গণতান্ত্রিক উৎসবে বিতর্ক জিইয়ে রাখা ঠিক নয়

  • ১৭-জানুয়ারী-২০২০ ১০:০৮ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

ভোটের দিন সরস্বতী পূজা হওয়ায় ঢাকা সিটি নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনে আন্দোলন চলছে। এই আন্দোলনে শরিক হয়েছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র প্রার্থীরাও। নির্বাচন কমিশনকে পূজার বিষয়টি বিবেচনায় রাখার অনুরোধ জানান উত্তর সিটির আওয়ামী লীগ প্রার্থী আতিকুল ইসলাম, বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়াল এবং দক্ষিণ সিটির বিএনপি প্রার্থী ইশরাক হোসেন। আর নির্বাচন কমিশন যদি ভোটের তারিখ বদলায় তাতে সরকারের আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ৩০ তারিখের বিরোধিতা করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। সংগঠন দুটি বলেছে, সরস্বতী পূজার দিনে ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আপামর সংখ্যালঘু সম্প্রদায় মেনে নেয়নি এবং মানবে না। নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্তে অটল থাকলে ভোট বর্জনের ঘোষণাও দিয়েছে জাতীয় হিন্দু মহাজোট। এদিকে শাহবাগে চলছে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন। গতকাল আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক আখতারুজ্জামান। এই অবস্থায় বিষয়টি ভেবে দেখার সময় এসেছে।

৩০ জানুয়ারি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনকে ঘিরে পোস্টার-ব্যানার আর প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় সরগরম পুরো রাজধানী। কিন্তু ভোটের দিনই সরস্বতী পূজা থাকায় নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাসহ বিভিন্ন সংগঠন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওয়ামী লীগ মেয়রপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর বাওনিয়াবাদ এলাকা থেকে গণসংযোগ শুরু করেন। এ সময় তিনি, পূজার দিন নির্বাচনের তারিখ থাকায় বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে আবারো ভেবে দেখার অনুরোধ জানান এবং সুযোগ থাকলে নির্বাচন কমিশনকে তারিখ পরিবর্তনেরও দাবি জানান। আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সংবিধানেও আছে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ, এটা কিন্তু প্রমাণিত হয়েছে বার বার। আমি ইসিকে গতকালও অনুরোধ করেছি আজকেও বলছি যদি সুযোগ থাকে পূজার দিনটা যেন নির্বাচনের দিন না হয়। আমি অনুরোধ করছি নির্বাচন পেছানোর জন্য।’ এদিকে রাজধানীর ধনিয়া এলাকা থেকে গতকাল নির্বাচনী গণসংযোগ শুরু করেন দক্ষিণের বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেন। পূজার দিন ভোট কেন, এমন প্রশ্ন রেখে তিনি নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের দাবি জানান। ইশরাক হোসেন বলেন, ‘পূজার দিন ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠান করাটা উচিত নয়। তার জন্য নির্বাচন পিছাতে পারে বা আগাতে পারে। আমাদের ঈদের দিন নির্বাচন দিলে আমরা পিছাতে বলতাম। নির্বাচন কমিশন জানতো ৩০ তারিখ পূজা তাহলে কেনো তারা নির্বাচনের তারিখ এ দিন নির্ধারন করল।’ এদিকে গতকাল সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর রাজিয়া সুলতানা রোডে গণসংযোগকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বলেছেন, কোনো অভিযোগ আমলে নিচ্ছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইচ্ছাকৃতভাবে পূজার দিনে ভোটের তারিখ ঘোষণা করে ইসি বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

গত ২২ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচন ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। তবে ওইদিন দেশব্যাপী উদযাপিত হতে যাওয়া হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজাকে কেন্দ্র করে নির্বাচন পেছানোর নির্দেশনা চেয়ে গত ৬ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট অশোক কুমার ঘোষ। পরে গত ১৪ জানুয়ারি রিট সরাসরি খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার রিট খারিজের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়েছে। এখন আপিল বিভাগ কী রায় দেন তা দেখে ইসিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে ইসির সামনে পথ খোলা থাকবে সব মহলের সঙ্গে আলোচনা করে তার সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করা। আমরা কেউই নির্বাচনের মতো একটা গণতান্ত্রিক উৎসবে বিতর্ক জিইয়ে রাখতে চাই না।

Ads
Ads