অস্তিত্ব সঙ্কটে ঐক্যফ্রন্ট

  • ১৭-Nov-২০১৯ ০৬:২০ অপরাহ্ন
Ads

 

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। তার নিজ দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টুসহ কয়েকজন দল ছেড়ে গেছেন। আর ফ্রন্টের অন্যতম শরিক দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন।

জোটের শরিক নেতাদের অনেকে বলছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির সঙ্গে ড. কামালের ঐক্যের মধ্য দিয়ে জোটের যাত্রা। এখন তা কার্যত নামমাত্র। আরেকধাপ এগিয়ে বললে রাজনীতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐক্যফ্রন্ট। বিএনপির সঙ্গে গণফোরামের টানাপোড়েন চলছে। শরিকদের সঙ্গে সমন্বয় নেই। নেই বৈঠক বা কর্মসূচী। এমনকি ঐক্যফ্রন্টের জন্য যে রাজনৈতিক কার্যালয়টি নেয়া হয়েছিল তাও ভাড়া দেয়া হয়েছে অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে। সব মিলিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেন বেকায়দায় পড়েছেন এবং ফ্রন্টও সংকটের মধ্যে পড়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

তবে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্তির ঘোষণা না দিলেও বিএনপি কৌশলগতভাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে এড়িয়ে চলবে। এর অংশ হিসেবে ড. কামাল হোসেনের অফিসে ফ্রন্টের সর্বশেষ বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রতিবাদ সভার প্রস্তাব করেন। এসময় তার কথার বিরোধিতা করে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রুত চৌধুরী বলেন, ছোটখাটো সভা করে কী লাভ। এর প্রতি উত্তরে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, যা করতে পারবেন, তাই আগে করুন। এনিয়ে তাদের মধ্যে দুই-তিন মিনিট তর্ক-বিতর্ক হয় বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, একাদশ নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রগুলোর সমর্থন পেতে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সুশীল সমাজ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং পেশাজীবীদের নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে বিএনপি। কিন্তু বিএনপি নির্বাচনের পরে বুঝতে পেরেছে যে, ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে কোনো লাভ হয়নি। বরং দলের ক্ষতি হয়েছে।

এছাড়া নির্বাচনের পরে বিএনপির তৈরি করা মঞ্চে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা তাদের বিপক্ষে বক্তব্যে দিচ্ছেন। এসব কথা মাথায় নিয়ে বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে নিয়ে তারা আর সামনে এগুবো না। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্তিও করবে না।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দির সরকার বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তো এখনো ভাঙেনি। আর কৌশলগতও কিছু নাই। কারণ বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। আর আমরা কিছু না করলে তো ওদের দিয়ে কিছু সম্ভব না। সুতরাং এর একটি অন্যরকম রোল হবে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ উদ্যোক্তা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, এবিষয়ে আমি কিছু জানি না। সুব্রুত চৌধুরীকে জিজ্ঞেস করুন, উনি বলতে পারবেন।

গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রুত চৌধুরী বলেন, ঐক্যফ্রন্ট আছে। আর আমরা সবাই আমাদের দল গোছাতে ব্যস্ত।

এদিকে ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক দল জেএসডিও ভাঙনের মুখে পড়েছে। দলটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতনসহ আরো কয়েকজন শীর্ষ নেতা জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বের গঠিত দল ত্যাগ করে নতুন দল সৃষ্টি করার ঘোষণা দিয়েছেন। আর ভাঙা-গড়ার চাপে আছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোও।

অপরদিকে ২০ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে গেছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ। আর বর্তমানে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির তালিকা প্রকাশের পর থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ভাঙনের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

এবিষয়ে এলডিপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, সেবিষয়ে কিছু বলতে পারবো না। তবে আমার অবস্থান অবশ্যই জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষেই থাকবে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দফতর প্রধান জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু বলেন, ‘নির্বাচনের আগে গড়ে ওঠা সরকারবিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের তেমন কোন কর্মকা- এখন নেই। যেটুকু আছে, সেটা ড. কামাল হোসেনের চেম্বার অথবা শীর্ষ নেতাদের বাসায় সেরে ফেলা যায়। সে জন্য অত বড় অফিস আর প্রয়োজন নেই। আবার যখন প্রয়োজন হবে, তখন হয়তো বড় অফিস খুঁজে নেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশে ঘোষণা দেয়া হলেও বন্যার কারণে একটি কর্মসূচী হয়েছে মাত্র। পরবর্তী এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেই। গণফোরামের কোন কর্মসূচীতে বিএনপি অথবা শরিক নেতাদের দেখা যাচ্ছে না। তেমনি বিএনপির কোন রাজনৈতিক কর্মসূচীতে ফ্রন্টের আহ্বায়ক কামাল হোসেনকেও আমন্ত্রণ জানাতে দেখা যায় না। সব মিলিয়ে জোটে যে অস্তিত্ব সঙ্কটে আছে তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে নতুন করে দেখানোর কিছু নেই। জোটের নেতারা জানিয়েছেন, ভোটের পরপরই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান কার্যালয়ের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়। কার্যালয়ের সামনে থেকে উধাও হয়ে যায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নামফলক।

 

/কে 

Ads
Ads