মেট্রোরেল: অযথা সড়ক বন্ধ না করার নির্দেশ

  • ৭-Nov-২০১৯ ০৬:৪৪ অপরাহ্ন
Ads

 

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

রাজধানীর যানজট নিরসন ও ভোগান্তি এড়াতে কাজ শুরুর আগে অযথা সড়ক বন্ধ না রাখতে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের পর কমিটির সভাপতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এ তথ্য জানান।

মোজাম্মেল হক বলেন, বিশেষ করে ঢাকা শহরে মানুষের চরম একটা দুর্ভোগ ট্রাফিক জ্যাম নিয়ে। মেট্রোরেল ও নাগরিক সুবিধা দেয়ার জন্য রাস্তাঘাট খোঁড়া হচ্ছে। সেটা যাতে মানুষের সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা যায় সেজন্য মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছি, যেখানে কাজ শেষ হবে সে জায়গা যাতে খালি করে দেয়া হয়।

তিনি বলেন, যতদিন কাজ শুরু না হবে ততদিন যেন সড়ক বন্ধ করে রাখা না হয়। আমরা লক্ষ্য করেছি, এক দেড় মাস আগে থেকেই ওনারা বেড়া দিয়ে রেখেছেন, কিন্তু কাজটি শুরু হয়নি। শুরু হওয়ার সময়ই যেন করে অযথা যেন রাস্তা বন্ধ না করা হয়।

উল্লেখ্য, রাজধানীর যানজট নিরসন ও নগরবাসীর যাতায়াত আরামদায়ক, দ্রুততর ও নির্বিঘ্ন করতে উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের কাজ চলছে। ২০১২ সালে গৃহীত মেট্রোরেল প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য ২০ দশমিক ১ কিলোমিটার। এই প্রকল্পে মোট ২৪ সেট ট্রেন চলাচল করবে। প্রতিটি ট্রেনে থাকবে ছয়টি করে কোচ। ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার বেগে যাত্রী নিয়ে ছুটবে এসব ট্রেন। উভয়দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী বহন করা হবে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকার মধ্যে প্রকল্প সাহায্য হিসেবে জাইকা ঋণ দিচ্ছে ১৬ হাজার ৫৯৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। ২০২১ সালে দেশের প্রথম মেট্রোরেল চালু হওয়ার কথা রয়েছে।

বাড়ির মালিকদের কাছে ভাড়াটিয়াদের সঠিক ঠিকানা না থাকায় অনেকে অপরাধ করে পার পেয়ে যায় জানিয়ে মোজাম্মেল হক বলেন, যাতে এটা করতে না পারে, প্রত্যেক বাড়ির মালিক যেন ভোটার আইডি কার্ড দেখে পরিচয় নিশ্চিত হয়ে ভাড়া দেন, সে ব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিট পুলিশকে বলা হয়েছে। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকেও এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী বলেন, এই মেয়াদে সরকার গঠনের পর অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আশানুরূপ উন্নতি হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর। আমার মনে হয় আগের চেয়ে বেশি নিয়ন্ত্রণে আছে।

কমিটির সভাপতি বলেন, অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে অতীতে বিদেশ গেছে। আগের মিটিংগুলোয় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যাতে পাসপোর্ট না পায়। অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে আমরা এ কাজটি করতে পেরেছি। বর্তমানে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট পাওয়ার কোনো অবস্থা নেই।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সারাদেশে মাদক, জঙ্গি ও নারী নির্যাতনবিরোধী গণসচেতনতা কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অত্যন্ত তৎপর রয়েছে, যেন সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে কেউ মাদক বহন করতে না পারে।

Ads
Ads