আজ বিজিবি দিবস: জাতীয় প্রয়োজনে আস্থার প্রতীক

  • ১৯-Dec-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

আজ বিজিবি দিবস। বাংলাদেশ সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যা দুশ ২৩ বছরের একটি ঐতিহ্যবাহী আধা সামরিকবাহিনী। মহান মুক্তিযুদ্ধে যে বাহিনীর অবিস্মরণীয় অবদান রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ এবং বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফসহ এ বাহিনীর ৮১৭ জন অকুতোভয় সদস্য আত্মোৎসর্গ করে দেশপ্রেমের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। টাঙ্গাইলের ‘বাঘা সিদ্দিকী’ নামে খ্যাত বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীও ছিলেন এ বাহিনীর সদস্য।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পূর্বে এর নাম ছিল ইপিআর অর্থাৎ ইস্ট পাকিস্তান রাইফেল্স। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে এর নাম হয় ‘বাংলাদেশ রাইফেলস। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানা সদর দফতরে বিডিআরের কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল জওয়ান সংঘটিত করে ইতিহাসের বিভীষিকাময় নারকীয় হত্যাকা-। কিন্তু বিডিআর আইনে দোষীদের নগণ্য শাস্তির বিধান থাকায় আইন পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ফলে এই বাহিনীর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

বিজিবিকে আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আইন-২০১০’ পাশ করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজিবি’র নতুন সাংগঠনিক কাঠামো ও জনবলের প্র্রাধিকার বৃদ্ধিসহ পদবি কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। বাহিনীর কর্মকান্ডে গতিশীলতা বৃদ্ধির জন্য ৫টি রিজিয়ন সৃজনের মাধ্যমে কমান্ড স্তর বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে।

বিজিবি শুধু দেশের সীমান্ত রক্ষাতেই সীমাবদ্ধ নয়, দেশের যেকোনো সংকটকালে, দুর্যোগে, দুর্বিপাকেই নিবেদিতপ্রাণ। বর্তমানে দেশে একাদশ জাতীয় নির্বাচনকালীন সময় চলছে। ইতোমধ্যেই এ নির্বাচন ঘিরে যাতে কোনো অচলাবস্থার সৃষ্টি না হয় সে জন্য বিজিবিকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে গতকাল বুধবার ঢাকাসহ সারাদেশে জেলা পর্যায়ে ১ হাজার ১৬ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করায় আমরা আশা করি, অতীতে যেমন এই আধাসামরিক বাহিনী বিশ্বস্ততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে এবারও তার কোনো অন্যথা হবে না। এবারের নির্বাচন এমনিতেই নানা দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। তা হচ্ছে, এবারই প্রথম একটি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। কাজেই এহেন পরিস্থিতিতে বিজিবির দায়িত্ব আরো গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মানুষেরও এই আধা সামরিক বাহিনীর ওপর অগাধ আস্থা রয়েছে। যে আধা সামরিক বাহিনী পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে বাংলার নিপীড়িত নিষ্পেষিত জনগণের পক্ষে অকুতোভয়ে বুক পেতে দিয়েছিল সে বাহিনীর উপর দেশের মানুষের আস্থা এখনো আছে। যদিও মাঝখানে পিলখানার ঘটনায় তাদের ওপর সে আস্থায় কিছুটা চিড় ধরেছিল। কিন্তু বিজিবি নামকরণের পর এবং বর্তমান সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এই বাহিনী ইতোমধ্যেই মানুষের আস্থা অর্জনে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আমরা আশা করি, এবারের নির্বাচনেও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে বিজিবি প্রত্যাশিত সহায়ক হিসেবে কাজ করে জনগণের আস্থার প্রতিদান দিতে কোনো কসুর করবে না।

Ads
Ads