ফাইনালে রাজশাহীর লড়াকু সংগ্রহ

  • ১৭-জানুয়ারী-২০২০ ০৯:০৬ অপরাহ্ন
Ads

:: স্পোর্টস ডেস্ক ::

রাজশাহী রয়্যালস বনাম খুলনা টাইগার্সের মধ্যকার বিপিএল ফাইনাল দেখতে আজ (১৭ জানুয়ারি) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ২৫ হাজার ধারণ ক্ষমতার গ্যালারি পূর্ণ হয়েছে ম্যাচ শুরুর আগেই। সন্ধ্যা ৭ টার আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হওয়া গ্যালারির বাইরেও টিকিট না পেয়ে হতাশ দর্শকের সংখ্যা প্রায় একই রকম। টুর্নামেন্টের সেরা দুই দল উঠেছে ফাইনালে, রোমাঞ্চে ঠাঁসা ম্যাচের প্রত্যাশাই করেছিল দর্শকরা।

রাজশাহী ইনিংসের শুরুটা অবশ্য দর্শক বিনোদন জুগাতে পেরেছে সামান্যই। তবে শেষ দিকে রাসেল-নওয়াজ ঝড়ে দর্শক পেয়েছে বিনোদন রাজশাহী পায় ৪ উইকেটে ১৭০ রানের পুঁজি।

পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে সেরা জুটির তকমা পাওয়া লিটন-আফিফ জুটি প্লে-অফের দুই ম্যাচের মত ব্যর্থ ফাইনালেও। ২.৩ ওভার স্থায়ী উদ্বোধনী জুটিতে রান আসে মাত্র ১৪। ৮ বলে ১০ রান করে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে মেহেদী হাসান মিরাজের দুর্দান্ত এক ক্যাচে পরিণত হয়ে ফেরেন আফিফ। ইরফান শুক্কুরকে নিয়ে ৪৯ রানের জুটি গড়লেও ঠিক নিজের ছন্দে ছিলেন না লিটন দাসও। ২৮ বলে রান করতে পারেন ২৫। লিটন-আফিফের বিবর্ণ দিনে জ্বলে ওঠেন অবশ্য বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ইরফান শুক্কুর।

লিটনের বিদায়ের পর শোয়েব মালিককে নিয়ে যোগ করেন আরও ৩১ রান। রবি ফ্রাইলিঙ্কের বলে নাজমুল শান্তের হাতে ক্যাচ দিয়ে মালিক (৯) ফিরে গেলে ভাঙে জুটি। তবে রানের গতি সচল রাখার কাজটা ঠিক রাখার চেষ্টা করে যান ইরফান শুক্কুর, ৩০ বলে ৬ চার ২ ছক্কায় দলীয় রান ১০০ হওয়ার আগেই ফিফটিতে পৌঁছান বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। কিন্তু মোহাম্মদ আমিরের দ্বিতীয় শিকার হয়ে শুক্কুরও ফিরে গেলে ৯৯ রানেই ৪ উইকেট হারায় রাজশাহী রয়্যালস। শুক্কুর থামেন ৩৫ বলে ৫২ রানে।
ব্যাটিং বিপর্যয়ে রাজশাহীর ভরসা হয়ে আবারও দাঁড়িয়ে যান আন্দ্রে রাসেল। যদিও ১৭ তম ওভারের দ্বিতীয় বলে এক্সট্রা কাভার অঞ্চলে নাজমুল হোসেন শান্ত ক্যাচ মিস না করলে থামতে হত ব্যক্তিগত ৭ রানেই। মোহাম্মদ নওয়াজ- আন্দ্রে রাসেলের শেষদিকের ঝড়ে লড়াইয়ের পুঁজি মেলে রাজশাহীর। রবি ফ্রাইলিঙ্কের করা ১৮ তম ওভার থেকেই মোহাম্মদ নওয়াজ সমান দুটি করে চার, ছক্কায় তুলে নেন ২১ রান। ১৯ তম ওভারে মোহাম্মদ আমিরকে মারা রাসেলের ছক্কাটিতো ইস্টার্ন গ্যালারির দোতলায় গিয়ে পড়ে, ওই ওভার থেকে আসে ১৮ রান।

দুজনে মিলে জুটিতে ৫০ রান যোগ করে ফেলেন মাত্র ২৭ বলে। শেষ পর্যন্ত অবিচ্ছেদ্য জুটিতে রান আসে ৭১, রাজশাহী থামে ৪ উইকেটে ১৭০ রান তুলে। প্রথম ১৫ ওভারে ১০০ রান তোলা রাজশাহী শেষ ৫ ওভারে তোলে ৭০ রান, শেষ তিন ওভারে ৫৪।
আন্দ্রে রাসেল অপরাজিত ছিলেন ১৬ বলে ৩ ছক্কায় ২৭ রানে এবং মোহাম্মদ নওয়াজ ২০ বলে ৬ চার ২ ছক্কায় ৪১ রানে। খুলনার হয়ে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট আমিরের, একটি করে শিকার ফ্রাইলিঙ্ক ও শহিদুলের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (১ম ইনিংস শেষে):

রাজশাহী রয়্যালস ১৭০/৪ (২০), লিটন ২৫, আফিফ ১০, শুক্কুর ৫২, মালিক ৯, রাসেল ২৭*, নওয়াজ ৪১*; আমির ৪-০-৩৫-২, ফ্রাইলিঙ্ক ৪-০-৩৩-১, শহিদুল ৪-০-২৩-১।

Ads
Ads