বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ২১তম সম্মেলন: সাধারণ সম্পাদকের দাবিদার দুবারের উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান আবদুর রউফ

  • ১৪-Nov-২০১৯ ০১:২৭ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: যশোর ব্যুরো ::

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ২১তম সম্মেলনের বাকি মাত্র তিনদিন। দীর্ঘ ১৫ বছর পর আগামী ১৭ নভেম্বর হতে যাচ্ছে এ সম্মেলন। বহুদিন সাংগঠনিক কার্যক্রম নড়বড়ে থাকায় এবারের উপজেলা সম্মেলন ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য। এরই মধ্যে উপজেলার সর্বত্র শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। নতুনভাবে কারা আসছেন দলের শীর্ষ দুই পদে, কে হচ্ছেন সাধারণ সম্পাদক এ নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা।

দীর্ঘ ১৫ বছর সাধারণ সম্পাদকের পদে থাকা জুলফিকার আলী জুলাই সাংগঠনিকভাবে তেমন তৎপর না থাকায় অনেকটা এলোমেলোভাবে চলছিল এ উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রম। তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীরা প্রয়োজনে তাকে কাছে না পেয়ে এতদিন ছিলেন হতাশ। সেই হতাশা কাটিয়ে এবার সাদা মনের ও দলের জন্য নিবেদিত কাউকে তারা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেখতে চান।

এবারের সম্মেলনে বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী অর্ধডজন নেতার নাম শোনা গেলেও বারবার যে নামটি সামনে আসছে, তিনি হলেন দুবারের নির্বাচিত উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুর রউফ মোল্যা। উপজেলা জুড়ে বর্তমানে বারবার আলোচিত হচ্ছে এ নামটি। তাকে ঘিরে সাধারণ নেতাকর্মীদের রয়েছে নানা প্রত্যাশা। আবদুর রউফকে সাধারণ সম্পাদক করা হলে বাঘারপাড়ার একটি পৌরসভাসহ নয়টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসবে বলে প্রত্যাশ্য তৃণমূল আওয়ামী লীগের।

আবদুর রউফ মোল্লা ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে দীর্ঘ ৪০ বছর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি ২০০৩ সালে গঠিত বাঘারপাড়া পৌরসভার ৬নং (দোহাকুলা) ওয়ার্ড থেকে প্রথম কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ওই সময় তিনি পৌরসভার প্যানেল মেয়রও নির্বাচিত হন। তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে বাঘারপাড়া পৌরসভায় দুবার কমিশনার নির্বাচিত হন। এরপর টানা ১৬ বছর দক্ষতার সঙ্গে তিনি উপজেলা যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। দলীয়ভাবে নির্বাচিত হয়ে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ওই বছর অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়াই করে সামান্য ভোটের ব্যবধানে তিনি বিএনপির প্রার্থীর কাছে হেরে যান।

২০১৯ সালে বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন চেয়ে না পেয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট করেন। চলতি বছরের ৩০ মার্চ অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে আবারও দলীয়ভাবে ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি বর্তমান যশোর জেলা আওয়ামী যুবলীগ ও বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নম্বর সদস্য।

২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে বারবার জেল-জুলুমের শিকার হন আবদুর রউফ। ২০০১ সালে বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদের গেটে তাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে মৃত  ভেবে ফেলে যায় বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডাররা। ওই সময়ে তিনি মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাবরণও করেন।

শুধু আবদুর রউফ নন, তার বংশের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে মিশে রয়েছে আওয়ামী লীগ। বাবা মৃত মুজাফফার মোল্লা ছিলেন আওয়ামী লীগের জন্য নিবেদিত। আবদুর রউফের বড়ভাই আবদুর রশিদ উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি। তার আরেক ভাই হোসেন আলী মোল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও দোহাকুলা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান।

আবদুর রউফ মোল্লা ‘ভোরের পাতা’কে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের জন্য নিবেদিতভাবে কাজ করেছি। কখনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়াইনি। কৃষক পরিবারের ছেলে আমি। গোলার ধান বেচে দল করেছি। দলের এমন কোনো কর্মী নেই যার বিপদে আমি পাশে দাঁড়াইনি। সবসময় দলের সাধারণ কর্মীদের পাশে ছিলাম, আজও আছি এবং থাকব। সাধারণ নেতাকর্মীরাও আমার সঙ্গে রয়েছেন। আমার মতো এত উদারভাবে কেউ দলের জন্য কাজ করেনি। এবারের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে আরো উদ্দীপনা নিয়ে দলের পাশে থাকতে চাই। বাঘারপাড়া উপজেলা বরাবরই আওয়ামী লীগের দখলে। সেই দখল রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে এবং দলকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

Ads
Ads