‘অপরাধী অপরাধীই’

  • ৯-Oct-২০১৯ ১০:২৫ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

বাংলাদেশে আইনের অনুশাসন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার এই অনুশাসন গড়ে দিয়েছেন। এ দেশে এখন কোনো অন্যায়কারীই যে ছাড় পায় না, তা আওয়ামী লীগ সরকার আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। নিজেদের সহযোগী সংগঠনের মধ্য থেকেই খুঁজে খুঁজে বের করা হয়েছে অপরাধীদেরকে। খুব লুকিয়ে যে ‘ক্যাসিনো’ ব্যবসা দেশে চলছিল, তার মূলোৎপাটন করা হয়েছে। ঘুষ, দুর্নীতি একের পর এক দমন করা হয়েছে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হয়নি। যে দলেরই হোক না কেন, অপরাধী তার সাজা ভোগ করেছেন। এমনকি এখনো সাজা প্রক্রিয়াধীন রয়েছেন। গতকাল বুধবার বঙ্গবন্ধুকন্যা স্রেফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘কোনো দলটল আমি বুঝি না। পরিষ্কার কথা কোনো দল আমি বুঝি না।’ কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে কেউ যদি কোনো অপরাধ করে সে কোন দল, কি করে না করে আমি কিন্তু সেটা দেখি না। আমার কাছে অপরাধী, অপরাধীই। আমি অপরাধী হিসেবেই দেখি।’

গত রোববার রাতে বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে বুয়েট ছাত্রলীগের কিছু বিপদগামী নেতা। প্রথমে ‘মাদক’ ও পরে শিবিরের তকমা লাগিয়ে এই হত্যাকা-কে ধামাচাপাও দিতে চায় তারা। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া এই সংগঠনে কালিমা লাগতে দেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। সঙ্গে সঙ্গে সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের এক যৌথ বিবৃতিতে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি ঘোষণা করেন। যেখানে ইয়াজ আল রিয়াদ ও আসিফ তালুকদারকে দায়িত্ব দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় দফতর সেলে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সোমবারই গ্রেফতার হন মামলায় উল্লেখ ১০ আসামি। মঙ্গলবার তাদেরকে আদালতের আদেশে ৫ দিনের রিমা-ে নেয় পুলিশ। একই দিন আরও ৩ আসামিকে গ্রেফতার করে তারা। এরা সবাই ছাত্রলীগেরই বলে জানা যায়। তবে ছাড় পাননি কেউই। ছাত্রলীগের তদন্ত প্রতিবেদনের আগেই ১১ জনকে বহিষ্কার করে ছাত্রলীগ। আর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দিয়ে দেয় প্রতিবেদন। যেখানে হত্যাকারীদের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, তারা মদ্যপ ছিল। বিরোধী সংগঠনের অনেক নেতা ছাত্রলীগ জড়িত থাকার বিষয় টেনে গোটা ছাত্রলীগকেই দোষী করে তুলে একটি ফায়দা লোটার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত মঙ্গলবার বলেন, ‘গুটি কয়েক অপরাধের দায় পুরো সংগঠনের নয়।’ এটা যেমন যুক্তিযুক্ত, তেমনই গ্রহণযোগ্যও। কারণ, একই পরিবারের একজন দোষ করলে তার দায় পুরো পরিবারের নয়। যদিও পরিবারের সবার গায়ে অনেকাংশেই এসে লাগে।

তবে পরিবারের মধ্যে কোনো রকম ছাড় না দিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা ১৪ সেপ্টেম্বর যুবলীগের কয়েক নেতার ওপর তাদের অনৈতিক কর্মকা-ে ক্ষিপ্ত হন এবং শুদ্ধি অভিযানের নির্দেশ দেন। এরপরই ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে সংগঠন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করা হয়। টাকার লোভ দেখিয়েও পাড় পাননি জি কে শামীম। অপরাধ ঢাকতে পারেননি ক্যাসিনো ‘সম্রাট’। এর আগে পরে আরও অনেক ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী বুঝিয়ে দিয়েছেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশে কোনো অপরাধীর ঠাঁই হবে না। তিনি একাধিকবার বলেছেন, ‘অপরাধী অপরাধীই।’
আবরারের হত্যার বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটা নিরীহ ছেলেকে ধরে নিয়ে এভাবে মারা, এই নৃশংসতা কেন? এই জগন্য কাজ কেন। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি- যত রকমের উচ্চ শাস্তি যা দেওয়ার আছে সব দেওয়া হবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই।’

সারা দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আবাসিক হলগুলোতে তল্লাশির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ও সেখানকার ‘টর্চার সেলে’ সাধারণ শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের বিষয়টি সামনে আসার পর বুধবার (৯ অক্টোবর) গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে বলবো- যখন এ ঘটনা একটা জায়গায় ঘটেছে, দেখা গেছে ওখানে এক রুম নিয়ে বসে জমিদারি চালানো, প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠান, প্রতিটি হল সব জায়গায় সার্চ করার দরকার। কোথায় কী আছে না আছে খুঁজে বের করতে হবে। এ ধরনের কারা মাস্তানি করে বেড়ায়, কারা এ ধরনের ঘটনা ঘটায় সেটা দেখতে হবে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রত্যেকটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রতিটি হল, শুধু ঢাকা না, সারা বাংলাদেশে প্রত্যেকটা জায়গায় সার্চ করা হবে এবং দেখা হবে সেই নির্দেশটা আমি দিয়ে দেবো। এখানে আপনাদের মাঝে বলে দিচ্ছি সেটা আমরা করবো।’ 

Ads
Ads