অব্যাহতির পরও যে ‘বিস্ফোরক’ মন্তব্য করলেন ওমর ফারুক চৌধুরী!

  • ২১-Oct-২০১৯ ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক :: 

রাজধানী ঢাকায় যুবলীগের নেতারা ৬০টি ক্যাসিনো চালান, এমন তথ্য জানিয়ে প্রশ্ন করা হলে যুবলীগ চেয়াম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী বলেছিলেন, ‘ওই ৬০ যায়গার পুলিশ ও র‌্যাব কি আঙুল চুষছিলো এতদিন? আপনারা এত দিন কী করেছেন?’ ক্যাসিনোকাণ্ডে যুবলীগ নেতাদের গ্রেফতারের আগে সংশ্লিষ্ট ৬০ থানার ওসিকে গ্রেফতার করতে হবে বলেও হুঙ্কার দেন যুবলীগ চেয়ারম্যান।

এর পর থেকেই আলোচনায় তিনি। অবশ্য পরে তিনি নমনীয় হন, কিন্তু বিতর্ক থেমে যায়নি। একে একে যুবলীগ নেতাদের গ্রেফতার ও মামলার পাশাপাশি খোদ ওমর ফারুক চৌধুরীর ব্যাংক হিসাব স্থগিত করা হয়। তার বিদেশ যাওয়ায়ও আসে নিষেধাজ্ঞা। এর পর থেকে একেবারেই চুপসে যান তিনি। আউট অব সিন হয়ে যান। বাসা থেকে বের হন না বলে খবর পাওয়া যায়। সচরাচর মিডিয়ার ডাকেও সাড়া দেন না।

এদিকে ক্যাসিনো কেলেঙ্কারী ও দুর্নীতির নানা অভিযোগে সদ্য বহিস্কৃত যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী বলেছেন, ১০ বছর আমার চেহারা ভালো ছিলো কিন্তু এখন খারাপ হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে আর সংবাদ মাধ্যমে আমার বিচার চলছে। স্বাধীন সংবাদ মাধ্যমে যা ছাপা হচ্ছে মানুষ এখন সেটাই বিশ্বাস করবে। আমি যাই বলি না কেনা তা মিথ্যা হিসেবে বিবেচিত হবে।

তিনি বলেন, তাছাড়া আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে যা বলা হচ্ছে তা সঠিক নয়।

রোববার (২০ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুবলীগের বৈঠক চলাকালে ওমর ফারুক টেলিফোনে এসব কথা বলেন।

বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাকে কয়েকজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বৈঠক থেকে ফোন করেছিলেন। তারা বলেছেন, আমার বিষয়টি নিয়ে নাকি আলোচনাই হয়নি।

ওমর ফারুক বলেন, আমি জেনেছি,বৈঠকে কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেখানে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য চয়ন ইসলামকে আহ্বায়ক ও সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। এখানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বা অন্য কিছু নেই। আপনার অনুপস্থিতিতে যুবলীগের বৈঠক চলছে বিষয়টি কিভাবে দেখছেন প্রশ্নে ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন,এর আগে আমি প্রেসিডিয়াম বৈঠক ডাকার কথা বলেছি। সেটা ডাকা হয়েছে। আমি উপস্থিত ছিলাম না কারণ আমার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ উঠেছে। আমার ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। তাই আমি তাদেরকে বলেছি, তোমরা বৈঠক করো। আমি থাকলে আমার বিষয়টি হয়তো আলোচনা হবে না। তাদেরকে আরও বলেছি, বৈঠকে যে আলোচনা হবে তা রেজ্যুলেশন আকারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠাবে। এরপর প্রধানমন্ত্রী যুবলীগের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

এ বৈঠকেও আমি নাই একই কারণে। ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, আমার বিষয়টি এখন বিচারিক প্রক্রিয়ায় গেছে। আমার ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। এরপর হয়তো এনবিআর বিষয়টি দেখবে। যদিও দুদকের ৫০ জনের তালিকায় আমি ছিলাম না। তার মানে কি আমার বিষয়টি দুদকের সঙ্গে ছিলো না। এখন হয়েছে। তাই বলছি, ১০ বছর আমার চেহারা ভালো ছিলো,এখন খারাপ হয়েছে। আমার বিবেক এখন দংশিত হচ্ছে। দুদক বা এনবিআর যদি আমাকে ডাকে তাহলে আমি সেসব ফেইস করার জন্য প্রস্তুত আছি। আপনাকে যে কোন সময় গ্রেপ্তার করা হতে পারে এমন গুঞ্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার বিষয়টি তো বিচার প্রক্রিয়ায় গেছে। এখানে গ্রেপ্তারের বিষয়টি আসছে কেন। আবার গ্রেপ্তার করতে চাইলে করতেও পারে।

প্রসঙ্গত, যুবলীগের চেয়ারম্যানের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে ওমর ফারুক চৌধুরীকে।রোববার রাতে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যুবলীগ নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।আগামী ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য চয়ন ইসলামকে কংগ্রেস কমিটির আহ্বায়ক ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদকে কংগ্রেস কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি আগামী সম্মেলন পর্যন্ত যুবলীগের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

Ads
Ads