ইয়াং জেনারেশন নিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয়ের শক্ত অবস্থান

  • ২৩-Oct-২০১৯ ১০:১৮ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে তারা বেড়ে উঠবে নিখাঁদ হয়ে। বঙ্গবন্ধুর নাতি, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ও অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আপনার সন্তানকে নিজ পায়ে দাঁড়াতে দিন। তাদের ভুল করতে দিন। কেননা ভুল থেকে আমরা যে শিক্ষা পাই, তা কখনো ভুলি না।’ গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীতে আয়োজিত ‘ইয়াং বাংলা উইথ সজীব ওয়াজেদ’ আলোচনা অনুষ্ঠানে কথাগুলো বলেন তিনি। 

এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, এগিয়ে যাচ্ছে জাতি। জাতির পিতার সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন পূরণ হতে খুব বেশি দেরি নেই। বঙ্গবন্ধুকন্যা তার সুতীক্ষè মেধা আর মনন দিয়ে যথাযথ নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে সেপথেই হেঁটে চলেছেন। দেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার হার বেড়েছে। তথ্য ও প্রযুক্তিতে এগিয়েছে। কিন্তু এখনো বেশ বড় অংকের জনসাধারণ বিশেষ কিছু জ্ঞান থেকে পিছিয়ে রয়েছে। পিছিয়ে রয়েছে শুধুমাত্র ‘ভুল থেকে শিক্ষা’ না নিতে দেওয়ার কারণে। পাসপোর্ট অফিস, রেজিস্ট্রি অফিসসহ বিভিন্ন কার্যালয়ের সামনে তাই এখনো সহযোগিতা করার নামে দালালবৃত্তি টিকে আছে। বর্তমান তরুণদের অভিভাবকদের উদ্দেশে সজীব ওয়াজেদ বলেন, ‘২৫ বছর বয়সে কেউ বাচ্চা বা শিশু থাকে না। অথচ আমাদের দেশে ২৫ বছর বয়সী একজন নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টও খুলতে পারে না। তাহলে ভবিষ্যতে তারা নিজ পায়ে কবে দাঁড়াবে! তাদের চাকরির কথা না বলে নিজ উদ্যোগে কাজ করতে বলুন। তাদের ভুল করতে দিন। কেননা নিজের ভুল থেকে যে শিক্ষা হয়, তা আমরা সহজে ভুলি না।’

বাংলাদেশের তরুণদের গ্রহণ করা বেশ কিছু উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে সজীব ওয়াজেদ বলেন, ‘আপনি সরকারের দিকে তাকিয়ে না থেকে নিজে যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তা থেকে আরও অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। আপনার আয় থেকে আয়কর লাভ করে রাষ্ট্র। আপনার প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের আয় থেকে রাষ্ট্র আয় পাবে। রাষ্ট্র সেই আয় দেশের জনসাধারণের জন্য কাজে লাগাতে পারবে। তাই নিজ উদ্যোগে কাজ করুন। আপনারা নিজেরা কোম্পানি খুলুন।’ অনুষ্ঠানে অভিভাবকদের উদ্দেশে সজীব ওয়াজেদ বলেন, ‘শুধু বিসিএসের চিন্তা করা স্বার্থপরের মতো এক চিন্তা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অফিস। নিজের পরিবার নিয়ে ভালো থাকা। তারপর পেনশন।’ এ সময় জয় আরও বলেন, ‘এখনকার তরুণরা দেশের দিকে হাত পেতে থাকে না। আজকের তরুণদের দেখে আমি গর্বিত। তারা সরকারের কাছে হাত পেতে নেই। আমরাই পারি, আমাদের তরুণরাই পারে। তারা নিজ উদ্যোগে দেশকে এবং দেশের মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।’ 

শুধু বক্তব্য নির্ভরতাই ছিলেন না সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বাংলাদেশে অবস্থান করে নানা স্থান পরিদর্শন করেছেন। মতবিনিময় করেছেন। তথ্য-প্রযুক্তি খাতে উন্নয়নের লক্ষ্যে এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ও রোবটিকসে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘এগুলোর ওপর স্পেশালি গুরুত্ব দিয়েছি এবার। এ বিষয়গুলোতে প্রশিক্ষণ ও রিসার্চ ফ্যাসিলিটি করে দিলে এক্সপার্টিজের দিক থেকে আমরা অন্য দেশ থেকে এগিয়ে যাব। এসব বিষয় নতুন, খুব বেশি বিশেষজ্ঞ নেই। নিজেদের উদ্যোগে রিসার্চ করলে এসব সেক্টরে আমাদের সম্ভাবনা আছে।’ প্রযুক্তির দিক থেকে স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যের কথা জানিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘এআই, রোবটিকস, মাইক্রোপ্রসেসর ডিজাইনে ফোকাস করছি, দীর্ঘমেয়াদে তা সহযোগিতা করবে।’ তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে আরও বেশি বরাদ্দ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। তিনি ডিজিটাল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা শীর্ষক নতুন একটি প্রকল্পের আওতায় দেশের সব স্কুল-কলেজে ওয়াইফাই জোন করা হচ্ছে বলেও জানান। জয় বলেছেন, ‘তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ে তরুণদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুধু ঢাকা কেন্দ্রিক নয়, এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সারাদেশে নিয়ে যাওয়া হবে।

দেশজুড়ে তরুণদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘সবগুলো বিষয়ই নতুন। আমাদের বেশি বিশেষজ্ঞ নেই। নিজেদের উদ্যোগে রিসার্চ করলে এসব সেক্টরে আমাদের সম্ভাবনা আছে। আমরা যেসব সিস্টেম ব্যবহার করি, সেগুলো বিদেশি। লং-টার্ম সহযোগিতার মাধ্যমে বিদেশিদের ওপর যাতে নির্ভরশীল হয়ে থাকতে না হয়, সে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, এস্টাবলিশিং ডিজিটাল কানেকটিভিটি প্রকল্পের আওতায় দেশের সব স্কুল-কলেজে ওয়াইফাই জোন করে সবার জন্য কানেক্টিভিটি উন্মুক্ত করতে চাই।

Ads
Ads