সুশীল সমাজের বৈঠক: নির্বাচন বানচালে সক্রিয় সুশীল সমাজ

  • ৫-Dec-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

গত ১ ডিসেম্বর দৈনিক প্রথম আলো, প্রথম পাতায় একটি খবর প্রকাশ করে। খবরের শিরোনাম ছিল ‘সবার জন্য সমান সুযোগ এখনো অনেক দূরে। ‘হাউস অব কমন্স’ এর প্রতিবেদন।

পরদিন প্রথম পাতায় প্রকাশিত খবরের ব্যাখ্যা শিরোনামে আরও একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে যেখানে ৩০ নভেম্বরে অনলাইনে প্রকাশিত ওই খবরটি সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। পরে ব্রিটিশ হাউস অব কমন্স থেকে জানানো হয় যে, বাংলাদেশ বিষয়ে সেখানে কোন আলোচনা হয়নি, এমনকি কোন প্রতিবেদনও তৈরি করা হয়নি। আসলে এটা হাউস অব কমন্সের লাইব্রেরি শাখা থেকে তৈরি করা বাংলাদেশ সংক্রান্ত খবরের সারমর্ম (সামারি)।

শুধু এই একটি প্রতিবেদন নয়, ১ ডিসেম্বরই প্রথম পাতায় ড. শাহদীন মালিকের একটি অভিমত প্রকাশিত হয়, যার শিরোনাম ছিল ‘বেড়াতে গেছে আচরণবিধি’। ঐদিন শুরুতে তরুণ ভোটার শিরোনামে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে সাত বছরে তরুণ ভোটারের হার বেড়েছে দ্বিগুণ। ভেতরে এ সম্পর্কে এক লাইনে বলা হয়েছে তথ্যটি আইএলও’র প্রতিবেদন অনুযায়ী। কিন্তু আইএলও কবে, কোন রিপোর্টে এই তথ্য দিয়েছে সে সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই।

প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার যেন বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্টকে নির্বাচন থেকে সরাতে আদাজল খেয়ে লেগেছে। গত ৪ দিনে এই দুটি পত্রিকা জুড়ে নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা, বিএনপি প্রার্থীদের প্রতি ‘অবিচারের’ হাহাকার। ভাবখানা এমন, তোমরা কি করতে নির্বাচন করছো?

২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসার ক্ষেত্রে এই পত্রিকা দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছিল। প্রথম আলো সম্পাদক ছিলেন মাইনাস টু ফরমুলার জনক। স্বনামে লেখা তাঁর এক কলামের শিরোনাম ছিল ‘দুই নেত্রীকে সরে যেতে হবে।’ ঐ সময় মাহফুজ আনাম সম্পাদিত ডেইলি স্টার এক প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মনগড়া অভিযোগ ছেপেছিল। পরে এক টেলিভিশন টকশোতে মাহফুজ আনাম স্বীকার করেছিলেন যে, ডিজিএফআইয়ের এর পাঠানো তথ্য তিনি যাচাই বাছাই না করেই ছেপেছিলেন।

এই প্রভাবশালী দুই সংবাদপত্র এখন এমন এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাইছে, যাতে বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্ট শেষ পর্যন্ত নির্বাচন বর্জন করে।

এটা হলো সুশীলদের পরিকল্পনার প্রকাশ্য অংশ। আর গোপনে তারা একের পর এক বৈঠক করছেন বিএনপি এবং গণফোরোমের নেতাদের সঙ্গে। নিজেরাও প্রায় প্রতিদিনই বৈঠক করছেন। সুশীল সমাজের একটি অংশ সক্রিয়। তাদের লক্ষ্য একটাই নির্বাচন বানচাল করা। তারা মনে করছেন, বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্ট যদি নির্বাচন থেকে সরে আসে। তাহলে আবার ২০০৭ সালের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।

নির্বাচন বানচালে তাই বিএনপি ফ্রন্টকে তারা বোঝাচ্ছে। জানা গেছে, গত শুক্র এবং শনিবার সুশীলদের দু’দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ড. শাহদীন মালিকসহ বেশ ক’জন উপস্থিত ছিলেন। দুই সম্পাদক সম্প্রতি ড. কামাল হোসেনের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। ড. কামাল হোসেনকে তারা বলেছেন, এই নির্বাচনে বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্টের জয়ের কোনো সম্ভাবনা নেই। নির্বাচন না হলে অনির্বাচিত সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পথ উন্মুক্ত হবে, সেজন্যই এখন বিরামহীন প্রয়াস চালাচ্ছে সুশীলদের এই অংশ।

Ads
Ads