ঢাকা মহানগর আ. লীগের সম্মেলন: উত্তরে নেতাকর্মীদের মুখে মুখে সাদেক খান ও ওয়াকিল

  • ২৮-Nov-২০১৯ ০২:১৫ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

আগামী শনিবার ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীর দুই অংশের আওয়ামী লীগের হাল ধরবেন কারা, তা এ সম্মেলনে নির্ধারিত হবে। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে সাদেক খান এমপি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ওয়াকিল উদ্দিনের নাম এখন নেতাকর্মীদের মুখে মুখে। নেতাকর্মীদের পছন্দের এ দুই প্রার্থীর পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে গেছে রাজধানীর বিভিন্ন ভবন, প্রধান সড়ক ও অলিগলি।

দলীয় সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান এ সম্মেলনে সভাপতি হিসেবে পদোন্নতি চান। তিনি ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর) এলাকার জাতীয় সংসদ সদস্য। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানককে বাদ দিয়ে দলের হাইকমান্ড সাদেক খানকে মনোনয়ন দেয়। এ সম্মেলনে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাঁর পদোন্নতি চান।

সাদেক খান জানান, ‘নেতাকর্মীরা যদি মনে করেন এবং আমার নেত্রী শেখ হাসিনা যদি দয়া করেন, তাহলে আমি সভাপতির দায়িত্ব পালনে আগ্রহী।’

তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়ে আসছি, কারো কাছ থেকে কোনো দিন টাকা-পয়সা নিইনি। এ জন্য নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে আছেন। তাঁদের সঙ্গে নিয়ে আমি আগামী দিনে রাজনীতি করতে চাই।’

এ ছাড়া সিনিয়র সহসভাপতি শেখ বজলুর রহমানের নামও সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছে। চারদলীয় জোট সরকারের সময় সরকারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। রাজধানীর রাজনীতিতে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির অধিকারী শেখ বজলুর রহমানের রয়েছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা। রাজনৈতিক জীবনে ওয়ার্ড থেকে শুরু করে মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে আছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ওয়াকিল উদ্দিন ও এস এ মান্নান কচি। ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানে সরাসরি অংশগ্রহণ, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে কমান্ডারের দায়িত্ব পালন, রণাঙ্গনের লড়াকু বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াকিল উদ্দিন দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, কর্মীবান্ধব, তৃণমূলের সঙ্গে সুসম্পর্ক, দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি হিসেবে সর্বজনপ্রিয়। তিনি বর্তমানে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য। দীর্ঘদিন ওয়ার্ড কমিশনার এবং বৃহত্তর গুলশান থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন। বিশিষ্ট এ ব্যবসায়ী ১৯৯৩-৯৬ ও ২০০১-০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দমন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে রাজপথে সোচ্চার থেকে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

ওয়াকিল উদ্দিন জানান, ‘দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী আমাকে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেখতে চান। এ নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমার চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সম্পর্ক। যেকোনো প্রয়োজনে আমি তাঁদের পাশে থেকেছি। দলের একজন নেতা হিসেবে প্রতিটি কর্মীকে স্বজন হিসেবে মনে করেছি। সব ধরনের সহযোগিতা করেছি। তাই তাঁরাও আমাকে অত্যন্ত আপনজন হিসেবে মনে করে সব সময় সমর্থন জানিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘আমার নেত্রী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাকে কোনো দায়িত্ব দেন, তবে তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব।’

উত্তরের আরেক সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাবেক ছাত্রনেতা, বিজিএমইএর সহসভাপতি এস এ মান্নান কচির নাম এলাকার সর্বস্তরের নেতাকর্মীর মধ্যে আলোচনা হচ্ছে। অবিভক্ত ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে থাকার সময় অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে রাজপথের সব আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি।

Ads
Ads