বয়স হয়েছে, আমি হয়তো নির্বাচন করবো না : ড. কামাল

  • ৭-Sep-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

গণফোরামের সভাপতি ও সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘আমার বয়স আশির কাছাকাছি। এখন আমি ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচন করবো না হয়তো, কিন্তু যাদের বয়স ৬০ হয়ে গেছে, তারা অনেক পরিপক্ষ হয়েছে, তাদের এখন এগিয়ে এসে নেতৃত্ব দেয়া উচিৎ।’

বৃহস্পতিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ের টক শো ‘তৃতীয় মাত্রা’য় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি নিজে কিছু হবো এই চিন্তাটা আমার নাই। কারণ আমারতো বয়স হয়ে গেছে। আমি গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য সহায়তা করতে চাই।’

যুক্তফ্রন্ট সম্পর্কে ড. কামাল বলেন, ‘এখানে জামায়াত ছাড়া সব দলই আসতে পারে। এখানে দলীয় রাজনীতির বিধান হচ্ছে না, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের সব বিধান প্রতিষ্ঠার করার জন্যই এই জোট। সবকিছু ঠিক থাকলে বিএনপির সঙ্গেও আমাদের জাতীয় ঐক্য হতে পারে।’

জোটের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানাতে গিয়ে গণফোরাম সভাপতি বলেন, ‘গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করা দরকার বলে মনে করি। সংবিধানের কিছু সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে, এছাড়াও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্যও সংস্কার প্রয়োজন। এদেশে গণতন্ত্রের পক্ষে মানুষের ঐকমত্য রয়েছে, যা আমাদের জন্য প্লাস পয়েন্ট। যখন গণতন্ত্র থাকে না, তখন যেসব ক্ষতি হয় সেটা আমরা হাড়েহাড়ে উপলব্ধি করেছি এবং করছি।’

ড. কামাল বলেন, ‘জনগণের ওপর আস্থা নিয়ে আমরা যুক্তফ্রন্টের উদ্যোগ নিয়েছি। কারণ দেশে যেকোনো সংকট হলেই জনগণ তা মোকাবেলা করেছে সফলভাবে। সেটা ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধের সফলতার মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে। বাঙালি কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে না, ঐক্যবদ্ধভাবে তা মোকাবেলা করে এবং সফল হয়।’

‘সুস্থ রাজনীতির কোনো বিকল্প নাই। দুঃখজনক হলেও সত্য দেশে সুস্থ রাজনীতিকে ঠেলে সরানো হয়েছে, অন্যদিকে রুগ্ন রাজনীতিকে সামনে আনা হয়েছে, যার প্রমাণ হলো গত পাঁচ বছর দেশে কোনো নির্বাচন হয়নি। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনকে ঘিরে আমাকে কোর্টে ডাকা হয়েছিল। তখন আমি বলেছিলাম সরকারতো নিজেরাই বলেছেন একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্বাচন হয়েছে, সবার সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে খুব দ্রুতই আরেকটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেবে, তাই এই বিষয়টা নোট করে মামলা ডিসপল করে দিতে পরামর্শ দিয়েছিলাম। তখন আমি সরল মনে কোর্টকে বলেছিলাম, হয়তো অনেক বেশি সরল হয়ে গিয়েছিলাম তখন। কিন্তু তারা এক বছর করে পুরো পাঁচ বছর কাটিয়ে দিলো। আগামী ডিসেম্বরে হয়ত একটা নির্বাচন হতে পারে।’

কামাল হোসেন বলেন, ‘আমি চাইবো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি নির্বাচন হোক, সেখানে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই তাদের ক্ষমতা গ্রহণ করবে। যেটা সংবিধানে রয়েছে। তবে আশঙ্কার কথা হলো, পাঁচ বছরে বিধানগুলো থাকা সত্ত্বেও আসলে কী হলো? জনগণ কেন নীরব রয়েছে এটাও বড় আশঙ্কার কারণ।’

বিমসটেক সম্মেলন থেকে দেশে ফিরে যুক্তফ্রন্ট নেতাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে কামাল হোসেন বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনের ফলাফলের বিষয়টা যদি প্রধানমন্ত্রীর মাথায় থাকতো তাহলে তিনি ওইদিন সংবাদ সম্মেলনে আমাদের নিয়ে কথা বলতেন না। কারণ ২০০৮ সালে এক কোটি ৩৪ লাখ ভুয়া ভোটার বাতিলে মামলায় ওকালতনামায় তার স্বাক্ষর নিয়ে মামলায় লড়েছিলাম এবং বাদ দেয়া হলো। ভুয়া ভোটার বাদ দেয়া না হলে তিনি এই ফল পেতেন না। ওই সময় আমাদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা হয়েছিল, যা থেকে আমরা ২০১০ সালে খালাস পেয়েছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘যখন আমার দেশের বাহিরে যাওয়া নিয়ে কথা উঠেছে তখন আমি নিজেই চাচ্ছি যে, বাহিরে যাওয়া একদম জিরো করে দিতে। এমনিতো যাওয়া আসাতে একটু ক্লান্তি হয়, তাই এখন আমার তেমন আগ্রহও নাই।’

Ads
Ads