‘পদ-বাণিজ্যে’র অভিযোগে ঢাকা দক্ষিণের সভাপতির বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের তদন্ত শুরু

  • ১৪-Nov-২০১৯ ০১:৪৪ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মো. মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানা কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ‘পদ-বাণিজ্যে’র অভিযোগ উঠার পর তা তদন্ত শুরু করেছে সংগঠনটি কেন্দ্রীয় কমিটি।

এজন্য একটি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন- তানজিমুল ইসলাম শিমুল, প্রদীপ চৌধুরী ও মামুন বিন সাত্তার।

গতকাল বুধবার ছাত্রলীগ সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ‘ছাত্রলীগ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের অন্তর্গত যাত্রাবাড়ি থানা, রামপুরা থানা ও মুগদা থানার নবগঠিত কমিটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রাপ্ত অভিযোগের অধিকতর তদন্তের স্বার্থে কমিটি গঠন করা হলো।’

এর আগে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি মো. মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে যাত্রবাড়ী থানা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করছেন রোজী বেগম নামের এক নারী।

জিডিতে রোজী বেগম উল্লেখ করেন, ‘মেহেদী হাসান ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি, সেই সুবাদে আমার পরিচিত। আমার ছোট ছেলে মোহাম্মদ শাকিল হোসেন আনন্দকে (২৪) ছাত্রলীগের যাত্রাবাড়ী থানার সভাপতি পদ দেওয়ার কথা বলে, পরবর্তী সময়ে আমার ছেলেকে কমিটিতে না নিয়ে অন্যজনকে কমিটিতে পদায়ন করেছে। এ বিষয়ে আমি তার সাথে কথা বললে সে উত্তেজিত হয়ে আমার এবং আমার ছেলের বড় ধরনের ক্ষতি সাধন করবে বলিয়া ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।’

এ বিষয়ে রোজী বেগমের স্বামী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘মেহেদী আমার ছেলেকে নেতা বানানের কথা বলে দুই লাখ টাকা নেয়। কিন্তু কমিটিতে তাকে রাখা হয়নি। অন্য বিবাহিত ছেলেকে দিয়ে কমিটি দেয়। আমি টাকা ফেরত চাইলে সে আমায় হুমকি দেয়।’

জাহাঙ্গীর হোসেন নিজেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি বলে পরিচয় দেন। তিনি আরো বলেন, ‘আমি দলীয় লোক হওয়ার পরও মেহেদী আমার সঙ্গে এমনটা করেছে—তাই নয়, আরো পাঁচ-ছয়জন আছে যাদের কাছ থেকে সে টাকা নিয়েছে।’

দুই লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, ‘চাকরিপ্রার্থী অনেকে থাকে। যাদের চাকরি হয় না, তখন তারা অভিযোগ করে, অন্যরা টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছে। এই বিষয়টা তেমনই।’

রোজী বেগম উল্টো হুমকি দিয়েছেন দাবি করে মেহেদী বলেন, ‘আমি তাঁর ছেলেকে নেতা বানাইনি বলে তারা আমাকে দেখে নেবে বলে হুমকি দিয়েছেন।’ 

কথা প্রসঙ্গে দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি বলেন, ‘কমিটি দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় এমপির প্রভাব থাকে। তিনি যেভাবে বলেছেন, আমি সেভাবেই করেছি। আমার কাছে প্রমাণ আছে। এখন তারা (শাকিল হোসেন আনন্দর পরিবার) আমার বিরুদ্ধে লেগেছে।’

ছাত্রলীগের কমিটিতে এমপিদের কী ধরনের প্রভাব থাকে জানতে চাইলে মেহেদী বলেন, ‘এটা থাকে। সব সময়ই হয়ে আসছে। তিনি যেভাবে বলেছেন, সেভাবেই কমিটি হয়েছে।’

Ads
Ads