বুলিংয়ের শিকার শিক্ষার্থী, স্কুল কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ

  • ২২-Oct-২০১৯ ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

রাজধানীর বারিধারায় ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা-আইএসডি'র এক শিক্ষার্থী সহপাঠীদের উত্তক্তের শিকার হয়ে স্কুলভীতির সঙ্গে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। অভিভাবকরা এর প্রতিকার চাইতে গেলে উল্টো স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বুলিংয়ের শিকার হওয়া মেয়েটিকে। এ নিয়ে স্কুলের প্রিন্সিপালকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

সন্তানের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির জন্য আইএসডি কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে ৮৫ কোটি টাকা (১০ মিলিয়ন ইউএস ডলার) ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে এই নোটিশে।

স্কুলের প্রিন্সিপাল ডিরেক্টর টি. জে. কোবার্নকে এই নোটিশটি পাঠিয়েছেন ব্যরিস্টার হাসান আজিম।

নোটিশে বলা হয়েছে, স্কুলের হেড অব সেকেন্ডারি ইলডিকো মুরে ওই বুলিংয়ের শিকার শিশুটির সাহায্যে এগিয়ে না এসে বরং অপমানজনক আচরণ করেছেন। যার ফলে তার পক্ষে স্কুলটিতে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ঘটনার শুরু ২০১৭ সাল থেকে। রাজধানীর বারিধারায় ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা'র সপ্তম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী সহপাঠীদের বুলিংয়ের শিকার হয়। এরপর, ধীরে ধীরে সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। স্কুল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি কয়েকবার জানানোর পরও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

ওই শিক্ষার্থীর স্কুলভীতি এবং মানসিক অবস্থার আরও অবনতি হলে আবারো তার অভিভাবক স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানায় বিষয়টি। প্রতিকার না করে, উল্টো নির্যাতনের শিকার হওয়া মেয়েকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

তবে, এনিয়ে কথা বলতে রাজি নন স্কুল কর্তৃপক্ষ।

নির্যাতনের শিকার হওয়া ওই শিক্ষার্থীর মা সালমা আদিল বলেন, ‘আমি বিষয়টি বারবার স্কুল কর্তৃপক্ষের নজরে আনার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা সেটিকে কোনো গুরুত্ব দেয়নি। বরং তাদের আচরণে মনে হয়েছে তারা এ ধরনের অপরাধকে প্রশ্রয় দিয়েছে। বিচার চেয়ে এবং সন্তানের শারীরিক ও মানসিক বিপর্যয়ের ক্ষতিপূরণ চেয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।‘ স্কুল কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে মামলা করার কথাও জানান সালমা আদিল।

সন্তানের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে ৮৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন মেয়েটির অভিভাবক।

সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার হাসান এম. এস. আজীম জানান, বুলিংয়ের কারণে শিশুদের মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। তাই আমাদের দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বুলিং বিরোধী নীতি থাকা উচিত। না হলে ভবিষ্যতে র‌্যাগিংয়ের মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটবে। এছাড়া, যে সব শিক্ষার্থী বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন সেই শিশুদের কাউন্সিলিংয়ের আওতায় আনতে হবে।

ইউনিসেফের এক গবেষণায় দেখা যায় শুধুমাত্র বাংলাদেশে ৩৫ শতাংশ শিশু বুলিংয়ের শিকার হয় এবং অধিকাংশই মানসিকভাবে বিপর্যস্থ হয়ে পড়ে। এমন শিকার যেনো আর কোনো সন্তানকে না হতে হয়, এজন্য আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন শিক্ষার্থীর মা।

 

/কে 

Ads
Ads