সময়টা বড় অস্থির

  • ১-Nov-২০১৯ ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: পীর মিসবাহ এমপি ::

শ্রদ্ধা বিষয়টি মুলত সামাজিক মুল্যবোধ।সমাজে কে শ্রদ্ধা পাবেন মানুষের বিবেক, তার চেতনা সেটা নির্ধারন করে।মানুষের সৎ চেতনা থেকে যাদের প্রতি শ্রদ্ধা জাগ্রত হয় সমাজে তারাই শ্রদ্ধাভাজন হন।সত্য সুন্দর যিনি লালন করেন তিনি শ্রদ্ধা পাবেন।অসত্য অসুন্দরকে বর্জন করে নিজেকে যিনি আলোকিত করেন।মেধা, মনন, চেতনায় যিনি শানিত হবেন।সত্য সুন্দরে যিনি বসবাস করেন,কুৎসিত অন্ধকারকে যিনি বর্জন করেন তিনিই মানুষের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র হবেন।শ্রদ্ধার জন্য বিত্ত- বৈভব এর মালিক হতে হয়না।ক্ষমতা -দম্ভের প্রয়োজন হয়না।শ্রদ্ধার ক্ষেত্রে সমাজে এটাই প্রচলিত সত্য।এই সত্যের বাইরে হঠাৎ করে কিছু ব্যাতিক্রম এনে শ্রদ্ধার দাবীদার হওয়া যায়।ভাবটা আনা যায়।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেটাকে বলেছেন"মুই কি হনুরে"।

সেটা প্রকৃত শ্রদ্ধা নয়।শ্রদ্বাভাজন নন।এটাকে বলা যায় স্বার্থ আদায়ের বিনিময়ে শ্রদ্ধার মত করে পারিশ্রমিক প্রদান। যারা করেন তারা লাভের জন্য করেন।যারা এই পারিশ্রমিককে শ্রদ্ধা ভেবে তৃপ্ত হোন তারা প্রতারিত হন।

আসলে এখন কেউ স্রোতা হতে চায়না।সবাই বক্তা হতে চায়।ভাল স্রোতা হতে পারলে অর্জন অনেক।

দালাইলামা বলেছিলেন "আমি যা বলি তা আমি জানি।আমি যা শুনি তা আমি জানিনা।"

সময়টা বড় অস্থির। দরীদ্র দেশ থেকে আমরা উন্নয়নে যাত্র করেছি।দেশ উন্নত হচ্ছে।একটা স্তর থেকে আরেক স্তরে উন্নীত হবার সময় অতিক্রম করছি।দেশে অর্থের প্রবাহ ব্যাপক বেড়ে গেছে।এই যে অর্থের প্রবাহ বেড়েছে এর নেতিবাচক প্রভাব ও সমাজের সর্বত্র দেখা দিয়েছে।অস্তির অশান্ত দৌড়ের প্রতিযোগীতা।মুল্যবোধের জায়গাতেও এটা আঘাত করছে।আমার প্রিয় শহর সুনামগঞ্জ।দেশের প্রান্তিক জনপদ।অর্থনৈতিকভাবে মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের শহর ছিল।আমিও সেই মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।হাতে গুনা কিছু মানুষ সম্পদশালী ছিলেন।তবে সেটাও খুব বেশী কিছু তেমন করে বলা যাবেনা।বিত্ত- বৈভবের অসুস্থ প্রতিযোগীতা ছিলনা।মধ্যবিত্ত শিক্ষিত মানুষেরা সমাজের মনন তৈরি করতেন।ভদ্রতা-বিনয়, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড,ক্রীড়া,পড়াশুনা আমাদের অহংকার ছিল।অস্থির সময় আমাদের সেই অহংকারের স্থানটিকেও আজ ক্ষত বিক্ষত করেছে।
আমাদের শহরেও এখন সবাই বক্তা হতে চায়।

কনফুসিয়াস বলেছিলেন "নিজেকে শ্রদ্ধা করলে অন্যের শ্রদ্ধা লাভ করা যায়।"

অস্থির সময়ে আজ অনেকে অন্যকে অশ্রদ্ধা করে নিজেকে শ্রদ্ধাবান করতে চায়।উল্টো চিন্তা। অসৎ বুদ্ধির কারনে নিজেই কুৎসিত হয়ে যায়।নিজেকে শ্রদ্ধাভাজন করতে গিয়ে মুলত উল্টো হচ্ছে।সমাজ ঠিকই তার শ্রদ্ধা সঠিক মানুষকেই করে।

সনাতন ধর্মের গীতার আলোকে যদি শ্রদ্ধা কে দেখি তাহলে শাস্ত্র ও গুরুবাক্য বিশ্বাসই শ্রদ্ধা। আচার্য্যেরা এটাকে জ্ঞান লাভের সোপান মনে করেন।

আবার গৌতম বুদ্ব সপ্ত আর্যধনের মধ্যে শ্রদ্ধা কে প্রাধান্য দিয়েছেন।শ্রদ্ধা কে বলা হয়েছে মানবজীবনের পরম সম্পদ। আবার বৌদ্ধ দর্শনে অন্ধ বিশ্বাসের স্থান নেই।যুক্তি সঙ্গত ভাবে বিশ্বাস করাই প্রকৃত শ্রদ্ধা। চিত্তের নির্মলতা,কার্পন্য ময়লা ত্যাগ,সৎ পুরুষের দর্শনেচ্ছাকে শ্রদ্ধার লক্ষণ বলা হয়েছে।

Is Buddhism a religion প্রবন্ধে বলা হয়েছে It is not mere belief or blind faith but it is confidence based on knowledge.
শ্রদ্ধার ক্ষেত্রে অন্ধ বিশ্বাস বর্জন করে জ্ঞান কে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
আসলে শ্রদ্ধা বাজারে কেনা বেচার বিষয় নয়।নিজ চিত্তে বিবেক দিয়ে ধীরে ধীরে সৃস্টি করতে হয়।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

Ads
Ads