সেভ ঢাকা সিটি প্রজেক্ট : অপরাধ দমনে সজাগ চোখ

  • ২৭-Oct-২০১৯ ১০:৪৯ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

অপরাধ দমনে আমরা ‘সেভ ঢাকা সিটি প্রজেক্ট’ আসছে। এতে অপরাধী শনাক্ত হবে। ট্রান্সপোর্ট ম্যানেজমেন্ট ও গাড়ির গতিবিধি নজরদারির মধ্যে থাকবে। এর ফলে রাজধানী ঢাকা অপরাধমুক্ত হবে। এই প্রজেক্ট কার্যকর হলে অপরাধীরা খুব গোপনেও অপরাধ করতে গিয়ে শিউরে উঠবে। কারণ কোথায় কোন গোপন চোখ তাকে অনুসরণ করে চলেছে জানবেই না সে। কমে যাবে সন্ত্রাস, মাদক, অপহরণ, খুন। গুজবের হাত-পা গজাবে না, অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যাবে। একে অপরের যোগসাজসে অপকর্মের কথা ভুলে যাবে সবাই। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে উঠবে এমন সব প্রজেক্ট সারা বাংলাদেশে বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে এভাবেই দেশ পঙ্কিলতামুক্ত হয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, যাবে। কোনো অপশক্তিই বাংলাদেশের অগ্রগতির ধারাকে রুখতে পারবে না। এর আগেও কঠিন ও সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র করেও টেকেনি তারা। 

গত শনিবার রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে মুক্ত আকাশ আয়োজিত ‘নিরাপদ ও টেকসই নগর গঠনে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল 

‘সেভ ঢাকা সিটি প্রজেক্ট’র-এর কথা জানান। এরপর থেকে আশান্বিত হতে শুরু করেছে ঢাকাবাসী। আর এই প্রজেক্টের পথ ধরে সারা বাংলাদেশেও মেগা প্রজেক্ট আশা করছেন সাধারণ জনগণ। তারা মনে করছেন, প্রথমে ঢাকা হলেও পরে তা অন্যান্য জেলা শহরে এবং পরে জেলা শহর থেকে উপজেলা, এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ে বাস্তবায়িত হবে। তাদের এই প্রত্যাশার সারমর্ম গিয়ে দাঁড়াচ্ছে ‘সেভ বাংলাদেশ প্রজেক্ট’।

সম্প্রতি রাজধানীসহ সারা বাংলাদেশে পদ্মসেতুতে মাথা লাগবে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়লো। তাছলিমা রেনুর মতো এক মায়েরও জীবন এই গুজবে। ২০ জুলাই শনিবার সকালে ঢাকার উত্তর পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নৃশংস গণপিটুনিতে তাসলিমা বেগম রেনুকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। অথচ রেনু সেদিন চার বছর বয়সী ছোট্ট মেয়ে তুবাকে ভর্তির স্কুলের খোঁজ নিতে ঢাকার বাড্ডা গিয়েছিলেন। কিন্তু জানতেন না এই যাওয়াই তার শেষ যাওয়া হবে। কয়েকজন বিবেকহীন মানুষের গুজবের বলি হয়েছেন তিনি। শুধুমাত্র সন্দেহের বশবর্তী হয়ে প্রকাশ্যে পিটিয়ে তাসলিমা বেগম রেনুকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি মোটেই ছেলেধরা ছিলেন না। ছিলেন সংগ্রামী এক নারী। 

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যমতে, এ বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি থেকে জুন) সারা দেশে গণপিটুনিতে ৩৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া গত জুলাই মাসে এমন নির্মম মৃত্যুর শিকার হয়েছেন আরও ৭ জন। সব মিলিয়ে এ বছরে এখন পর্যন্ত ৪৩ জন গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, সুশিক্ষার অভাব, মানুষের মধ্যে অসহিষ্ণুতা বেড়ে যাওয়া, সামাজিক অবক্ষয়, বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা- এসব কারণেই মূলতঃ এ ধরনের ঘটনা বেড়ে চলেছে। এসব ঘটনার সাথে জড়িতদের সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন তারা। দেশে গুজবের জেরে মৃত্যুকে নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বেনারকে বলেছিলেন, ‘মানুষের মধ্যে চরম মূল্যবোধ এবং সামাজিক অবক্ষয় হয়েছে। মানুষ প্রচ-ভাবে অধৈর্য হয়ে উঠছে। বিচার-বিবেচনা না করেই প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। এসব তারই ফল। তা ছাড়া বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে যখন অপরাধীরা ছাড়া পেয়ে যায়। তখন আইনের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাবোধ নষ্ট হতে থাকে। যা নিজের হাতে আইন তুলে নিতে উসকানি দেয়,’ বলেন তিনি। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বেনারকে বলেছিলেন, ‘বিচার ব্যবস্থার ওপরে মানুষের এক ধরনের আস্থা উঠে গেছে। তা ছাড়া বিচার যেসব মানুষের অধিকার এই শিক্ষাটা আমাদের সেভাবে নেই। এটা নিয়ে সচেতনতা কম।’ যদিও পদ্মা সেতু নির্মাণকাজে ‘শিশুদের মাথা লাগবে’ বলে ফেসবুকে গুজব ছড়ানোকে কেন্দ্র করে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত না হতে আহ্বান জানিয়েছিল সরকার। গুজব ছড়ানোর অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল। আর আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আইন অনুযায়ী বিচারকার্য যে এই সরকারের আমলেই যুগান্তকারী, তা দেখিয়ে দিয়েছেন আদালত। গত বৃহস্পতিবার ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। নুসরাতের মা শিরীন আক্তার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি আবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছেন। পরিবারের পাশাপাশি রায়ে সন্তুষ্ট রাফির সহপাঠী, শিক্ষক ও স্বজনরা। শুধু তাই নয় সারা দেশ ও বিশ^বাসীও এতো দ্রুত রায়ে অভিভূত। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন রাফির বাবা একেএম মুসা। রায় শুনে তিনি কেঁদে ফেলেন। বলেন, ‘এ রায়ে আমি সন্তুষ্ট।’ দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলার কার্যক্রম শেষ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, গণমাধ্যমকর্মীসহ দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মুসা।

গত শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ‘সেভ ঢাকা সিটি প্রজেক্ট’র এর যে তথ্য দিয়েছেন তার ফলে অপরাধ ঘটার আগেই নিরোধ করা হবে বলে আমরা জেনেছি। এ যেনো জাগ্রত চোখ সারারাত, সারাদিন। মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে প্রতিদিন ১১০০ দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। বিদেশিদের বলি আমাদের গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও গুরুত্বপূর্ণ। তবে গুজব যাতে না ছড়ায় সেটাও দেখতে হবে। দেশবাসীকে বলব, আপনারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যা দেখবেন, নিজের কাছেই প্রশ্ন করবেন, এটা কী হতে পারে, ঘটতে পারে? গণমাধ্যমও এ বিষয়ে ভূমিকা রাখতে পারে।’

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘টেকসই নগরীর জন্য নিরাপত্তার কথা আসছে। এজন্য আমরা অপরাধ দমনে সেভ ঢাকা সিটি প্রজেক্ট হাতে নিচ্ছি। এতে অপরাধী শনাক্ত হবে। ট্রান্সপোর্ট ম্যানেজমেন্ট ও গাড়ির গতিবিধি নজরদারির মধ্যে থাকবে। ঢাকা শহরের চারপাশে চারটা নদী আছে। এগুলোর পানি পরিচ্ছন্ন করে কীভাবে যাতায়াত নির্বিঘ্ন করা যায়, সেটা প্রকৌশলীদের বের করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘ঢাকা চাই নিরাপদ, ঝুঁকিমুক্ত। কিন্তু সেটা তো হচ্ছে না। এজন্য প্রতিটি গ্রামকে শহর করার কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর অর্থ প্রতিটি গ্রামে ছড়িয়ে দিতে হবে শহরের সুবিধা। তবেই শহরমুখী থাকবে না মানুষ। এজন্য প্রকৌশলীদেরও চিন্তা করতে হবে।’

Ads
Ads