মুক্তাঙ্গন ঘিরে কার পার্কিংয়ে চলছে হরদম চাঁদাবাজি

  • ২৫-Dec-২০১৯ ০৪:৫৭ অপরাহ্ন
Ads

:: আরিফুর রহমান ::

রাজধানীর সচিবালয়ের পাশে ‘মুক্তাঙ্গন’ ঘিরে পরিণত হয়েছে গাড়ী পার্কিং আস্তানায়। শুধু তাই নয়, এই পার্কিংয়ে চলছে রীতিমত চাঁদাবাজি। ‘ঢাকা মাইক্রোবাস ও কার মালিক সমিতি’র মেয়াদ উত্তীর্ণের পর উড়ে এসে জুড়ে বসেছেন আব্দুর সাত্তার ও মতিন গং বলে রয়েছে অভিযোগ। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শুদ্ধি অভিযানে যুবলীগ থেকে বহিঃস্কৃত নেতা সম্রাটের নাম ভাঙিয়ে চলতেন তারা। এখনও রয়েছেন বহাল তবিয়তেই। চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে মিলছে হুমকি। ক্ষুব্ধ বাসমালিকরা।

জানা যায়, বছর খানেক ধরে অবৈধভাবে মুক্তাঙ্গনের চারপাশ দখল করে মাইক্রোবাস মালিকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছেন আব্দুস সাত্তার ভূঞা, আব্দুল মতিন, মানিক ও রতন। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে সত্যতা মেলে। মুক্তাঙ্গনের বিশাল এলাকা জুড়ে সকাল থেকে রাত অবধি দখলে থাকে মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কারের।

আর সেই সব গাড়ি থেকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই পার্কিয়ে মাইক্রো রাখতে কমপক্ষে দিতে হয় ৫ হাজার টাকা দিয়ে নিবন্ধন করতে হয় (ডকুমেন্ট ছাড়া)। আর মাস প্রতি দিতে হয় আড়াই হাজার টাকা। আবার কোন মাইক্রো যাত্রী পেলে ভাড়ার টাকারও কমিশন দিতে হয়। এই সব টাকা চলে যায় আব্দুর সাত্তার ও মতিন গংদের পকেটে। মুক্তাঙ্গন ঘিরে পার্কিংয়ে শতাধিক গাড়ি রয়েছে। সবাই এই নিয়মের আওতায় বলে দাবি গাড়ি মালিকদের। 

এক হিসাবে দেখা যায়, একশ গাড়ি থেকে নিবন্ধন বাবদ ন্যূনতম ৫ লক্ষ টাকা তোলা হয়েছে। আবার পুরাতন গাড়ি বের করে দিয়ে নতুন গাড়ি ঢুকিয়ে ওই গং আয় করেছে আরও প্রায় ৩ লক্ষ টাকা। এদিকে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা হিসেবে বাৎসরিক চাঁদা তুলছেন কমপক্ষে ৩০ লক্ষ টাকা। এদিকে, কোন মাইক্রো যাত্রী পেলে প্রতি যাত্রায় গুনতে হয় ৫০ টাকা। আবার ভাড়ার টাকার কমিশনও গুণতে হয় তাদের।

পার্কিংয়ে দাঁড়িয়ে থাকা চালকদের অনেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে অভিযোগ করেন, প্রায় আড়াই বছর আগে সাত্তারসহ কয়েকজন সম্রাটের নাম ভাঙ্গিয়ে বহিরাগতদের নিয়ে স্ট্যান্ডে কমিটি গঠন করে। অথচ সাত্তার বাদে বাকিদের কোন গাড়ি নেই। অন্যদিকে প্রায় ৫মাস অতিবাহিত হলেও সমিতির নতুন কমিটি গঠন করা হচ্ছে না। ফলে অবৈধভাবে চাঁদাবাজীর মাত্রা সহনশীল মাত্রা ছাড়িয়েছে। কিছু বললে সাত্তার নিজের ছেলেকে ‘ডিবি’ পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি দেখায়।

এ ব্যাপারে মুক্তাঙ্গন শ্রমিক কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির এ প্রতিবেদককে জানান, ‘এখানে কমিটি না থাকার পরও অবৈধভাবে চাঁদা নিচ্ছে সাত্তার। চাঁদা তুলতে বাঁধা দেওয়ায় আমাকেও হুমকি দিয়েছে তারা। এই ঘটনায় আমি থানায়ও জিডি করেছি।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে আব্দুস সাত্তারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা। আমরা সড়ক পরিবহনে কমিটি জমা দিয়েছি। আমি বর্তমানে এই সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। যাদের এখানে গাড়ি নেই, তারাই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এছাড়া আমি কাউকে হুমকিও দিইনি।’ স¤্রাটের ছত্রছায়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সম্রাটের নাম কখনোই ব্যবহারও করিনি। এটা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রন করে ঢাকা সড়ক পরিবহন।’

Ads
Ads