'ফ্রিল্যান্সাররা রেজিস্টার্ড হলে বছরে ১ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স দেশে আসবে'

  • ২৬-Oct-২০১৯ ০৬:০৬ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, ‘দেশে অনেক যুবক ফ্রিল্যান্স বা আউটসোর্সিং করে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন। কিন্তু কোনো রেজিস্ট্রেশন না থাকায় সমাজে তাদের মর্যাদা দেয়া হয় না। বিয়ের বাজার থেকে শুরু করে শিশুকে স্কুলে ভর্তি করতে গিয়ে নানা বিপত্তিতে পড়েন তারা। আমরা ফ্রিল্যান্সারদের রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার জন্য ডাটাবেজের কাজ শেষ করে এনেছি। রেজিস্ট্রেশন হয়ে গেলে তাদের আর বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না। আশা করছি আগামী জানুয়ারি থেকে তাদের রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনতে পারব। আর এটা হয়ে গেলে বছরে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে এ খাত থেকে।’

শনিবার (২৬ অক্টোবর) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) নিজস্ব কার্যালয়ে ‘দ্য রোল অব মিডিয়া ইন প্রোমটিং এসএমই ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন তিনি।

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘একদিন এক যুবক আমাকে এসে বললো, আমি ফ্রিল্যান্সার। অস্ট্রেলিয়ান এক নারীর প্রতিষ্ঠানের ওয়েবপেজ ডেভেলপ করে দেওয়ার বিনিময়ে তিনি আমাকে ৫০০ ইউএস ডলার পেইড করেছেন। কিন্তু ব্যাংক আমাকে টাকা দিচ্ছে না। ব্যাংক জানতে চায়, ওই নারীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক কী, কেনো টাকা পাঠালেন- এসব।’

তিনি বলেন, ‘অন্য একজন একদিন আমাকে বলল, আমি ফ্রিল্যান্স করে অনেক টাকা আয় করি। কিন্তু বিয়ের কথা বলতে গেলে, মেয়ের বাবা জানতে চায় আমি কী করি। বাসায় বসে অনলাইনে কাজ করি বললে মেয়ের বাবা বিষয়টা বুঝতে পারে না। তাই তার মেয়েকে বিয়ে দিতে চায় না। ওই যুবক ফ্রিল্যান্সারদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি চান। অন্য আরেকজন একজন বলল, ফ্রিল্যান্স করে তিনি মাসে কয়েক লাখ টাকা আয় করেন। তারপরও নিয়মিত আয় নেই- এই অজুহাতে একটি ভালো স্কুল তার ছেলেকে ভর্তি নেয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের অনেক অভিযোগ পাওয়ার পর আমি আইসিটি প্রতিমন্ত্রীসহ বাংলাদেশ ও অন্যান্য ব্যাংকের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করলাম। এরপর আমরা ফ্রিল্যান্সারদের একটি ডাটাবেজ করার উদ্যোগ গ্রহণ করি। এ ডাটাবেজের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ কাজ শেষ হলেই প্রত্যেক ফ্রিল্যান্সারকে রেজিস্ট্রশনের আওতায় আনা হবে। রেজিস্টার্ড থাকলে টাকা ওঠাতে গেলে ব্যাংক কোনো প্রশ্ন করবে না। এছাড়া এ সনদ দিয়ে তারা অন্যান্য কাজও সহজেই করতে পারবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ডাটাবেজ শুরুর আগে আমাদের ধারণা ছিল দেশে হয়তো দুয়েক লাখ ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে দেখলাম ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা ছয় লাখেরও বেশি। তারা প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণে রেমিট্যান্স আয় করছেন। আর এর বেশির ভাগ আসে অবৈধভাবে। এদের বৈধতা দিলে বছরে এক বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স দেশে আসবে।’

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘বিশ্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হলেও অর্থনীতির সব সূচকে আমরা পিছনে আছি। ইজ অব ডুয়িং বিজনেস, কমপিটিটিভ সূচক কিংবা ডিজিটাল সূচকসহ যতগুলো সূচক রয়েছে, সবগুলো সূচকেই বাংলাদেশ পেছনে রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ডুয়িং বিজনেসে আমরা অনেক কাজ করেছি। অনেক রিফর্ম করছি কিন্তু কিভাবে বিশ্বব্যাংক স্কোর নির্ধারণ করে এবং কিভাবে র‌্যাংকিং করে এই জিনিসটা আমরা ভালোভাবে জানি না, বুঝি না। ফলে আমরা রিফর্ম করলেও ভালো মার্ক পাই না। ফলে সূচকগুলোতে আমরা পেছনে রয়েছি।’

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘আমরা রাজউকের অনুমোদন নিতে ১৮টি ধাপের পরিবর্তে চারটি ধাপে নিয়ে আসলাম। কিন্তু রিফর্ম করা হয়েছে কিন্তু জনগণ এর সুফল পাচ্ছে না। কারণ রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব রিফর্ম সম্পর্কে অবগত নয়। আবার দেখা গেলো ভুমি মন্ত্রণালয়ের এক বছর আগে রিফর্ম করলেও তাদের ওয়েবসাইটে এই রিফর্ম তোলা হয়নি। ফলে ডুয়িং বিজনেসে আমরা মার্ক পাচ্ছি না।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী শুধু রিফর্ম করলে  হবে না। এই রিফর্মের সুবিধা জরগণ পাচ্ছে কি না তাও তারা সার্ভে করে।আর এই কারণেই আমরা ডু ইন বিজনেসে মার্ক পাচ্ছি না। তবে আগামী বছর বাংলাদেশ সূচকে এগিয়ে যাবে।’

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘গার্মেন্টেস খাতে এক্সেসরিজ রয়েছে এই খাতে সাত বিলিয়ন ডলার রফতানি করা হচ্ছে। এই সবগুলোই এসএমই খাত থেকে করা হচ্ছে। আগে এসব এক্সেসরিজ পণ্য আমদানি করা হতো। নতুন তথ্য হলো এই সাত বিলিয়ন ডলারের মধ্যে বিসিক সরাসরি এক বিলিয়ন ডলার রফতানি করছে। আর এই ক্ষেত্রে আমরা দক্ষিণ অফ্রিকা, তুরস্ক ও ভিয়েতনামে পণ্য রফতানি করা হচ্ছে।’

ইআরএফ, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এবং প্রিজম বাংলাদেশ এ কর্মশালার আয়োজন করে। ইআরএফের প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম দিলালের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন সালমান ফজলুল (এফ) রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প সচিব আবদুল হালিম, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান মোস্তাক হোসাইন,  ইউরোপীয় ইউনিয়নের ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড ন্যাশনাল সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট প্রতিনিধি ম্যানফ্রেড ফারনহোলজ প্রমুখ।

Ads
Ads