ভোট দিতে পারুক না পারুক সেটা বিষয় নয়: সিইসি

  • ২০-Oct-২০১৯ ০৮:২৬ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

ভোটার তালিকায় যুক্তের চেয়েও জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার গুরুত্ব বেশি মন্তব্য করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, কেননা জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া এখন কোনো কিছু করা যায় না। নাগরিকরা ভোট দিতে পারুক না পারুক সেটা বিষয় নয়, বিষয়টা হলো তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে হবে।

রোববার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) এক কর্মশালায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি জানান, ভোটার তালিকায় যুক্ত হওয়ার চেয়েও নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনাআইডি) পাওয়ার গুরুত্ব বেশি। কেননা এটা না হলে কোনো সেবাই পাওয়া যায় না। প্রবাসীদের তো আরও বেশি প্রয়োজন।

ভোটার তালিকা হালনাগাদে অনেক সময় দেখা যায় ছেলের বয়সের চেয়েও বাবা ছোট হয়ে যায় বিষয় নূরুল হুদা বলেন, জন্মনিবন্ধন কার্যকর নয় এটা দুঃখজনক। এই জন্য ৪২ বছর বয়সের লোক ২৪ বছর বয়স এবং ২৪ বছর বয়সের লোক ৪২ বছরের হতে চায়। অনেকে আবার বিএ পাস করার পর বলে পাসই করে নাই। নানা কারণে এটা করে থাকেন।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রে সঠিক বয়স লিপিবদ্ধ করা এবং মৃত ভোটার তালিকা থেকে কর্তন করা একটা সমস্যা। এই সমস্যা থেকে উত্তোরণের জন্য শিশুর জন্মের পর এবং কেউ মারা গেলে সে তথ্য থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে মৌখিক বিবৃতি আকারে জানানোর বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে।

সিইসি বলেন, মৃত ভোটার একটা সমস্যা। ব্রিটিশ আমলে একটা নিয়ম ছিল, কেউ মারা গেলে থানায় ভারবাল স্টেটমেন্ট দিতে হতো। কোনো বাড়িতে কোনো বাচ্চা জন্ম নিলে বা মারা গেলে থানায় মৌখিক তথ্য দিতে হতো। মৃত ভোটার বাদ দেয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জীবিত ভোটারও অনেক সময় মৃত হয়ে যায়। এটা কিভাবে হয়? এটা হলে নির্ভুল ভোটার তালিকায় নির্বাচন করা অসম্ভব।

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে সিইসি বলেন, প্রাইমারি পরীক্ষার সনদ দিলেও বয়স ঠিক করা সম্ভব। একেবারে সঠিক বয়স দিয়ে, পিতা-মাতার নাম দিয়ে, ঠিকানা দিয়ে ভোটার তালিকা করার এখনও সময় বোধহয় আসেনি। আপনারা তবু চেষ্টা করছেন। বয়স ঠিক মতো নেওয়া একটি জটিল সমস্যা। এই সমস্যা আপনাদের মোকাবিলা করার পথ বের করতে হবে। সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

কর্মকর্তাদের প্রতি সতর্কতা উচ্চারণ করে কেএম নূরুল হুদা বলেছেন, রোহিঙ্গারা যাতে ভোটার হতে না পারে সেদিকে কর্মকর্তাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। দুয়েক জনের কর্মকাণ্ডের জন্য অনেক সময় কমিশনকে সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়। বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে। সবাইকে সচেতন হয়ে কাজ করতে হবে।

ইসি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এক সময় উপজেলা নির্বাচন অফিস ছিল না। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের সম্বল ছিল একটি ব্যাগ। আর যাতায়াতের বাহন ছিল রিকশা। এখন সে অবস্থা নেই। আপনাদেরকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে। ক্ষমতাও দেয়া হয়েছে। ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে। আমরা যদি নিজেরা শক্তিশালী না হই তাহলে কী হবে? আগামীতে সব ধরনের নির্বাচনের দায়িত্ব নেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি নিতে বলেন তিনি।

 

/কে 

Ads
Ads