এবার কোটা বহালের দাবিতে শাহবাগ অবরোধ

  • ৪-Oct-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং সরকারি সব চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালের দাবিতে আজ সকাল থেকে ফের রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা।

বৃহস্পতিবার (৪ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে অর্ধশতাধিক আন্দোলনকারী শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করে। এর আগে বুধবার (৩ অক্টোবার) রাতেও তারা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছিলেন।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল ইসলাম প্রিন্স জানান, আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগে অবস্থান নিবেন। গতরাত থেকে তারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছেন। তবে জনগণকে কষ্ট দিয়ে রাজপথ দখল করে তারা আন্দোলন করবেন না বলেও জানান।

সকাল থেকেই শাহবাগের চার রাস্তার মোড়ে ব্যারিকেড দিয়ে বসে আছেন আন্দোলনকারীরা। এর ফলে শাহবাগ-কাঁটাবন, ও মৎস্য ভবনগামী রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে সকাল বেলা অফিসমুখো মানুষদের ব্যাপক ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়।

এর আগে বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ৪০-৫০ জন নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল না করা পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত থাকবে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আল মামুন বলেন, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকবে। কিন্তু প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে থাকবে না। এটা হতে পারে না। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতেও আগের মতো ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকতে হবে। নইলে আমাদের অবস্থান কর্মসূচি চলবে।

এদিকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ছয়টি দাবিতে তারা সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে-কোটা পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদন বাতিল, বিসিএসসহ সব চাকরির পরীক্ষায় প্রিলিমিনারি থেকে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাস্তবায়ন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, স্বাধীনতাবিরোধীদের বংশধরদেরও সরকারি চাকরি থেকে বহিষ্কার, বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কটূক্তিকারীদের বিচার, ঢাবি উপাচার্যের বাসভবনে হামলাকারীদের শাস্তি।

সরকারি চাকরিতে নিয়োগে এতদিন ৫৬ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত ছিল। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, জেলা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫ শতাংশ, প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ।

এই কোটা সংস্কার করে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবিতে  জোরালো আন্দোলন করে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম।

Ads
Ads