টাঙ্গাইলে বাদীপক্ষের ভুলে এক মাস জেল শেষে জামিনে ছাড়া পেলেন কলেজছাত্র নয়ন

  • ২৩-Oct-২০১৯ ০৮:৪৭ অপরাহ্ন
Ads

:: আব্দুস সাত্তার, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ::

বাদীপক্ষের ভুলে টাঙ্গাইলের সখীপুরে বাবুল হোসেন নয়ন নামে এক কলেজছাত্র ২৮ দিন কারাভোগের পর জামিন পেয়েছেন।বুধবার দুপুরে টাঙ্গাইলের সখীপুর আমলি আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আকরামুল ইসলাম এ জামিন মঞ্জুর করেন। নয়ন সখীপুর উপজেলার প্রতিমা বংকী গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে।

সরকারি মুজিব কলেজ থেকে ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা ছিল তার। গত ২৫ সেপ্টেম্বর স্কুলছাত্রী অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।আদালত পরিদর্শক তানভীর আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বাবুল হোসেন নয়নের পক্ষের আইনজীবী সেলিম আলদীন জানান, এ মামলার আসামি যেহেতু বাবুল হোসেন নয়ন না, এজন্য আদালতে জামিন আবেদন করলে বিচারক ওই কলেজছাত্রের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। 

বাবুল হোসেন নয়নের বাবা শাহজাহান আলী জানান, দীর্ঘ ২৮ দিন পর আমার নির্দোষ ছেলেটির জামিন হয়েছে। খুব দ্রুত এ মামলা থেকে তাকে অব্যাহতির দাবি জানান তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সখীপুর থেকে বাসাইল উপজেলায় বেড়াতে এসে গত ২১ সেপ্টেম্বর এক স্কুলছাত্রী নিখোঁজ হন। এর চার দিন পর টাঙ্গাইল ডিসি লেকের পাশ থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে তার পরিবার। শুরুতে মেয়েটি নয়ন নামে এক ছেলের সঙ্গে কক্সবাজার বেড়াতে গিয়েছিল বলে জানায়। পরে ২৬ সেপ্টেম্বর মেয়েটির মা বাদী হয়ে প্রতিবেশী বাবুল হোসেন নয়নকে আসামি করে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। পুলিশ বাবুল হোসেন নয়নকে গ্রেপ্তার করলে নিজের প্রেমিক নয়নকে বাঁচাতে তাকে ধর্ষক হিসেবে চিহ্নিত করে মেয়েটি। ওই সময় বাবুল হোসেন নয়নকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করে আদালতে হাজির করা হলে তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন বিচারক।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সখীপুর থানার এসআই আসাদুজ্জামান জানান,জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের সময়ও বাবুল হোসেন নয়ন নিজেকে বারবার নির্দোষ দাবি করেন। মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় অধিকতর গুরুত্বসহ তদন্ত শুরু করি। মেয়েটির কাছ থেকে পাওয়া কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলের বিজনেস কার্ডের সূত্র ধরে তদন্ত করা হয়। আর এক পর্যায়ে জানা যায়, বাবুল হোসেন নয়ন নয়, বরং নয়ন মিয়া ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত।

তিনি আরও জানান,ওই বিজনেস কার্ডের মোবাইল নম্বর ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে মামলার প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হয়। পরে প্রযুক্তি ব্যবহার করে গত ৭ অক্টোবর প্রকৃত আসামি নয়ন মিয়াকে বাসাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার নয়ন মিয়া ওই ছাত্রীকে কক্সবাজারের একটি হোটেলে রেখে ধর্ষণ করেছে বলেও আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।এ মামলার মূল অভিযুক্ত নয়ন মিয়া বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের বাঘিল গ্রামের ফারুক ওরফে নূহু মিয়ার ছেলে।

Ads
Ads