায় না’’। অর্থাত্ ঘুষ আদায়ে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সার্বিকভাবে খানা প্রতি গড়ে ৫,৯৩০ টাকা ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছে। ২০১৭ সালে জাতীয়ভাবে প্রাক্কলিত মোট ঘুষের পরিমাণ প্রায় ১০,৬৮৮ কোটি টাকা, যা ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের (সংশোধিত) ৩.৪ % এবং বাংলাদেশের জিডিপি’র ০.৫%।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে কোনো কোনো খাতে দুর্নীতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এগুলো হলো— গ্যাস, কৃষি ও বিচারক সেবা। কমেছেও বেশ কয়েকটি খাতে। এগুলো হলো— শিক্ষা, পাসপোর্ট ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান।

২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে সেবা খাতে ঘুষের শিকার খানার হার কমলেও ঘুষ আদায়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

জরিপের উত্তরদাতাদের মতামতের উপর ভিত্তি করে টিআইবি ১২টি সুপারিশ দিয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম—

* দুর্নীতি প্রতিরোধে সকাল পর্যায়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও তার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

* ‘তথ্য অধিকার আইন ২০০৯’ ও ‘তথ্য প্রকাশকারীর সুরক্ষা আইন ২০১১’ এর কার্যকর বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ সকল অংশীজনের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

* বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সেবাদানের সাথে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়নের ভিত্তিতে পুরস্কার ও তিরস্কার বা শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

* সেবাখাতে দুর্নীতি প্রতিরোধে বিভাগীয় পদক্ষেপের পাশাপাশি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ  কার্যকর করতে হবে।

* প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের সাথে সামজ্ঞস্য রেখে সুদৃঢ় নৈতিক আচরণবিধি প্রণয়ন ও প্রয়োগ করতে হবে। এর ভিত্তিতে জবাবদিহিতার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

* সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গণশুনানির মতো জনগণের অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে হবে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, নির্বাহী ব্যবস্থাপনা পরিষদের উপদেষ্টা ড. সুমাইয়া খায়ের, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি’র পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। এছাড়া মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষণা ও পলিসির সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. ওয়াহিদ আলম, একই বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ফারহানা রহমান ও ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোহাম্মদ নূরে আলম।

/ই

Ads
Ads