যে কারণে বিএনপির ওপর ক্ষেপেছে যুক্তরাষ্ট্র!

  • ৪-Dec-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

ভোরের পাতা ডেস্ক

নির্বাচনকেন্দ্রিক তৎপরতায় বিএনপির পক্ষে অবস্থান নিলেও সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। নানা আশ্বাসের পর হঠাৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এমন অবস্থান নিয়ে বিপাকে পড়েছে বিএনপি। জানা গেছে, সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপিত এক বিলে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে জামায়াত এবং হেফাজতকে ঠেকানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

ক’দিন আগেও মার্কিন দূতাবাসের কাছেই বিএনপি অকাতরে তাদের অভিযোগ-আর্জি উপস্থাপন করতো। এমনকি বিএনপিকে নির্বাচনমুখী করতে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের ক্ষেত্রে মার্কিন দূতাবাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলেও কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়। এদিকে সদ্য বিদায় নেওয়া মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকাটও এখতিয়ার না থাকলেও বিএনপির পক্ষেই কথা বলা শুরু করেছিলেন। শুধু ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসই নয়, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও বিএনপিকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিতে আহ্বান জানিয়েছিলো। সেই মার্কিন প্রশাসনই এখন বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। হঠাৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রূপ বদলে বিএনপিও হতবাক। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কোন রাখ-ঢাক না রেখেই মার্কিন নীতির সমালোচনা করেছেন। কিন্তু রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়ে নানা প্রশ্ন। কেন বিএনপি থেকে মুখ ফেরালো মার্কিনীরা? কেন মার্কিন প্রশাসন তার অবস্থান পরিবর্তন করল। কূটনৈতিক মহলে আলোচনা করে এর কয়েকটি কারণ জানা গেছে। এগুলো হলো:

প্রথমত, বারবার মার্কিন অনুরোধ সত্ত্বেও বিএনপি জামায়াতকে ত্যাগ করেনি। এমনকি ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হওয়ার পরও বিএনপি শুধু জামায়াতের কারণেই ২০ দল বিলোপ করেনি বলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনে করে। সর্বশেষ নির্বাচনী মনোনয়নে জামায়াতের ২০ জন প্রার্থীকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার বিএনপির সিদ্ধান্তে হতাশ হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

দ্বিতীয়ত, যুদ্ধাপরাধীদের সন্তান এবং জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত বেশ ক’জনকে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রশাসন উদ্বিগ্ন। এর প্রেক্ষিতেই বিএনপি বিরোধী অবস্থানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

তৃতীয়ত, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই সম্প্রতি নাইকোর ঘুষ নিয়ে এক তদন্ত প্রতিবেদন বাংলাদেশ সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। ওই তদন্ত প্রতিবেদনে বেগম খালেদা জিয়ার ঘুষ গ্রহণের প্রমাণ পেয়েছে এফবিআই। ওই তদন্ত রিপোর্ট মার্কিন প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দিয়েছে বলে জানা গেছে। বিএনপির বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতির অভিযোগগুলো মিথ্যে নয়, এই উপলব্ধিতে মার্কিনীদের অবস্থান পাল্টে গেছে।

চতুর্থত, ড. কামাল হোসেনকে যথাযথ মর্যাদা ও সম্মান দেয়নি বিএনপি। বার্নিকাট দেশ থেকে বিদায়ের আগেও বিএনপি মহাসচিবকে অনুরোধ করেছিলেন, ড. কামালকে যেন নির্বাচনে আনা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ড. কামাল হোসেন নির্বাচনে না আসায় মার্কিন প্রশাসন বিএনপির প্রতি আস্থা সরিয়ে নিয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় তৈরি হওয়া সংকটে বিএনপি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আরও কিছু প্রশ্নবিদ্ধ হলো বলেই মনে করছে রাজনীতি সচেতন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

Ads
Ads