অবশ্যই বাড়াবাড়ির সীমা থাকা দরকার

  • ৭-Dec-২০১৯ ০৯:৩৭ অপরাহ্ন
Ads


:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

এতিমের টাকা আত্মসাৎ। তারপর কারাগারে। এখন পুলিশ হেফাজতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবাও পাচ্ছেন। তিনি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার সেবায় যখন রাখা হয়েছে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক, নার্স; তখন জনগণকে উত্তপ্ত করতে ও তাদেরকে বিক্ষিপ্ত করতে একের পর এক মিথ্যা তথ্য ছুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন বিএনপি নেতারা। আদালতে জামিন চেয়ে মঞ্জুর না হলে তার দায় চাপিয়ে দিলেন সরকারের ওপর। অথচ আইন তো তার নিজের গতিতেই চলছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সরকার তা বারবার প্রমাণ দিয়েছে। মাসের পর মাস বিএনপির নেতাদের চেষ্টা ব্যর্থ হলে তারা নিজেদেরকে আইন অবমাননার মধ্যে শামিল করে নিয়েছেন বারবার। আর গত বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে ছয় বিচারকের আপিল বেঞ্চে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল থেকে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতির প্রতিবেদন না আসায় তার জামিন প্রশ্নে সিদ্ধান্ত এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেন। এরপর থেকে জামিন আবেদনের শুনানি এগিয়ে আনার দাবিতে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা প্রায় তিন ঘণ্টা আপিল বিভাগের এজলাস কক্ষে অবস্থান নিয়ে তুমুল হট্টগোল করেন। এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে আর কোনো মামলার কার্যক্রম চালানো যায়নি। এই পুরোটা সময় আদালতকক্ষ থেকে বের হতে বা নতুন করে কাউকে ঢুকতে বাধা দেন বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা। এজলাস কক্ষেই তারা সেøাগান দেন- ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘বেইল ফর খালেদা জিয়া’।

বার বার চেষ্টা করেও বিচার কার্যক্রম শুরু করতে না পেরে দুপুর সোয়া ১টার দিকে এজলাস থেকে নেমে যান বিচারকরা। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের হট্টগোল-বিশৃঙ্খলা নজিরবিহীন ঘটনা। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনও একথাই বলেছেন। তার কথা অনুযায়ী আমরাও বলতে চাই, ‘সব কিছুর একটা সীমা থাকা দরকার, বাড়াবাড়ির একটা সীমা থাকা দরকার।’ বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের এই ঘটনা জাতিকে আরেকবার তাদের মূল চরিত্র সম্বন্ধে সচেতন করে দিলো। তারা যে দেশের আইনের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল নয়, তারা যে আইনের বৈশিষ্ট্য সম্বন্ধে না জেনেই সব কাজ করে থাকেন, তা যেন আরেকবার প্রমাণ হয়ে গেল। এমন পরিস্থিতিতে ‘বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে’ উল্লেখ করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। 

ন্যায়ের পক্ষে এবং অন্যায়ের ঘোর বিরোধী আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠানকে অপমান বা অবমাননা করতে দেয়নি, দেবেও না। এই সরকার দেশের জনগণকে নিরাপদে রাখতে নিজের দলের মধ্যেই প্রথম শুদ্ধি অভিযান শুরু করে দেখিয়েছে যে, কীভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলাকে সম্মান করতে হয়, শ্রদ্ধা করতে হয়, দেশের পরিস্থিতি সুন্দর রাখতে হয়, দেশকে লুটেরাদের হাত থেকে  রক্ষা করতে হয়। বিশৃঙ্খলা বন্ধ করাকেই শেখ হাসিনার সরকার দায়িত্ব মনে করেন। আদালত যদি খালেদা জিয়ার জামিন না দেন তাহলে সরকারের কী ই বা করার আছে? এরপরও কেন এই ঔদ্ধ্যত্ব? এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের দ্ব্যর্থহীন জবাব প্রণিধানযোগ্য, ‘বিএনপির আন্দোলন কি সরকারের বিরুদ্ধে? আওয়ামী লীগ এখন আগের চেয়ে অনেক সংগঠিত। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অরাজকতা সৃষ্টি করলে সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।’

Ads
Ads