অবশেষে থলের বিড়াল মিঁউ করে বেরিয়ে পড়েছে: কাদের

  • ৫-Aug-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমরা গতকাল বলেছিলাম আমীর খসরুর বক্তব্যে প্রমাণ হয়েছে বিএনপি অরাজনৈতিক একটা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রঙ, রূপ দিতে চলেছে। আর মির্জা ফখরুল ইসলাম সেই বক্তব্যে সমর্থন দিয়ে প্রমাণ করলেন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের অরাজনৈতিক আন্দোলনকে ঘিরে বিএনপির ষড়যন্ত্র প্রমাণ হয়েছে। অবশেষে থলের বিড়াল মিঁউ করে বেরিয়ে পড়েছে। এটা এখন আর কোন গোপন বিষয় নয়। বিএনপি ও তাঁর দোসর সাম্প্রদায়িক অপশক্তি জামায়াত একেকবার একেক আন্দোলনের উপর ভর করছে।

রোববার (০৫ আগস্ট) বিকালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সব কথা বলেন।

কাদের বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ অফিসে নাকি সাতজনকে আটকে রেখে আহত করা হয়েছে। গতকালকে ফেসবুকের ভিডিও পোস্টের প্রতি সমর্থন জানিয়ে, তিনি প্রমাণ করেছেন যে ভিডিও পোস্টের অপপ্রচার সঙ্গে মির্জা ফখরুল ও বিএনপির সংযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা এটাও এখন মনে করছি যে মেয়েটা বলেছিল ‘আওয়ামী লীগ অফিসে আমি ধর্ষিত হচ্ছি, আমাকে বাঁচান’, আমাদের এখন বিশ্বাস করছি এই ভিডিও পোস্টিং এর সঙ্গে বিএনপি জড়িত’।

আওয়ামী লীগ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা করার জন্য বিএনপি জামায়াত তাদের ছাত্র সংগঠনকে দিয়ে আক্রমণ সাজিয়েছিল। আজকেও অফিসের পিছন থেকেও আক্রমণ করার চেষ্টা হয়েছিল। এটা আপনারাসহ (সাংবাদিক) অনেকেই দেখেছেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আওয়ামী লীগ অফিসে হামলার নির্দেশ দিয়ে আওয়ামী লীগের উপর দোষ চাপাচ্ছে।

'আওয়ামী লীগ অফিস শেখ হাসিনার অফিস। এখানে হামলা করার দুঃসাহস দেখিয়েছে’-বিস্ময়ভরা কণ্ঠে বলেন আওয়ামী লীগ নেতা।

হামলার বিষয়ে কোন আইনে ব্যবস্থা নেবেন কি না এমন প্রশ্নে কাদের বলেন, আমরা অবশ্যই এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছি। এটা আমাদের দলীয় ফোরামে আলোচনা হবে। আরও একটু পরিস্থিতি দেখি, আমরা আইনি পদক্ষেপ নেব।

দলীয় নেতা-কর্মীদেরকে কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী আহ্বানে সাড়া দিয়ে এখন ধৈর্য ধরতে হবে এবং পরবর্তী সময়ে কোন কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, সেই জন্য সতর্কভাবে সবাইকে অপেক্ষা করার জন্য আহ্বান করছি। এখানে কোনভাবে আমরা আক্রমণকারী হিসাবে আমরা চিহিৃত হতে চাই না। আমরা ক্ষমতায় অছি, আমরা দেশে শান্তি চাই। ক্ষমতায় থেকে অশান্তি কেন চাইব?

কোনো প্রকার প্রতিকূল পরিস্থিতি আসলে তার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশও দেন কাদের। তবে বাহিরে কোন প্রকারের উস্কানিতে না পরার বিষযে সতর্ক করেন তিনি।

এর আগে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলার প্রসঙ্গ ধরে তিনি রোববার সকালে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে বলেছিলেন, “এখন আপনি রাস্তায় দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ অফিসের দিকে গোলাগুলি করতে করতে আসবেন, তাদের কে কি বল প্রয়োগ করবে না? চুমু খাবে?”

তারপর বিকালে ধানমণ্ডির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসার পর সকালের বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা করলে আমরা কি চুমু খাব, এ বক্তব্যে কেউ কষ্ট পেলে দুঃখপ্রকাশ করছি। এ বক্তব্য মুখ ফসকে বের হয়ে গিয়েছে। রাজনীতিতে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারও হয়, কিন্তু কেউ আমার কাছে আশা করে নাই।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামীকাল সড়ক পরিবহন আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হবে। এটা পরবর্তীতে সংসদে পাস হবে। নয়দফা দাবির যেগুলো আইনি কারণে বাস্তবায়ন হয়নি, তাও হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, একেএম এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া।

/ই

Ads
Ads