করোনাভাইরাস: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় গাফিলতি কাম্য নয়

  • ২৮-জানুয়ারী-২০২০ ১০:৩৩ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

করোনাভাইরাসের কারণে গোটা বিশ্বই এখন আতঙ্কগ্রস্ত। এ  রোগে মানুষের মৃত্যুতে ভয়ের মাত্রা বেড়ে গেছে। তবে করোনাভাইরাস থেকে বাঁচার উপায়ও খোঁজা হচ্ছে। অবলম্বন করা হচ্ছে সতর্কতা। যেকোনো রোগের হাত থেকে বাঁচার প্রাথমিক উপায় হলো সতর্কতা বা সচেতনতা গ্রহণ । রোগটি যাতে বাংলাদেশে ছড়িয়ে না পড়তে পারে তার জন্য আগাম সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর এবং বিদেশের সাথে যোগাযোগ রক্ষাকারী স্থল বন্দরসমূহ কড়া নজদারিতে আনা হয়েছে। এটি নেওয়া হয়েছে চীনে করোনাভাইরাসে মানুষের মৃত্যুর ঘটনা জানাজানি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে। তবে রোগটির বিস্তার ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছেন। গত সোমবার এ ব্যাপারে তিনি দায়িত্বশীলদের সচেতন করে দেন। গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, চীনে যেসব বাংলাদেশি রয়েছেন, তারা যদি ইচ্ছে পোষণ করেন তাহলে সরকার তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সহযোগিতা করবে। প্রধানমন্ত্রী চীন থেকে বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে এরকম নির্দেশনাই দিয়েছেন। এবং দেশের মধ্যে করোনাভাইরাস যাতে ছড়িয়ে পড়তে বা প্রবেশ করতে না পারে তার জন্য আগাম সতর্কতার বিষয়টি আমলে নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। ভাইরাসটির  বিস্তার প্রতিরোধে দায়িত্বশীলদের করণীয় সম্পর্কেও তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন।  

করোনাভাইরাস একটি রহস্যময়  রোগ। এ রোগে ইতোমধ্যে সর্বশেষ খবর অনুযায়ী চীনে ৮১ জন মারা গেছেন। রোগটি চীন ছাড়াও বিভিন্ন দেশে ধরা পড়েছে।গত সোমবার রাজধানী ঢাকার একটি হাসপাতালে এক চীনা নাগরিক করোনাভাইরাস সন্দেহে নিজেই ভর্তি হয়েছেন। তবে আমরা মনে করি এই রোগে আতঙ্কিত না হয়ে ধীরস্থিরভাবে তা মোকাবিলা করাই বুদ্ধিমানের কাজ। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বহুবিধ কারণে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকা-ে দেশটি বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সৃদৃঢ় থাকায় উভয়  দেশের নাগরিকরা  নিয়মিত আসা-যাওয়া করে থাকেন। ফলে চীনের নাগরিকরা  বাংলাদেশে আসলে তাদের ব্যাপারে বিশেষ সতর্ক থাকাটা জরুরি বলে আমরা মনে করি। তাদের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষাও জরুরি। অন্যদিকে যেসব বাংলাদেশি করোনাভাইরাসের ভয়ে চীন ছেড়ে দেশে আসবেন তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে। যেহেতু রোগটি মানুষ থেকে মানুষে ছড়াচ্ছে মানে মানুষই এই রোগের বাহক সে কারণে রোগটি ছড়ানোর বিষয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আমরা আশা করি রহস্যময় রোগটির ব্যাপারে বাংলাদেশের দায়িত্বশীল বিভাগ তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সব্র্ােচ্চ নিষ্ঠার সাথে পালন করবে। রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু থাকবে না। এ জায়গাটিতে কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখানো ঠিক হবে না। আর কারণেই সম্ভবত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। গণমাধ্যমগুলোর খবর পরিবেশন থেকে জানা যায়-
চীনে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাস কোনোভাবেই দেশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

সোমবারও প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার বৈঠকে ভাইরাসটি যেন  কোনোভাবেই বাংলাদেশে আসতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে রোগটির সংক্রমণ ঠেকাতে বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি এই মুহূর্তে প্রয়োজনে বাংলাদেশ থেকে চীনে ও চীন থেকে বাংলাদেশে সব ধরনের ভ্রমণ সাময়িক স্থগিত করা। যা সরকারের বিবেচনায় আছে বলে সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা গেছে।  বিশেষ করে চীনের কোনো ব্যবসায়ী দলকে এই মুহূর্তে দেশে না আসার পক্ষে মত দিয়েছে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ। 

গণমাধ্যমের খবরে আরও জানা যায়,  চীনে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের মধ্যে যারা  দেশে ফিরতে ইচ্ছুক, তাদের ফিরিয়ে আনতে ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে যে উহান শহরে সবচেয়ে বেশি প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, সেখানকার বাংলাদেশিদের নিবিড় তদারকিতে রাখা হয়েছে। ফিরতে চাইলে সরকার তাদের জন্য বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করবে। ভবিষ্যতে কোনো  রোগী শনাক্ত হলে তার  থেকে যেন ভাইরাসটি অন্যদের সংক্রমিত করতে না পারে,  সেজন্য আক্রান্তদের চিকিৎসায় দেশের সব  জেলা সদর ও রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে বিশেষ ‘আইসোলেশন ইউনিট’ খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিদ্ধান্তগুলো সঠিক এবং সময়োপযোগী বলে আমরা মনে করি। আগাম সকর্ত অবস্থানের কারণে রোগটির বিস্তার বাংলাদেশে ঘটবে না। এবং যেসব জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তাতে যেন কোনো ধরনের গাফিলতি পরিলক্ষিত না হয় সেদিকে দায়িত্বশীলদের কড়া নজরদারির দরকার আছে।

পরিশেষে আমরা বলতে চাই, করোনা ভাইরাসের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার নির্দেশগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হবে। মানুষের মন থেকে রোগটির ব্যাপারে যে ভয়-আতঙ্ক বিরাজ করছে তা সহসাই দূর হবে।


 

Ads
Ads