পুঁজিবাজার সংকট: প্রধানমন্ত্রীর ছয় নির্দেশনা বাস্তবায়ন এখন চ্যালেঞ্জ 

  • ১৮-জানুয়ারী-২০২০ ১০:২৮ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

আমাদের পুঁজিবাজার নিয়ে পানি কম ঘোলা হয়নি। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারী বহুলোক সর্বস্বান্ত হয়েছেন, এক কথায় পথে বসেছেন। এ চিত্র ছিল কয়েক বছর আগের। তার রেশ  যে এখনও চলছে না তা কে অস্বীকার করবে। বলা চলে কয়েক বছর আগে অসৎ ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে পুঁজিবাজারে চরম ধস সৃষ্টি হওয়ায় এটি নিয়ে দেশের মানুষ আস্থাহীনতায় পড়েন। সে সময় পুঁজিবাজারের  তেজি অবস্থা দেখে শত শত মানুষ অর্থ বিনিয়োগ করেছিল। শেয়ার কিনেছিল। শেয়ার ক্রয়কারীরা ভেবেছিলেন তারা পর্যাপ্ত লাভের মুখ দেখবেন। তবে কিছু মানুষ যে লাভের মুখ  দেখেননি তা নয়, দেখেছেন অনেকে। কিন্তু  বেশির ভাগ মানুষ পুঁজি খুইয়ে পথে বসে যান। তারা আর দাঁড়াতে পারেননি। এমনটি হওয়ার জন্য দায়ী ছিল কিছু অসৎ, অতিমুনাফালোভী ব্যবসায়ী। তাদের কারসাজির কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুঁজিবাজারের প্রতি সাধারণ মানুষও আস্থার সংকটে পড়েন। তবে আমরা মনে করি, আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য দায়িত্বশীলদের ভূমিকা রাখতে হবে। অসৎ ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে যেসব অসৎ ব্যবসায়ীদের কারণে বিগত দিনে পুঁজিবাজার সংকটের মুখে পড়েছিল, সেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে  জোরালো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অথচ সবার দাবি ছিল তাদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা। আমরা অবশ্য এখনও আশা ছাড়িনি। এদের জোরালো শাস্তির আওতায় আনা গেলে পুঁজিবাজার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সাহস পাবে না কেউ। 

সরকার অবশ্য পুঁজিবাজারের ভাল অবস্থাটিই  দেখতে চায়। এটি ভঙ্গুর অবস্থায় পড়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলুক, তা মোটেই চায় না। ইতিপূর্বে সরকার অবশ্য পুঁজিবাজারে সংকট সৃষ্টির জন্য যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা  নেওয়ার কঠোর প্রতিশ্রæতি ব্যক্ত করেছে। এ ব্যাপারে কিছু পদক্ষেপও নেওয়া হয়। তবে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী ছয়টি বাস্তবসম্মত দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা আশা করি এতে পুঁজিবাজার উন্নয়ন ঘটবে। বিনিয়োগকারীরা উপকৃত হবেন। পুঁজিবাজার নিয়ে আগের যে তিক্ত অভিজ্ঞতা তাদের রয়েছে তার তিরোধান হবে। পুঁজিবাজার নিয়ে ইচ্ছেমাফিক কেউ খেলার সাহস করবে না। এ ব্যাপারে অবশ্য অর্থমন্ত্রীকেও সজাগ থাকতে হবে। তাকেও কর্মতৎপর হতে হবে। সকল পুঁজিবিনিয়োগকারীর স্বার্থের দিকটি বিবেচনায় নিয়ে প্রজ্ঞানির্ভর পদক্ষেপ নিতে হবে। আমাদের বর্তমান অর্থমন্ত্রী বেশ প্রজ্ঞাবান একজন মানুষ। তিনি দেশের বর্তমান অর্থনীতির গতি-প্রবাহ সম্পর্কে যেমন সজাগ রয়েছেন, পাশাপাশি বহির্বিশ্বের অর্থনীতির ভাল অবস্থা ও মন্দাবস্থা সম্পর্কেও যথেষ্ট ওয়াকিবহাল রয়েছেন। একজন  যোগ্য অর্থমন্ত্রী বলেই তার এ বিষয়ে নজর রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি যথেষ্ট সবল। অতীতের সব গøানি মুছে আমাদের অর্থনীতির চাকা তীব্রগতিতে ধাবমান। বিশ্বের অর্থনীতির পরাশক্তিগুলো বাংলাদেশকে সমীহ করে চলছে। এর কারণ একটাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফল রাষ্ট্র পরিচালনা। তিনি দূরদৃষ্টিসম্পন্ন একজন রাষ্ট্রনায়ক। তার  নেতৃত্বে বাংলাদেশ ক্রমশঃ অর্থনৈতিক পরাশক্তির কাতারে যুক্ত হতে চলছে।  দেশের মানুষের আর্থ-সমাজিক অবস্থার যে উন্নতি ঘটেছে তা একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বদৌলতে। এ অবস্থার আরও ক্রম-উন্নতি ঘটবে পদ্মা সেতু, পায়রা নৌবন্দর, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ আরও  যেসব উন্নয়নমূলক কর্মকাÐের কাজ চলছে, এগুলো  শেষ হলে আমাদের অর্থনীতির চাকা আরও গতিশীল হবে। দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান আরও ঊর্ধ্বমুখী হবে। এ ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারের যে বিশেষ ও জোরালো ভূমিকা রয়েছে, তা, সবাইকে অনুধাবন করতে হবে। আর এ জন্য

পুঁজিবাজারের ভিত্তিমূলকে দৃঢ়তা দিতে কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়নে কোনো  হেলাফেলা করা যাবে না। প্রধানমন্ত্রী পুঁজিবাজার নিয়ে যে নির্দেশনা দিয়েছেন অতিসত্বর তার বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নীতিনির্ধারণী সভায় স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়। পুঁজিবাজারে ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়ানোসহ স্বল্পমেয়াদি কিছু পদক্ষেপ অচিরেই বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনাও দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনারগুলোর মধ্যে রয়েছে- পুঁজিবাজারে ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়ানো, মার্চেন্ট ব্যাংকার ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য কতিপয় সহজ শর্তে ঋণ সুবিধার ব্যবস্থা করা, আইসিবির বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়ানো, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা ও দেশীয় বাজারে আস্থা সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা  নেওয়া, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া এবং বাজারে মানসম্পন্ন আইপিও বাড়াতে বহুজাতিক ও সরকারি মালিকানাধীন লাভজনক কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্তকরণের উদ্যোগ নেওয়া। পর্যায়ক্রমে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সে বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পুঁজিবাজার সংক্রান্ত এই যে পদক্ষেপ তা সময়ের দাবির প্রতিফলন বলেই আমরা বিশ্বাস করি। প্রধানমন্ত্রী যে কতটা দূরদৃষ্টিসম্পন্ন পুঁজিবাজার নিয়ে তার নির্দেশনা ও পদক্ষেপগুলোই প্রমাণ করে। পরিশেষে আমরা বলতে চাই, কালবিলম্ব না করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাগুলো ত্বরিত বাস্তবায়ন করা হোক। এরফলে এ ক্ষেত্রটিতে যে আস্থাহীনতা  তৈরি হয়েছিল তাও দ্রæত কেটে যাবে। ঘুরে দাঁড়াবে এটি। সব সময় বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে থাকবে পুঁজিবাজার । 

Ads
Ads